ঈশ্বরদীর চাঞ্চল্যকর লিপু হত্যা মামলার রায় || স্বামীকে হত্যার দায়ে স্ত্রীর দশ বছর কারাদণ্ড

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৭, ১:০৬ পূর্বাহ্ণ

ঈশ্বরদী প্রতিনিধি


ঈশ্বরদীর বহুল আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর লিপু হত্যা মামলায় স্বামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা শাহানুর রহমান লিপুকে নৃশংসভাবে হত্যার দায়ে স্ত্রী শাহীনা আক্তারকে দশ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। গতকাল রোববার পাবনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা ২য় জজ আদালতের বিচারক শরনিম আকতার এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় এ মামলার একমাত্র আসামি শাহীনা আক্তার আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পর পুলিশ তাকে পাবনা জেলা কারাগারে নিয়ে যায়। আদালত সূত্র জানিয়েছে, ২০১৪ সালের ১৫ জুলাই বিকেলে দাম্পত্য কলহের জের ধরে ঠিকাদার ও স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা শাহানুর রহমান লিপুকে (৪৫) হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে নির্মম ও নৃশংসভাবে হত্যা করে তার স্ত্রী শাহিনা আক্তার। হত্যার সাতদিন পর সকালে বাড়ির সেফ্টি ট্যাঙ্কি থেকে নিহত লিপুর গলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ হত্যার ঘটনায় জড়িত স্ত্রী শাহীনা আক্তার রোকসানাকে (৩৫) গ্রেফতার করে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার একমাত্র আসামি শাহীনা আক্তার তার স্বামীকে নিজে হত্যা করেছেন বলে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেন। সেসময় তাকে কারাগারে প্রেরণ করা হলেও পরবর্তিতে হাইকোর্ট থেকে জামিনে মুক্তিলাভ করেন তিনি। নিহত শাহানুর রহমান লিপু ঈশ্বরদী পৌরসভার শেরশাহ রোড বেলতলা এলাকার মৃত লুৎফর রহমানের ছেলে। তিনি ঈশ্বরদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য ছিলেন। তিন বছর আগে ২০১৪ সালের ২২ জুলাই লিপুর নিজ বাড়ির সেফটি ট্যাঙ্কির ভেতর থেকে শাহানুর রহমান লিপুর গলিত মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ও নিহতের আত্মীয়-স্বজনরা জানান, শাহানুর রহমান লিপুর সাথে তার স্ত্রী শাহীনা আক্তারের দীর্ঘ দিন থেকে দাম্পত্য কলহ চলে আসছিল। এরই জের ধরে উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে লিপু তার শিশু কন্যাকে গলাটিপে ধরে, এসময় স্ত্রী শাহীনা আক্তারকেও শারিরিকভাবে নির্যাতন করে লিপু। মেয়ে ও নিজেকে লিপুর হাত থেকে বাঁচাতে পেছন থেকে হাতুড়ি দিয়ে তার স্বামীর মাথায় আঘাত করেন শাহীনা এতে ঘটনাস্থলেই লিপুর মৃত্যু হয়। নিহত স্বামীর লাশ ঘরের মধ্যে দুইদিন রেখে সিদ্ধান্তহীনতায় ভূগে অবশেষে ১৭ জুলাই রাতে শাহীনা আক্তার বাড়ির সেফটি ট্যাঙ্কির মধ্যে লাশের হাত-পা বেঁধে এবং মাথায় বালির বস্তা বেঁধে ফেলে দেয়। কয়েকদিন ধরে লিপুর কোনো খোঁজ না পেয়ে পরিবারের স্বজনরা পুলিশকে জানায়। পরে পুলিশ ২১ জুলাই গভীর রাতে স্ত্রী শাহীনা আক্তারকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি তার স্বামীকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। তার স্বাীকারোক্তি অনুযায়ী ২২ জুলাই ২০১৪ সকাল ১১ টার দিকে বাড়ির পাশের সেফটি ট্যাঙ্কির ভেতর থেকে শাহানুর রহমান লিপুর গলিত মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। মামলায় আসামি পক্ষে আইনজীবি ছিলেন সনত কুমার সরকার এবং রাস্ট্রপক্ষের আইনজীবি ছিলেন অ্যাডভোকেট মনোয়ার হোসেন স্বপন।
আদালতে শাহীনা আক্তার রোকসানা বলেন, স্বামী শাহানুর রহমান লিপুর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে তিনি নিজ হাতে তার স্বামীর মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে তাকে হত্যা করেন। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর ঠান্ডা মাথায় তিনি একটি বালুভর্তি বস্তার মধ্যে তার স্বামীর লাশের মাথার অংশ বেঁধে এবং হাত-পা শিকলে তালাবদ্ধ করে বাড়ির সেপটিক ট্যাঙ্কের মধ্যে ফেলে দেন। স্বামী লিপুর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে তিনি এই হত্যাকাণ্ড ঘটাতে বাধ্য হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ