ঈশ্বরদী পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন ।। যুবলীগের বাধা

আপডেট: জুলাই ৭, ২০১৭, ১২:৩৬ পূর্বাহ্ণ

ঈশ্বরদী প্রতিনিধি


ভূমিমন্ত্রীর জামাতা ও ঈশ্বরদী পৌরসভার মেয়র আবুল কালাম আজাদ মিন্টুর বিরুদ্ধে মাছ লুটের অভিযোগ এনে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে ঈশ্বরদী পৌরসভার কাউন্সিলর ও কর্মকর্তা-কর্মচারী গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে মানববন্ধন করার চেষ্টা করে। এসময় ঈশ্বরদী যুবলীগ নেতাকর্মীরা মানববন্ধনে বাধা প্রদান করে বলে অভিযোগ উটেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈশ্বরদী পৌরসভার পক্ষ হতে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হলে সকালে পোস্টঅফিস মোড়ে একই স্থানে যুবলীগ পাল্টাপাল্টি মানববন্ধনের কর্মসূচি ঘোষণা করে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পৌরসভা হতে ব্যানার ও মিছিল সহযোগে পৌর কাউন্সিলর ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পোস্টঅফিস মোড়ে মানববন্ধনের জন্য সমাবেত হলে যুবলীগের নেতাকর্মীরা বাধা প্রদান করে। এসময় বিপুল সংখ্যক পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তারা নিশ্চুপ ছিল বলে অভিযোগ করা হয়। বাধা পেয়ে কাউন্সিলর ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ফিরে গিয়ে পৌরসভার সামনে মানববন্ধন করেন। এসময় অনুষ্ঠিত পথসভায় বক্তব্য দেন কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র সাঈদ হাসান শিমূল।
তিনি বলেন, মেয়রের বিরুদ্ধে থানায় দায়েরকৃত ষড়যন্ত্র মূলক মাছ লুটের মিথ্যা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। নইলে আন্দোলনের মাধ্যমে মামলা প্রত্যাহার করাতে বাধ্য করা হবে। সেইসঙ্গে সুষ্ঠু তদন্ত পূর্বক মেয়রের সম্মানহানির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে পুলিশ প্রশাসনকে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
এদিকে পৌর যুবলীগ সভাপতি মাছ লুটের ঘটনায় পৌর মেয়রকে গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে মানববন্ধনের ঘোষণা দিলেও সেখানে কোন মানববন্দন তারা করে নি। মূলত পৌরসভার মানববন্ধন ভন্ডুল করার জন্যই তাদের তৎপরতা চালাতে দেখা যায়। তবে সেখানে এক সংক্ষিপ্ত পথসভায় বক্তব্য দেন যুবলীগ নেতা রুহুল কুদ্দুস, ছাত্রলীগের সহসভাপতি মাসুদ মন্ডল এবং ছাত্রলীগ নেতা রনি মালিথা।
প্রসঙ্গত, ঈশ্বরদীতে ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ ডিলু ও তার জামাতা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ঈশ্বরদী পৌরসভার মেয়র আবুল কালাম আজাদ মিন্টুর পারস্পরিক দ্বন্দ্বে এখন মামলা-পাল্টা মামলার হিড়িক পড়েছে। জামাই-শ্বশুর দ্বন্দ্বে একের পর এক পাল্টাপাল্টি মামলায় এখন ঈশ্বরদীর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের শতাধিক নেতাকর্মী গ্রেফতার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। ঈশ্বরদীতে আওয়ামী লীগের দলীয় অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব নিয়ে গত এক মাসে পাঁচটি মামলায় দলেরই শতাধিক নেতাকর্মী আসামি। আরো ‘অজ্ঞাতনামা’ আসামির সংখ্যাও অন্তত অর্ধশত। আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষের ঘটনায় আরো মামলা আছে।
থানা সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ গত ২ জুলাই রাতে ঈশ্বরদী পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি ও ঈশ্বরদী পৌরসভার মেয়র আবুল কালাম আজাদ মিন্টুকে প্রধান আসামি করে ১৮ জনের নামে পুকুরের মাছ লুটের অভিযোগে থানায় মামলা করেছেন ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ ডিলুর সমর্থক ঈশ্বরদী পৌর যুবলীগের সভাপতি আলাউদ্দিন বিপ্ল¬ব। এ মামলার বাকি আসামিদের মধ্যে রয়েছেন উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুবায়ের বিশ্বাস, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক শরিফুল হাসান আরিফ, পৌর আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক সানোয়ার হোসেন, পৌর যুবলীগের সাবেক সভাপতি সানোয়ার হাসেন লাবু, পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মহিদুল ইসলাম রকি, ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি রবি মোল্লাসহ ২০-২৫ জন।
এর আগে গত ১লা জুলাই ঈশ্বরদী শহরের মধ্যঅরনকোলা নিবাসী মকবুল হোসেন চুন্নু মেয়র মিন্টু সমর্থক উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি জুবায়ের বিশ্বাস, কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আরাফাত রাসেলসহ সাতজনের নামে থানায় মামলা করেছেন। ছাত্রলীগ সভাপতির বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার লিখিত এজাহারে বাদী মকবুল হোসেন চুন্নু অভিযোগ করেন, গত ২৯ জুন দুপুরে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে আসামিরা বাড়িতে প্রবেশ করে এবং ভাঙচুর করে এক লাখ ২০ হাজার টাকার ক্ষতি সাধন করে।
গত ১৮ মে বাড়িতে মন্ত্রী পুত্র শিরফান শরীফ তমালের নেতৃত্বে মিন্টু সমর্থক কয়েকজন নেতা ও কর্মীর বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুুবায়ের বিশ্বাসের বাবা আতিয়ার রহমান বিশ্বাসসহ আরো দুই জন বাদী হয়ে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি শিরহান শরিফ তমালসহ ৩২ জনকে আসামি করে থানায় ৩টি মামলা করেন। এই মামলায় ভূমিমন্ত্রীর ছেলে শিরহান শরীফ তমালসহ যুবলীগ-ছাত্রলীগের ১১ জনকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। ঈদের আগে তাদের জামিন হয়েছে। জামিন পাওয়ার পর প্রভাব খাটিয়ে এখন পৌর মেয়র ও তাঁর সমর্থকদের বিভিন্ন ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা একর পর এক দায়ের হচ্ছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ