ঈশ্বরদীতে মাদকাসক্ত স্বামীর নির্যাতনে গৃহবধূর মৃত্যু

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২০, ১২:৫৩ পূর্বাহ্ণ

ঈশ্বরদী প্রতিনিধি


ঈশ্বরদীতে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে সাবিনা বেগম (৩০) নামের এক সন্তানের জননী গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল রোববার সকালে ঈশ্বরদী উপজেলার মুলাডুলি ইউনিয়নের ঢুলটি (বেদুনদিয়া) গ্রামের বাড়ি থেকে সাবিনার মরদেহ উদ্ধার করে ঈশ্বরদী থানা পুলিশ। লাশ ময়না তদন্তের জন্য পাবনা মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত মাদকসেবী স্বামী জামরুল হোসেন পলাতক রয়েছে। এ ঘটনায় ঈশ্বরদী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসী জানায়, প্রায় ১০ বছর পূর্বে শহরের মশুড়িয়া পাড়া গ্রামের জার্জিস হোসেনের মেয়ে সাবিনার সঙ্গে অরনকোলা গ্রামের জামরুল হোসেন কালুর বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন সময় জামরুল সাবিনাকে মারপিট করতো। এর মধ্যে তাদের সংসারে এক সন্তান জন্ম নেয়। মেয়ের সুখের জন্য প্রায় তিন মাস পূর্বে মেয়ের বাবা মুলাডুলি ইউনিয়নের ঢুলটি (বেদুনদিয়া) গ্রামে সামান্য জমি কিনে বাড়ি করে দেয়ায় সেখানেই তারা বসবাস করতো তারা। গত শনিবার রাতে মাদকসেবী জামরুল টাকার জন্য আবারও মারপিট করে স্ত্রী সাবিনাকে। এক পর্যায়ে সাবিনার মৃত্যু হলে তার মরদেহ ঘরের আড়ার সাথে ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা বলে প্রচার করেই এলাকা থেকে পালিয়ে যায় জামরুল। খবর পেয়ে ঈশ্বরদী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য পাবনা মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
প্রতিবেশী নাজমা বেগম ও লাকী খাতুন জানান, প্রায়ই রাতে মাতাল অবস্থায় বাড়িতে এসে জামরুল তার স্ত্রী সাবিনাকে মারধর করতো। শনিবার রাতেও চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শোনা যায়। ভোর রাতে জামরুলের মা এসে জানায় সাবিনা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। সাবিনার ছেলে সিয়াম হোসেন (৮) জানায়, শনিবার রাতে বাবা বাড়িতে এসে তার মাকে মারধর শুরু করে। এক পর্যায়ে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।
এবিষয়ে ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বাহাউদ্দিন ফারুকী জানান, ময়না তদন্তের রিপোর্ট এলেই প্রকৃত রহস্য উদঘাটন হবে। এবিষয়ে থানায় আপাতত ইউডি মামলা হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট এলে মামলার ধারা পরিবর্তন করা হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ