ঈশ্বরদীতে লাইনচ্যুত চিত্রা এক্সপ্রেস || ঢাকা-খুলনা ট্রেন চলাচল বন্ধ

আপডেট: জুলাই ১৬, ২০১৭, ১২:৪৮ পূর্বাহ্ণ

ঈশ্বরদী প্রতিনিধি


ঈশ্বরদীর মুলাডুলি রেল স্টেশনের নিকট লাইনচ্যুত হয়ে পড়া আন্তঃনগর চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনকে উদ্ধার করতে এসে উদ্ধারকারী রিলিফ ট্রেনও লাইনচ্যুত হয়ে পড়েছে। গতকাল শনিবার দুপুর একটার দিকে চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেন লাইনচ্যুত হলে ঢাকা থেকে ঈশ্বরদী হয়ে খুলনার মধ্যে চলাচলকারী ট্রেন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। গতকাল দিনভর অনেক চেষ্টা করেও ট্রেন যোগাযোগ পুনর্¯’াপন করা যায় নি।
রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানান, রিলিফ ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ায় চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনকে উদ্ধার করতে আরো কয়েক ঘণ্টা সময় বেশি লাগবে। আজ রোববার নাগাদ ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন রেলের উদ্ধারকর্মী ও পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের কর্মকর্তারা। প্রত্যক্ষদর্শী ও রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানান, খুলনা থেকে ঈশ্বরদী হয়ে ঢাকাগামী আন্তঃনগর চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনটি ঈশ্বরদীর মুলাডুলি রেল স্টেশন অতিক্রম করার সময় ট্রেনের ইঞ্জিন, পাওয়ারকার ও একটি বগির দুইটি চাকা লাইনচ্যুত হয়। গতকাল দুপুর একটার দিকে মুলাডুলি রেলস্টেশন অতিক্রম করার সময় ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়। এদিকে ঈশ্বরদীর মুলাডুলি রেল স্টেশনের নিকট আন্তঃনগর চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার কারণে উত্তর দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন স্টেশনে প্রায় ১০টি ট্রেন আটকে পড়ে আছে।
রেলওয়ের বিভিন্ন স্টেশনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গতকাল শনিবার রাত পর্যন্ত ভারত থেকে ঢাকার উদ্দ্যেশ্যে ছেড়ে আসা আন্তর্জাতিক মৈত্রী এক্সপ্রেস টেনটি শনিবার দুপুর থেকে ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংসন স্টেশনে আটকে পড়ে আছে। এছাড়া আবদুুলপুর জংসন স্টেশনে আন্তঃনগর দ্রুতযান এক্সপ্রেস ট্রেন, রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে আন্তঃনগর পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেন, চাটমোহর রেলওয়ে স্টেশনে রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেন, উল্লাপাড়া রেলওয়ে স্টেশনে সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেন, বড়াল ব্রিজ রেলওয়ে স্টেশনে একতা এক্সপ্রেস ট্রেন, নাটোর রেলওয়ে স্টেশনে লালমনি এক্সপ্রেস ট্রেনসহ বিভিন্ন স্টেশনে আরো বেশ কয়েকটি ট্রেন আটকে পড়ে আছে। মুলাডুলি রেলস্টেশনে লাইনচ্যুত হওয়া চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেন উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত এসব ট্রেন নির্দিষ্ট গন্তব্যে যেতে পারবে না বলে জানিয়েছেন রেলওয়ের টিটিই আবদুুল আলিম মিঠু। ঈশ্বরদী থেকে উদ্ধারকারী রিলিফ ট্রেন এসে উদ্ধার কাজ শুরু করার পর সন্ধ্যা সোয়া ছয়টার দিকে উদ্ধারকারী রিলিফ ট্রেনটিও লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শী রাকিবুল ইসলাম জানান, স্থানীয়রা ট্রেন উদ্ধার করা দেখতে এসে উদ্ধারকারী রিলিফ ট্রেনকে লাইনচ্যুত হতে দেখে ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। এসময় উৎসুক লোকজন দুর্ঘটনাস্থলে ভীড় জমায়। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে রাজশাহী থেকে বিভাগীয় কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্র্শন করেছেন।
পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের প্রধান প্রকৌশলী রমজান আলী জানান, ট্রেনটি না যাওয়ার জন্য সিগনাল দেয়া ছিল। যেহেতু ট্রেনটির যাওয়ার সিগনাল ছিল না, তাই ট্যাপ পয়েন্ট খোলা ছিল। ওই পয়েন্ট অতিক্রম করার সময় লাইনচ্যুতির এ ঘটনা ঘটে।
পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার (ডিআরএম) অসিম কুমার তালুকদার জানান, ঢাকার সঙ্গে ঈশ্বরদী হয়ে খুলনা পর্যন্ত ট্রেন চলাচল শুরু করার যে চেষ্টা করা হচ্ছিল রিলিফ ট্রেনটির ৮টি চাকা লাইনচ্যুত হওয়ায় সে সময় আরো বেড়ে গেলো। শনিবার মধ্যরাতের আগে বলা যাচ্ছে না কখন ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হবে। ডিআরএম বলেন, অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে ভেজা ও নরম মাটি উদ্ধারকারী রিলিফ ট্রেনের ভার সইতে পারে নি, এ কারণে রিলিফ ট্রেনের চাকা দেবে গিয়ে চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনকে উদ্ধার করার আগেই রিলিফ ট্রেনটির ৮টি চাকা লাইনচ্যুত হয়। এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।