ঈশ্বরদীতে যুবলীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষ যুবলীগ কর্মী গুলিবিদ্ধসহ আহত ৬, শহরে বিক্ষোভ মিছিল সমাবেশ

আপডেট: ডিসেম্বর ৪, ২০২২, ১০:৩৯ অপরাহ্ণ

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি:


পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীর একটি বালুর ঘাট দখলকে কেন্দ্র করে যুবলীগের দুই গ্রুপে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় পাকশী পদ্মা নদীর লালনশাহ সেতুর নিচে একটি বালুর ঘাটে এ ঘটনা ঘটে। এতে মাসুম নামের এক যুবলীগ কর্মী গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছেন অন্তত: ৬ নেতা-কর্মী। নদী তীরবর্তী এলাকায় যুবলীগের দুই গ্রুপে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, গুলিবর্ষণ ও পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এসময় ৫টি মোটর সাইকেল ও একটি জীপ ভাঙচুর করা হয়। গুলিবিদ্ধ হন মাসুম হোসেন নামের এক যুবলীগ কর্মী। এছাড়া পাথর নিক্ষেপে আহত হয়েছেন যুবলীগ কর্মী সম্রাট হোসেন সুইটসহ আরো ৫জন।

প্রত্যক্ষদর্শী, যুবলীগের একাধিক নেতাকর্মী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পাকশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান পিন্টুর নিয়ন্ত্রনাধিন একটি বালুর ঘাটে গতকাল বিকেলে ভেকুমেশিনে বালু তুলে ট্রাক লোড করতে যাচ্ছিল তার লোকজনসহ উপে ও পৌর যুবলীগের নেতাকর্মীরা। এসময় পদ্মা নদীতে আগে থেকে ‘পিকনিকের আমেজে’ রান্না ও খাওয়া দাওয়া করছিল যুবলীগের দোলন গ্রুপের যুবলীগ নেতা আমজাদ হোসেন অবুজের নেতৃতেত্ব শতাধিক নেতা-কর্মীরা। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ভেকু মেশিন বালুর ঘাটে লাগানোর সাথে সাথে গুলিবর্ষন করে তারা। গুলিতে যুবলীগ কর্মী মাসুম গুলিবিদ্ধ হলে তারা পাল্টা আক্রমন হিসেবে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। অবস্থার আকস্মিকতায় বিবদমান দুই গ্রুপে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও মুখোমুখি সংঘর্ষে রূপ নেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।

এদিকে এসব ঘটনায় স্থানীয় এমপি পুত্র দোলন বিশ্বাসকে দোষী করে তার শাস্তির দাবিতে শনিবার রাত ৮টার দিকে শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে উপজেলা ও পৌর যুবলীগ। ঈশ্বরদী উপজেলা যুবলীগের সভাপতি শিরহান শরীফ তমাল, যুবলীগ নেতা মিলন চৌধুরী, পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম লিটনের নেতৃত্বে শত শত যুবলীগ নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভে অংশ নেয়। পরে রেলগেট জিরো পয়েন্টে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দেন শিরহান শরিফ তমাল। তিনি এ ঘটনায় দলীয় সভা করে থানায় অভিযোগ জানাবেন বলে জানান। এ ঘটনা সম্পর্কে যুবলীগ নেতা ও এমপি পুত্র তৌহিদুজ্জামান দোলন বিশ্বাস বলেন, ঘটনার সময় আমি সেখানে ছিলাম না। মূল ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য আমাকে জড়িয়ে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হচ্ছে। ঈশ্বরদী থানার ওসি অরবিন্দ সরকার বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। এ ঘটনায় কোন পক্ষই অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ