ঈশ্বরদীতে চরের জমি নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে যুবলীগকর্মী নিহত, আহত ১৫

আপডেট: এপ্রিল ১৯, ২০২৪, ৯:০২ অপরাহ্ণ


ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি:


পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীর চরের জমি নিয়ে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে খায়রুল ইসলাম (৪৫) নামের এক যুবলীগ কর্মী নিহত হয়েছেন। সংঘর্ষে প্রতিপক্ষের একজনের বাম হাতের কব্জি পর্যন্ত কেটে দ্বিখণ্ডিত করার ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্ততঃ ১৫ জন আহত হয়েছেন। ৯ জনকে গুরুতর আহত অবস্থায় পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহত খায়রুল চরগড়গড়ি গ্রামের মো. রসিম প্রামানিকের ছেলে। তিনি স্থানীয় যুবলীগের কর্মী এবং বিগত ইউপি নির্বাচনে ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য পদে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন।

ঈশ্বরদীতে শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের চরগড়গড়ি গ্রামের আলহাজ্ব মোড় এলাকায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সাহাপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি মেম্বার মো. মিলন প্রামানিক ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পদ্মা নদীর চরের জমিজমা নিয়ে খায়রুল ইসলাম ও তার প্রতিপক্ষ রিয়াজুল ব্যাপারির সঙ্গে পূর্ব শত্রুতা ছিল। এ নিয়ে শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) বিকেলে আলহাজ্ব মোড় এলাকায় প্রথমে তাদের দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে ঝগড়া থেকে মারামারি, মারামারি থেকে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর শুনে তাদের উভয় পক্ষের লোকজন আলাদা আলাদা ভাবে জড়ো হয়ে লাঠি সোটা ও দেশীয় অস্ত্রসস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

ঈশ্বরদীতে এসময় রিয়াজুল ব্যাপারি পক্ষের ইসাই ব্যাপারির বাম হাতের কব্জি পর্যন্ত কেটে হাত থেকে আলাদা করে দেয়ার ঘটনা ঘটে। এতে আরো ক্ষিপ্ত হয়ে রিয়াজুল ব্যাপারির পক্ষের লোকজনের সঙ্গে খায়রুল ইসলাম পক্ষের লোকজনের তুমুল সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষের সময় খায়রুল ইসলাম গুরুতর আহত হলে তাকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এদিকে এ ঘটনার পর থেকে সন্ধ্যায় এ রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত চরগড়গড়ি এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি শান্ত করতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঈশ্বরদীতে পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর থেকে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে বলে জানান তিনি। ঈশ্বরদী থানায় উভয় পক্ষের আলাদা আলাদা মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে উভয় গ্রুপের একাধিক সদস্য।