ঈদ সামনে চারঘাটে সক্রিয় মাদক চোরাকারবারী

আপডেট: জুন ১৮, ২০১৭, ১:০৫ পূর্বাহ্ণ

চারঘাট প্রতিনিধি


ঈদ সামনে রেখে রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায় বিভিন্ন এলাকায় মাদকের স্বর্গরাজ্য গড়ে উঠেছে। আর এখানে বিভিন্ন প্রকারের মাদক পরিবহনের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে নারীদের। নারীরা বোরখা পরে অটোরিক্সায় চড়ে খুব সহজেই প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে ইয়াবা সরবরাহের কাজ করছেন। মাঝে মধ্যে পুলিশ দুই-এক জনকে গ্রেফতার করতে পারলেও মূল হোতারা ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে।
থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চারঘাটে প্রায় দুই শতাধিক নারী ইয়াবা সিন্ডিকেট চক্রের সঙ্গে কাজ করছেন। এই নারী সিন্ডিকেট চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে চারঘাট এলাকায় পরিকল্পনা মাফিক ইয়াবা, গাঁজা হেরোইন ও ফেন্সিডিলসহ বিভিন্ন সিন্ডিকেটের হয়ে কাজ করেছে। তবে চারঘাট উপজেলার বেশ কয়েকটি এলাকায় এ চক্রের মধ্যে অন্যতম হলো চারঘাট সদর, মোক্তারপুর আন্ধারীপাড়া, হলিদাগাছি, তাতাঁরপুর, ভায়ালক্ষীপুর, পিরোজপুর, রাওথা ও মীরগঞ্জ এলাকা। এসব চক্র আবার মাদকগুলো বিভিন্ন রুট হয়ে রাজশাহী নগরীতে দড়িখরবনা, তালাইমারি, লক্ষীপুর, রেলস্টেশন এলাকায় সরবরাহ করে থাকে। মাদক সরবরাহের জন্য ইয়াবা সিন্ডিকেট চক্রটি বিভিন্ন কলেজ পড়–য়া সুন্দরী নারী-ছাত্রীদের টার্গেট করে এ কাজে ব্যবহার করছে। এ রকম প্রায় দুই শতাধিক নারী সক্রিয়ভাবে বোরখা পরে বিভিন্ন স্থানে মাদক সরবরাহ করে আসছে। মাঝে মধ্যে এদের মধ্যে কেউ কেউ পুলিশের হাতে গ্রেফতার হলেও জামিনে ছাড়া পেয়ে আবার ইয়াবা সিন্ডিকেটের হয়ে কাজ করতে শুরু করে। আর এসব মাদক ব্যবসায়ী মানিক, উকিল, শহিদুল, সামাদ মোল্লা, রাওথার, জয়নাল মুন্সি, শরিফসহ মূল হোতারা ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে।
গত শুক্রবার দিবাগত রাতে চারঘাট মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নিবারন চন্দ্র বর্মনের নেতৃত্র্ েপুলিশের এসআই উৎপল কুমার সরকার ও মনিরুল ইসলাম উপজেলার ভায়ালক্ষীপুর জোতলঘু মোড়ে মাদক সম্্রাট কালাম মোল্লাকে এক হাজার পিচ ইয়াবা ও হাজির ঢালান রাওথা থেকে দুই নারীসহ ৭৫ বোতল ফেন্সিডিলসহ ঝন্টু নামের এবং ইয়াবাসহ কাজলী ও ইমাজান নামের দুই নারীকে আটক করে। পুলিশ তাকে মাদক বিক্রির প্রস্তুতির সময় আটক করে। অপরদিকে শুক্রবার সকালে এলাকার গোবিন্দপুর গ্রাম থেকে তিন কেজি গাঁজাসহ সান্টু ও শরিফকে আটক করা হয়। তাকেও মাদক মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়। এরা পুলিশের কাছে আটক হওয়ার পরে মূল হোতাদের নাম বলে না বা মুখ খোলে না। যার কারণে মূল হোতারা ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। গোদাগাড়ী থেকে হেরোইন, ইয়াবা রাজশাহী উপজেলাসহ বিভিন্ন জেলায় বিক্রি হয়। তেমনি ফেন্সিডিল চারঘাটের প্রায় ৩০টি পয়েন্ট থেকে দেশের চাহিদা মোতাবেক সরবরাহ করা হয়। কিন্ত বর্তমান ইয়াবার দিক মাদক ব্যবসায়ীরা বেশি ঝুকছে। ছোট পণ্য বেশি লাভ আবার প্রশাসনের চোখ ফাকি দিয়ে খুব সহজেই মাদক ব্যবসা করা সম্ভব। তবে প্রশাসনের তৎপরতা থাকলেও সিংহভাগ পাচার হয়ে যায়।
এ বিষয়ে চারঘাট মডেল থানার ওসি নিবারন চন্দ্র বর্মন জানান, এখানে একটি ইয়াবা সিন্ডিকেট চক্র কাজ করছে। পুলিশ তাদের আটকের চেষ্টা করছে। অনেক মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের পুলিশ আটক করে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। আটক হওয়া এসব নারীরা পুলিশের কাছে মুখ খুলতে চাই না। এ কারণে মূল হোতাদের আটক করা সম্ভব হয় না। তারা বড় ধরনের সিন্ডিকেটের হয়ে কাজ করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে মূল হোতাদের আটক করতে অভিযান চলছে। তাদের আটক করে অতি দ্রুত চারঘাটকে মাদকমুক্ত এলাকা ঘোষণা করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন তিনি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ