ঈশ্বরদীতে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা : বাড়ি- দোকানে হামলা ভাংচুর, আহত ১৫

আপডেট: নভেম্বর ২৯, ২০২১, ৩:৩০ অপরাহ্ণ

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি :


পাবনার ঈশ্বরদীতে ইউপি নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা, বিজয় মিছিল থেকে বাড়ি ও দোকানে হামলা চালানোর ঘটনা ঘটেছে। এতে একজন নারী শিক্ষকসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। হামলায় ২টি বাড়ি ও ৪টি দোকানে ভাংচুর করা হয়। মামুন ও সাজু ফকির নামের দুই যুবককে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে বেদম পেটানো হয়। রোববার রাত ৯টা থেকে সোমবার দুপুর পর্যন্ত ধারাবহিকভাবে উপজেলার লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়নের দাদাপুর, বিলকেদার ও চরকুড়–লিয়া গ্রামে এসব ঘটনা ঘটে।

এসব ঘটনার পর থেকে লক্ষীকুন্ডার বিভিন্ন গ্রামে বিজয়ী চেয়ারম্যান ও পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, রোববার রাতে লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়নের নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর নৌকা প্রতিক নিয়ে বিজয়ী চেয়ারম্যান প্রার্থী আনিস-উর-রহমান শরীফ এবং ৪নং ওয়ার্ডের বিজয়ী মেম্বার জিয়াউর রহমান জিয়ার যৌথ আনন্দ মিছিল বের হয়।

মিছিলটি দাদাপুর গ্রামের রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় মৃত আবুল ফকিরের বাড়ির গেট ভেঙে মিছিলকারীরা লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালায়। এ সময় ওই পরিবারের সদস্য বিলকেদার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হাফসা খাতুন (৩২), মেহেদী হাসান কাজী (২৭), জহুরুল ইসলাম (২৭) সহ কয়েকজনকে মারধর করা হয়। আহতদের মধ্যে শিক্ষক হাফসাকে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

একইভাবে গতকাল সোমবার সকাল থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত লক্ষীকুন্ডার বিলকেদার, চরকুড়–লিয়া গ্রামে দফায় দফায় হামলা চালানো হয়। হামলাকারিরা বিলকেদার গ্রামের হামিদ প্রামানিকের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর করে। তারা ওই বাড়ি ঘিরে রেখেছে বলে জানান স্থানীয় এলাকাবাসী। গতকাল হামলা চালিয়ে হামিদ প্রামানিকের বাড়িতে ভাংচুর করার পাশাপাশি চরকুড়–লিয়া মালিথা পাড়ায় ৪টি দোকান ভাংচুর করা হয়। এসম সীমা খাতুন, রাজন আলী, মামুন হোসেন, সাজু ফকির, সেন্টু বিশ্বাস, মন্টু বিশ্বাসসহ কয়েকজনকে পিটিয়ে আহত করে হামলাকারীরা।

সাজু ফকিরকে বাড়ি থেকে তুলে নেওয়ার সময় তার মাকেও লাঞ্ছিত করে হামলাকারিরা।
আহত হাফসা খাতুনের ভাই ফরিদ কাজী জানান, নির্বাচনে নৌকার বিদ্রোহী প্রার্থী আনিসুল হক মোল্লার পক্ষে থাকা এবং ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার কারনে তাদের বাড়িসহ এসব বাড়ি ও দোকানে হামলা চালায় বিজয়ী চেয়ারম্যান আনিস-উর-রহমান শরীফ ও মেম্বার জিয়ার লোকজন। এসব বিষয়ে লক্ষীকুন্ডার বর্তমান ও নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান আনিস-উর-রহমান শরীফ কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। ৪নং ওয়ার্ডের মেম্বার জিয়াউর রহমান জানান,

এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আসাদুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে এবং পরাজিত প্রার্থী আনিসুল হক মোল্লাসহ কয়েকজনের মৌখিক অভিযোগ পেয়ে এলাকায় পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ