ঈশ্বরদীতে স্কুলে এসে মাটি কাটতে বাধ্য হলো শিশু শিক্ষার্থীরা

আপডেট: নভেম্বর ৬, ২০১৬, ১২:১৯ পূর্বাহ্ণ

ঈশ্বরদী প্রতিনিধি



স্কুলে পড়ালেখা করতে এসে প্রধান শিক্ষকের নির্দেশে কোদাল ডালি নিয়ে মাটি কাটার মত শক্ত কাজ করতে বাধ্য হলো শিশু শিক্ষার্থীরা। ক্লাশ চলাকালীন সময়ে স্কুলের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীদের দিয়ে রীতিমত শ্রমিকের কাজ করানোর মতো ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার সাঁড়া ইউনিয়নের আসনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গতকাল শনিবার এ ঘটনা ঘটে।
শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসার পর প্রধান শিক্ষিকা তহমিনা খাতুন তাদের ক্লাশে বই রেখে মাটি কাটার কাজ করাতে বাধ্য করান। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্কুলের আঙিনায় পড়ে থাকা মাটি কাটার কাজ করানো হয় কোমলমতি ওই শিশু শিক্ষার্থীদের দিয়ে। এ ঘটনায় ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক তহমিনা খাতুনের প্রতি অভিভাবক ও সচেতন মহল নিন্দা প্রকাশ করেছেন।
স্কুল সূত্র জানায়, আসনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য স্কুল আঙিনায় ফুলের বাগান করা হচ্ছে। এজন্য ট্রাক্টরে করে আনা হয়েছে মাটি। সেই মাটি সরানোর জন্য শ্রমিক না নিয়ে স্কুলের কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীদের দিয়ে কাজটি করানো হয়েছে। শিক্ষার্থীরা জানায় তাদের বেতের ভয় দেখিয়ে কষ্টদায়ক এই কাজটি করানো হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক শিক্ষার্থী জানান, তাদের মারের ভয় দেখিয়ে ওই মাটি কাটার কাজটি করানো হয়েছে। শিক্ষার্থীরা জানায় দু’একদিন পরপরই তাদের দিয়ে স্কুলের মাঠে পড়ে থাকা নোংরা-আবর্জনা ও ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কাগজ ও আগাছা তুলে পরিষ্কার করানো হয়। কাজ করার ভয়ে অনেক শিক্ষার্থীরা স্কুলে যাওয়া আসা করতেও অনিহা প্রকাশ করে। অভিভাবক মাসুম রেজা এসব ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, আমরা আমাদের সন্তানকে স্কুলে পাঠিয়েছি পড়াশোনা করানোর জন্য, শ্যমিকের কাজ করার জন্য নয়। অথচ প্রধান শিক্ষিকা আমাদের সেই শিশু সন্তানদের দিয়ে শ্রমিকের কাজ করিয়ে চরম অন্যায় করেছেন। আমরা এর উপযুক্ত বিচার দাবী করছি। এবিষয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা তহমিনা খাতুন বলেন, স্কুলে ফুলের বাগান করার জন্য মাটি আনা হয়েছে। সেই মাটি চুরি হয়ে যাচ্ছিল, তাই শিক্ষার্থীদের দিয়ে মাটি সরানো হয়েছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার কানিজ ফাতেমা এ ঘটনা সম্পর্কে বলেন, বিষয়টি শুনেছি, যদি ঘটনা সত্যি হয় তবে এ ঘটনার তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।