ঈশ্বরদীতে সহকারী অধ্যাপককে পেটালেন অধ্যক্ষ

আপডেট: নভেম্বর ২৯, ২০২২, ১১:১৬ অপরাহ্ণ

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি :


১৫ মিনিট দেরিতে কলেজে আসার কারণে পাবনার ঈশ্বরদীতে সহকারী অধ্যাপক ও সিনিয়র শিক্ষক রহমত উল্লাহ মন্ডলকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করেছেন অধ্যক্ষ রবিউল আলম সাবান। মঙ্গলবার (২৯ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সলিমপুর ডিগ্রী কলেজে অধ্যক্ষের কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কলেজের কয়েকজন শিক্ষক জানান, কলেজের নিয়ম অনুযায়ী সকল শিক্ষককে সকাল ১০টার মধ্যে কলেজে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে হয়। মঙ্গলবার সকাল ১০:১৫ টায় সহকারি অধ্যাপক রহমত উল্লাহ অধ্যক্ষের কক্ষে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে যান। সেসময় ওই শিক্ষককে দেরিতে কলেজে আসার কারণে খাতায় অনুপস্থিত করে দেন অধ্যক্ষ। শিক্ষক রহমত উল্লাহ এসময় অধ্যক্ষকে বলেন, ‘বাড়িতে সমস্যা ছিল আর সড়কে যানজটও ছিল। এ জন্য ১৫ মিনিট দেরি হয়েছে। আমার নৈমিত্তিক ছুটি পাওনা আছে, আমি ছুটির দরখাস্ত দিতে চাই।

না হলে আজকের জন্য খাতায় স্বাক্ষর করতে দেন।’ একথা শোনার পর অধ্যক্ষ রবিউল আলম ক্ষিপ্ত হয়ে অকথ্য ভাষায় তাকে গালিগালাজ করতে থাকেন। শিক্ষক রহমত উল্লাহ তাকে গালিগালাজ করতে নিষেধ করলে অধ্যক্ষ আরও উত্তেজিত হয়ে পড়েন। উত্তেজিত হয়ে রহমত উল্লাহকে কিল-ঘুষি মারতে থাকেন। এতে ওই শিক্ষক মাটিতে লুটিয়ে পড়ে গেলে তাকে লাথিও মারেন অধ্যক্ষ। এক পর্যায়ে পাশের কক্ষ থেকে তিনজন শিক্ষক ছুটে এসে শিক্ষক রহমত উল্লাহকে উদ্ধার করেন।

এ ঘটনা সম্পর্কে সহকারি অধ্যাপক রহমত উল্লাহ বলেন, অধ্যক্ষ মাঝে মাঝেই শিক্ষকদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত এবং অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন। এর আগে গত ১২ জুন এবং ২০১৭ সালেও আমাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছিলেন। দেরিতে কলেজে আসার জন্য অনুপস্থিত না করে ছুটির দরখাস্ত দিতে চেয়েছিলাম। এটাই আমার অপরাধ। অশালীন ভাষাই শুধু নয়, উনি আমাকে মারধর করে রক্তাক্ত পর্যন্ত করেছেন। অধ্যক্ষ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র আবুল কালাম আজাদ মিন্টুর ঘনিষ্ট আত্মীয়। তিনিই এ কলেজের সভাপতি। অধ্যক্ষ তার প্রভাবে আমাকেসহ অন্যান্য শিক্ষকদের প্রতি প্রতিনিয়ত অন্যায় আচরণ করে থাকেন। আমরা তার অন্যায় আচরণের বিচার পাই না।

এ ঘটনায় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সেলিম আক্তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শিক্ষক অনিয়ম করলে চাকরি বিধি অনুযায়ী অধ্যক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। কিন্তু শিক্ষককে মারধর করা ভীষণ অন্যায়। এই অন্যায়ের জন্য অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান। উপজেলা নির্বাহী অফিসার পি. এম ইমরুল কায়েস বলেন, ঘটনা সম্পর্কে আমি এখনও অবগত নই। খোঁজখবর নিয়ে দেখবো।

এদিকে এ ঘটনা নিয়ে মঙ্গলবার কলেজে জরুরি বৈঠক করে ঘটনাটি মিমাংসা করার উদ্যোগ নেয় কলেজ গভর্নিং কমিটি। কমিটির সভাপতি সাবেক পৌর মেয়র আবুল কালাম আজাদ মিন্টুর সভাপতিত্বে এ বৈঠকে পাবনা জেলা পরিষদের সদস্য রতন মহলদারসহ কলেজের প্রায় সকল শিক্ষক, কর্মচারি ও আহত শিক্ষকের পরিবারের লোকজন উপস্থিত ছিলেন। সভায় উপস্থিত শিক্ষকদের মধ্যে দু-তিনজন বলেন, মিমাংসা বৈঠক ডাকা হলেও এ ঘটনার জন্য অধ্যক্ষ নূন্যতম ‘সরি’ পর্যন্ত বলেননি। আবার দুজনকে হাত মিলিয়েও দেওয়া হয়নি। অধ্যক্ষ রবিউল আলম সাবানকে তার ব্যক্তিগত মোবাইলে কয়েকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

বৈঠকে উপস্থিত জেলা পরিষদের সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ রতন মহলদার মুঠোফোনে এ প্রতিবেদককে বলেন, শিক্ষক ও অধ্যক্ষের মধ্যে ‘ভুল বুঝাবুঝি’ হয়েছিল। সৃষ্ট ঘটনাটি মিমাংসা করে দেওয়া হয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ