ঈদ শেষে ঝুঁকি নিয়ে কর্মস্থলে ফেরা শুরু

আপডেট: সেপ্টেম্বর ৬, ২০১৭, ১:১২ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


ঈদ শেষে গন্তব্যে ফিরতে শুরু করেছেন নগরবাসী। গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকেই নগরীর শিরোইল ঢাকা বাস টার্মিনাল ও রেল স্টেশনে ঈদফেরা মানুষের ভিড় দেখা যায়। ঈদের ছুটি শেষ হয়েছে রোববার। ফলে সোমবার থেকে আবারও অফিস-আদালতের সব কার্যক্রম শুরু হয়। এ কারণে কর্মস্থলে যোগ দিতে ঢাকাসহ গন্তব্যে যেতে মানুষ আবারও রাজধানীতে ফিরতে শুরু করেছেন। তবে সোমবার থেকে অনেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। এদের কেউ কেউ ভোর রাত, আবার কেউ কেউ ভোরে কিংবা সকালে এসে ঢাকায় পৌঁছেছেন।
গতকাল সকালে রেলস্টেশনে নগরীতে ঈদ করতে ঢাকা থেকে আসা শামস উর রহমান, তাজিমুল ইসলাম ও রকিব নামের চাকরিজীবী বলেন, ঈদের ছুটি শেষ। এবার গন্তব্যে যাবার পালা। এই ঈদে তিন ছুটি থাকলেও আরো দুই দিন অতিরিক্ত ছুটি নিয়েছিলাম। তাই একটু দেরি করে ফেরা। বুধবার সকালে অফিসে যোগ দেয়ার তাগিদে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।
এদিকে রাজশাহী হানিফ কাউন্টোরের ম্যানেজার খোকন বলেন, আগামী ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজশাহী থেকে ঢাকাগামী বাসের আগাম টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। এছাড়া শ্যামলী, গ্রামীণ ও দেশ ট্রাভেলসেরও কোন টিকিট নেই। তবে যাতায়াতে যাত্রীদের কোন ক্রটি না হয় সেদিকে লক্ষ্য রেখে সেবাদানের কাজ করছি।
এভাবে অনেকে রওনা দেয়ার জন্য নগরীর বাস, স্টেশন ও লোকাল বাসগুলোতে ভিড় লক্ষ্য করা যায়। ঢাকা ফেরা যাত্রীরা অধিকাংশই আজ অফিস করবেন বলে সকাল থেকে শুরু করে রাতেও রওনা দেন। বাড়ি ফেরা অনেকেই ঈদের ছুটির পাশাপাশি অতিরিক্ত দুই/এক দিন ছুটি নিয়ে এসেছিলেন। ফলে নগরী থেকে যাওয়ায় ঢাকা আবারও জমজমাট হতে শুরু করেছে। তাই যারা অতিরিক্ত ছুটি নিয়েছিলেন তারা বুধবার দিনে অফিস করতে পারেন।
জানা যায়, এবার ঈদ সপ্তাহের শুরুতেই হওয়ায় অনেকে ফিরবেন সপ্তাহ শেষ করে। বেসরকারি চাকরিজীবীরা আগামী শনিবারের মধ্যে নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে ফিরবেন। সোমবার থেকে সরকারি-বেসরকারি অফিস শুরু হওয়ায় গত রোববার থেকেই টার্মিনাল-স্টেশনে ঢাকামুখি মানুষের ভিড় দেখা যায়। সেখানে যাদের দেখা গেছে, তাদের প্রায় সবাই চাকরিজীবী। তবে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়সহ অনেক প্রতিষ্ঠান এখনো বন্ধ। তাই ফিরতি পথের কোনো শিক্ষার্থী গতকালও চোখে পড়েনি। দুই তিন দিনের মধ্যে তারা ফেরার পথ ধরবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঈদ আনন্দ শেষে গতকাল সকালে সপরিবারে রাজশাহী বাস টার্মিনাল হয়ে ঢাকায় ফিরছিলেন রহমত আলী। তিনি বলেন, দুইদিন আগে থেকেই অফিস খুলেছে। তবে প্রিয়জনদের সাথে একটু বেশি সময় থাকতেই তিনি বাড়তি ছুটি নিয়েছিলেন। এখন তাদের রেখে আবার চলে যাচ্ছেন ঢাকায়।
এদিকে গতকাল যারা ট্রেনে করে ঢাকা ফিরছিলেন, তারা আগে থেকেই টিকিট সংগ্রহ করে রেখেছিলেন। তবে ফেরার সময় টিকিট কেনার আশায় অনেকে অগ্রিম টিকিট না কিনে ট্রেনে চড়ে ঢাকায় ফিরতে পারেন নি। বাসেও একই অবস্থা। বিলাসবহুল বাসগুলোর টিকিট আগেই বিক্রি হয়ে গিয়েছিল।
তাই কেউ নতুন করে আর টিকিট পাননি। ফলে অনেক যাত্রীকে লোকাল বাসে চড়ে ঢাকায় ফিরতে দেখা গেছে। ঝুঁকি নিয়ে এসব বাসের ছাদে চড়তেও দেখা গেছে যাত্রীদের। এদের অনেকে বলেন, ফেরার সময় টিকিট কিনবেন ভেবেই আগে কেনেন নি। এখন টিকিট পাচ্ছেন না। তাই বাধ্য হয়েই লোকাল বাসের ছাদে চড়ছেন তিনি। শুধু তিনি না অনেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে লোকাল বাস কিংবা বাসের ছাদে রওনা দেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ