ঈশ্বরদীর স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা লিপু হত্যা মামলার রায় আজ

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৭, ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ

ঈশ্বরদী প্রতিনিধি


ঈশ্বরদীর বহুল আলোচিত লিপু হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হবে আজ রোববার ১৭ সেপ্টেম্বর। পাবনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা ২য় জজ আদালতের বিচারক শরমিন আকতার এ রায় ঘোষণা করবেন বলে আদালত সূত্র জানিয়েছেন। মামলায় আসামি পক্ষে আইনজীবী রয়েছেন সনত কুমার সরকার এবং রাস্ট্রপক্ষের আইনজীবী রয়েছেন অ্যাডভোকেট মনোয়ার হোসেন স্বপন।
চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার একমাত্র আসামি নিহত লিপুর স্ত্রী শাহীনা আক্তারকে পুলিশ গ্রেফতার করার পর তিনি তার স্বামীকে নিজ হাতে হত্যা করেছেন বলে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেন। সে সময় তাকে কারাগারে প্রেরণ করা হলেও পরবর্তিতে হাইকোর্ট থেকে জামিনে মুক্তিলাভ করেন তিনি।
পেছন ফিরে দেখা: দাম্পত্য কলহের জের ধরে ঠিকাদার ও স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা শাহানুর রহমান লিপুকে (৪৫) হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে নির্মম ও নৃশংসভাবে হত্যা করেন তার স্ত্রী শাহিনা আক্তার। হত্যার সাতদিন পর সকালে বাড়ির সেফ্টি ট্যাঙ্কি থেকে নিহত লিপুর গলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ হত্যার ঘটনায় জড়িত স্ত্রী শাহীনা আক্তার রোকসানাকে (৩৫) গ্রেফতার করে পুলিশ। নিহত শাহানুর রহমান লিপু ঈশ্বরদী পৌরসভার শেরশাহ রোড বেলতলা এলাকার মৃত লুৎফর রহমানের ছেলে। তিনি ঈশ্বরদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য ছিলেন। তিন বছর আগে ২০১৪ সালের ২২ জুলাই লিপুর নিজ বাড়ির সেফটি ট্যাঙ্কির ভেতর থেকে শাহানুর রহমান লিপুর গলিত মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ও নিহতের আত্মীয়-স্বজনরা জানান, শাহানুর রহমান লিপুর সাথে তার স্ত্রী শাহীনা আক্তারের দীর্ঘ দিন থেকে দাম্পত্য কলহ চলে আসছিল। এরই জের ধরে ২০১৪ সালের ১৫ জুলাই বিকেলে উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে লিপু তার শিশু কন্যাকে গলাটিপে ধরে, এ সময় স্ত্রী শাহীনা আক্তারকেও শারিরিকভাবে নির্যাতন করে লিপু। মেয়ে ও নিজেকে লিপুর হাত থেকে বাঁচাতে পেছন থেকে হাতুড়ি দিয়ে তার স্বামীর মাথায় আঘাত করেন শাহিনা আক্তার এতে ঘটনাস্থলেই লিপুর মৃত্যু হয়। নিহত স্বামীর লাশ ঘরের মধ্যে দুইদিন রেখে সিদ্ধান্তহীনতায় ভূগে অবশেষে ১৭ জুলাই রাতে শাহিনা আক্তার বাড়ির সেফটি ট্যাঙ্কির মধ্যে লাশের হাত-পা বেঁধে এবং মাথায় বালির বস্তা বেঁধে ফেলে দেয়। এদিকে কয়েকদিন ধরে লিপুর কোনো খোঁজ পাচ্ছিলনা তার পরিবারের লোকজন ও বন্ধু-বান্ধবরা। বিষয়টি সন্দেহজনক হওয়ায় পরিবারের স্বজনরা পুলিশকে জানায়। পরে পুলিশ ২১ জুলাই গভীর রাতে স্ত্রী শাহীনা আক্তারকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি তার স্বামীকে হত্যার কথা অবলিলায় স্বীকার করেন। তার স্বাীকারোক্তি অনুযায়ী ২২ জুলাই ২০১৪ সকাল ১১ টার দিকে বাড়ির পাশের ওই সেফটি ট্যাঙ্কির ভেতর থেকে শাহানুর রহমান লিপুর গলিত মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।
সে সময় আদালতে শাহীনা আক্তার রোকসানা স্বীকার করে বলেন, স্বামী শাহানুর রহমান লিপুর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে তিনি নিজ হাতে তার স্বামীর মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করেন। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর ঠান্ডা মাথায় তিনি একটি বালুভর্তি বস্তার মধ্যে তার স্বামীর লাশের মাথার অংশ বেঁধে এবং হাত-পা শিকলে তালাবদ্ধ করে বাড়ির সেপটিক ট্যাঙ্কের মধ্যে ফেলে দেন। শাহীনা আক্তার ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জবানবন্দীতে আরো বলেন, স্বামীকে খুন করার সময় তিনি কারো সহযোগিতা নেন নি। স্বামী লিপুর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে তিনি এই হত্যাকান্ড ঘটাতে বাধ্য হয়েছেন বলে স্বীকার করেন। লাশ উদ্ধারের পরদিন দুপুরে পাবনার চীফ জুডিশিয়াল আদালতে এই জবানবন্দী রেকর্ড করা হয়। এদিকে চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার রায় ঘোষণার দিনক্ষণ ঠিক হওয়ায় লিপুর পরিবারসহ তার আত্মিয়-স্বজন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন মামলার রায় নিয়ে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ