ঈশ্বরদীতে ব্যাক্তিস্বার্থে বাঁধ দেয়ায় তলিয়ে গেছে ৩শ’ বিঘা জমির ফসল

আপডেট: জুলাই ১২, ২০২০, ২:৩১ অপরাহ্ণ

সেলিম সরদার, ঈশ্বরদী (পাবনা) :


ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়ায় সামাদ সরদার নামের এক ব্যাক্তি নিজের প্রয়োজনে মানিকৈড় ক্যানেলের মুখে বাঁধ দেয়ায় বর্ষার পানি আটকে প্রায় ৩শ’ বিঘা জমির ফসল তলিয়ে গেছে। এ বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ২০-২৫ জন কৃষক উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা কৃষি অফিসারকে লিখিত আবেদন করলেও বাঁধ অপসারণ করা হয়নি।
রোববার (১২ জুলাই) সরেজমিন ওই এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের মানিকৈড় ও কালিকাপুর এলাকার বিস্তীর্ণ মাঠের পরিপক্ক ধান, পাট, ঝিঙ্গা, তিল, করলা, কলা, লিচুসহ বিভিন্ন ফসল, ফল ও সব্জির বাগান বৃষ্টির পানিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় তলিয়ে গেছে। একই এলাকার ৭টি পুকুরের মাছও ভেসে গেছে।
কৃষকরা জানান, এই এলাকার প্রভাবশালী আব্দুস সামাদ সরদার তার নিজের প্রয়োজনে এলাকার সরকারি ক্যানেলের মুখে মাটি কেটে উঁচু করে বাঁধ নির্মাণ করেছেন। এ বাঁধ রক্ষার জন্য বাঁধের দুপাশে কলাগাছও লাগিয়েছেন তিনি। কৃষক খন্দকার আলমাস আলী জানান, এবছর আষাঢ়ের শুরু থেকে বৃষ্টিপাত ও ভারি বর্ষণের সময় মানিকৈড় মৌজা ও কালিকাপুর এলাকার ২৫-৩০ জন কৃষকের সব ফল, ফসল ও সব্জির জমি জলমগ্ন হতে হতে গত এক সপ্তাহ ধরে তলিয়ে গেছে পানির নিচে। এ কারণে ৩ মওসুমের আবাদও বন্ধ হয়ে গেছে তাদের। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা বারবার অনুরোধ করার পরও বাঁধ কেটে পানি বের না করায় বাধ্য হয়ে তারা উপজেলা কৃষি অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন বাঁধ অপসারণ করার দাবি জানিয়ে। এ বিষয়ে সামাদ সরদারকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, আমি আমার প্রয়োজনে বাঁধ দিয়েছি। এ বাঁধ কেটে দিলে আমার জমির ফসল ডুবে যাবে।
ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোস্তফা হাসান ইমাম বলেন, কৃষকদের লিখিত অভিযোগ সরেজমিন তদন্ত করে সত্যতা মিলেছে। এ বাঁধ উচ্ছেদের জন্য তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করে সুপারিশ করা হয়েছে। ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল লতিফ এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন ইউএনও’র নির্দেশনা পেলে বাঁধ অপসারণের ব্যবস্থা করা হবে। ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিহাব রায়হান এ বিষয়ে বলেন, কৃষকদের লিখিত অভিযোগ ও কৃষি অফিসের তদন্ত প্রতিবেদন পেয়েছি। এ বিষয়ে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ