ঈশ্বরদীতে রেলস্টেশনে সন্তান প্রসব, সহযোগিতায় রেলওয়ের দুই নারী পুলিশ

আপডেট: জানুয়ারি ২০, ২০২২, ৯:৪২ অপরাহ্ণ


ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি:


পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার আরামবাড়ী বাজার এলাকার উজ্জল হোসেনের স্ত্রী কনিকা খাতুনের (২০) প্রথম সন্তান জন্ম হওয়ার দিন ঘনিয়ে আসায় স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে তার বাবার বাড়ি রাজশাহীতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু পথিমধ্যে ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংসন স্টেশনে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করার সময় তার প্রসব ব্যথা ওঠে। স্টেশনের প্লাটফরমে বসা অবস্থায় ব্যথা বাড়লে সেখানেই সন্তান প্রসব করার পর্যায়ে উপনীত হন মা কনিকা। এই অবস্থায় রেলওয়ে পুলিশের সহযোগিতা কামনা করেন ওই প্রসূতির স্বামী ও তাদের সঙ্গে থাকা নারী রিনা কর্মকার।

খবর পেয়ে রেলওয়ে থানা থেকে দুই নারী পুলিশ সদস্য এসে স্টেশনেই সন্তান প্রসব করানোর ব্যবস্থা করেন। পুলিশের সহযোগিতায় স্টেশনেই সন্তান প্রসব করেন ওই নারী। বৃহস্পতিবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে মা ও নবজাতক দুজনেই সুস্থ আছেন। তবে সন্তান প্রসব করতে বাবার বাড়িতে আর যাওয়া হয়নি ওই মায়ের। ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশন স্টেশন থেকে প্রসূতি ও নবজাতককে ভর্তি করা হয়েছে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে।

মা কনিকা খাতুন জানান, বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগেই সামান্য ব্যথা অনুভব হয়। সতর্কতা স্বরূপ স্বামী ছাড়াও রিনা রানি কর্মকার নামে এক স্বজনকে সাথে করে বাবার বাড়িতে রওনা হন। কিন্তু স্টেশন এলাকায় পৌঁছার পরপরই তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়। পরে রিনা রানী ঈশ্বরদী রেলওয়ে পুলিশের সহযোগিতায় একজন নারী কনস্টেবলের শাড়ি দিয়ে সন্তান প্রসবের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করেন। সেখানেই ফুটফুটে কন্যা সন্তান জন্ম দেন কনিকা।

প্রসূতি নারী কনিকা বলেন, আমার দিন গণনায় ভুল ছিল। বুঝতে পারিনি আমার সন্তানের জন্ম হওয়ার সময় ঘনিয়ে এসেছিল। বাবার বাড়িতে গিয়ে আমার প্রথম সন্তানের জন্ম হবে বলে ভেবেছিলাম, কিন্তু তার জন্ম হলো স্টেশনেই। তবে আমি প্রথমবার মা হলাম, যেখানে যে অবস্থায় হোক খুবই আনন্দ অনুভব করছি মা হতে পেরে। কনিকা বলেন, আমি খুবই কৃতজ্ঞ ঈশ্বরদী রেলওয়ে থানার দুই নারী পুলিশ সদস্যদের প্রতি। সময়মত তারা এগিয়ে না এলে কী হতো জানিনা।

কনিকার স্বামী উজ্জল হোসেন বলেন, সন্তান প্রসবের সময় ঘনিয়ে আসায় স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে তার বাবার বাড়ি রাজশাহীতে রওয়ানা দিই। স্টেশনে এলে অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশের সহযোগিতা চাইলে পুলিশ সদস্যরা এগিয়ে আসেন। তাদের সহযোগিতায় আমার স্ত্রী স্টেশনেই সন্তান প্রসব করেন।

এ বিষয়ে ঈশ্বরদী রেলওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলাম জানান, আমার কাছে সংবাদ এলে আমি দু’জন নারী কনস্টেবল শান্তনা পারভিন ও মাহফুজা আক্তারকে সহযোগিতার জন্য পাঠাই, তারা সন্তান প্রসবের বিষয়টি জানালে আমি ডাক্তারের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দেয়।

পরে তাকে ঈশ্বরদীর আকলিমা ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়। এ বিষয়ে আকলিমা ক্লিনিকের গাইনি চিকিৎসক রাবেয়া বসরী রোজি জানান, আমাদের এখানে আসার সাথে সাথে আমরা জরুরি ভিত্তিতে তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিয়েছি। বর্তমানে মা-মেয়ে দুজনেই সুস্থ রয়েছেন।