ঈশ্বরদীতে চোর সন্দেহে যুবককে পিটিয়ে হত্যা, মামলা দায়ের

আপডেট: মে ২৪, ২০২২, ৯:০৪ অপরাহ্ণ

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি:


পাবনার ঈশ্বরদীর সাঁড়া ইউনিয়নে চোর সন্দেহে পিটিয়ে যুবক খুনের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। নিহত যুবক রাব্বি হোসেন চঞ্চলের (১৯) বাবা জাহিদুল ইসলাম ঘোরত বাদী হয়ে ঈশ্বরদী থানায় সোমবার (২৪ মে) রাতে হত্যা মামলাটি দায়ের করেন।

মামলায় হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে সাতজনের নাম উল্লে¬খ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১৫-২০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নিহত রাব্বির বাবা জাহিদুল ইসলাম ও ঈশ্বরদী থানার ওসি আসাদুজ্জামান আসাদ।

মামলায় এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন, সাঁড়া ইউনিয়নের ইলশামারী গ্রামের খয়রব মন্ডল (৫৮), সাদেক আলী মন্ডল (৫৫) শওকত আলী মন্ডল (৩৩), সানোয়ার হোসেন (৩৫) মো. কায়েম (৪০), মো. সোহান মন্ডল (২৫) ও রজব আলী মন্ডল (৬০)। এদিকে বেনামি আসামি করার খবরে এলাকার বেশিরভাগ পুরুষ মানুষ ভয়ে বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন বলে জানিয়েছেন এলাকার লোকজন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে চোর সন্দেহে আসামিরা রাব্বি হোসেন চঞ্চলকে গত শনিবার দিবাগত রাতে ইলশামারী গ্রামে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উত্তর কোণে একটি মুদিখানার দোকানের কাছে আটকায়। এ সময় আসামিরা তাকে হাতুড়ি দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে পিটিয়ে জখম করে।

একপর্যায়ে চঞ্চলের দুই পায়ের হাঁটুতে লোহার তারকাটা মেরে আহত করা হয়। পরদিন রোববার সকালে ঈশ্বরদী হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু সেখানে চঞ্চলকে পাওয়া যায়নি। দুপুরে লোক মারফত খবর পেয়ে শহরের রেলগেট বাস টার্মিনালে একটি গাছের নিচে উপুড় হয়ে চঞ্চলকে পড়ে থাকতে দেখে তাঁর বাবা ও মা এসে উদ্ধার করে ঈশ্বরদী হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক চঞ্চলকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘ঘটনার পর থেকে এলাকায় পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে সাঁড়াশি অভিযান চলছে। কিন্তু আসামিরা পলাতক থাকায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।’

উল্লেখ্য, উপজেলার সাঁড়া ইউনিয়নের ইলশামারি গ্রামে গত শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক পৌনে তিনটার দিকে চোর সন্দেহে রাব্বি হোসেন চঞ্চলকে হাতুড়ি ও লাঠিসোঁটা দিয়ে পেটানো হয়। এতে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরদিন সকালে তাঁকে প্রথমে ঈশ্বরদী হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসা দিয়ে তাকে বাড়ির অভিমুখে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

পরে অবস্থার অবনতি হলে দুপুরে তাঁকে ঈশ্বরদী বাস টার্মিনালে ফেলে রাখা হয়। খবর পেয়ে রাব্বির বাবা-মা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এ নিয়ে ঈশ্বরদীতে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ