ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশনে সহিংসতা

আপডেট: নভেম্বর ৩০, ২০২৩, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ

নিরাপত্তার গুরুত্ব বিবেচিত হয়েছিল?
ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশন স্টেশনে আবারো সহিংস ঘটনা ঘটেছে। সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত খবর অনুয়ায়ী ঈশ্বরদী স্টেশনের ওয়াশফিটে আগে থেকে দাঁড়িয়ে থাকা সিক্স ডাউন মেইল ট্রেনের বগির পাঁচটি আসন দুর্বৃত্তরা পুড়িয়ে দিয়েছে। সোমবার (২৭ নভেম্বর) রাত ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় পরদিন মঙ্গলবার থানায় মামলা হয়েছে। বিএনপি ও সমামনা দলগুলোর ডাকা হরতাল-অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের এটি তৃতীয় ঘটনা। এর আগে ১ নভেম্বর ঈশ্বরদীতে কোলকাতা-ঢাকা পথে চলাচলকারী মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনে ভাংচুর ও ‘হাতবোমা’ নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এরপর ৩ নভেম্বর সকালে স্টেশনের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রেনের নিচ থেকে একটি বোমা উদ্ধার করে তা নিষ্ক্রিয় করে র‌্যাব।

২৭ নভেম্বরের সহিংস ঘটনা প্রসঙ্গে ঈশ্বরদী রেলওয়ের দায়িত্বশীলরা বলেছেন, কয়েকজন দুর্বৃত্ত মুখবাঁধা অবস্থায় ওই ট্রেনের একটি বগিতে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে স্টেশনের নিরাপত্তা কর্মি ও পুলিশ ধাওয়া করেও দুর্বৃত্তদের ধরতে পারেননি। রেলওয়ে নিরাপত্তা সদস্যদের বরাত দিয়ে খবরে বলা হয়েছে, তারা বুঝে ওঠার আগেই ঘটনাটি এত দ্রুত ঘটেছে যে ট্রেনের সিটে দাউ দাউ করে আগুন ধরে যায়।

ঈশ্বরদী রেলওয়ে স্টেশনের দায়িত্বশীলরা কতটা দায়িত্বশীল তাদের বক্তব্যের মাধ্যম তা প্রকাশ করেছেন। ১ নভেম্বরের ঘটনার পর রেলওয়ে স্টেশনের নিরাপত্তার বিষয়টি যে মোটেও গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হয়নি তা সহজেই অনুমান করা যায়। সংশ্লিষ্টদের দায়সারা গোছের কথা ঘটনার দায় থেকে নিজেদের রক্ষা করার বিষয়টিই স্পষ্ট হয়েছে। সংবাদ মাধ্যমের তথ্যমতে রেলওয়ে স্টেশনের সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, দুর্বৃত্তরা মুখোশ পরিহিত ছিল, তারা ট্রেনের বগিতে উঠে আগুন দিয়েছে এবং সেখান থেকে দ্রুত পালিয়ে গেছে।

অথচ তাদের তাউকে ধরা গেল না! দায়িত্ব অবহেলার বিষয়টি আরেকটু পরিষ্কার হয়েছে ঈশ্বরদী রেলওয়ে স্টেশনের সুপারের কথায়। তিনি বলছেন, ‘রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে না গেলে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারতো।’ অর্থাৎ তারা সাফল্য দেখানোর মত ধৃষ্টতাও দেখাচ্ছেন। বড় ধরনের ক্ষতি থেকে রেলওয়েকে বাঁচাতে পেরে তারা ধন্য হয়েছেন। অথচ ১ নভেম্বরের সহিংস ঘটনার পর থেকেই রেলওয়ের নিরাপত্তার বিষয়টিকে অধিক গুরুত্ব দেয়ার কথা। কিন্তু নিরাপত্তার বিষয়টি সেভাবে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে বলে মনে হয় না। গুরুত্ব দেয়া হলে ট্রেনে আগুন দেয়া বন্ধ করা যেতে পারতো।

তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। তদন্তে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে- সেটাই প্রত্যাশিত। সংশ্লিষ্টদের গাফলতি থাকলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।