উচ্চআদালতে আপিল করবে সিফাতের পরিবার

আপডেট: মার্চ ৫, ২০১৭, ১:১৫ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক



আত্মহত্যার প্ররোচনার দায়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ওয়াহিদা সিফাতের মৃত্যুর ঘটনায় তার স্বামী আসিফের ১০ বছরের কারাদ-ের রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চআদালতে আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন তার বাবা আমিনুল ইসলাম খন্দকার। গতকাল শনিবার বিকেলে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির ছোট মিলনায়তনে সিফাত হত্যার রায়-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তথ্য জানান।
সিফাতের বাবা বলেন,  ‘আসিফ লন্ডনে পড়াশোনা করে বলে সিফাতের সঙ্গে প্রতারণা করে বিয়ে করে। পরে সেটা জানাজানি হলেও আসিফ শুধরায় না। উল্টো ব্যবসার জন্য আমাদের কাছে ২০ লাখ টাকা চায়। আমরা দিতে অস্বীকার করলে সিফাতের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে। এভাবে প্রায়ই সিফাতের ওপর নির্যাতন করা হতো বলে সিফাত আমাদের জানিয়েছিল। কিন্তু এর বেশ কিছুদিন সিফাত মারা যায়।’
সিফাত আত্মহত্যা করে নি দাবি করে আমিনুল ইসলাম খন্দকার বলেন, ‘সিফাতের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতো তার স্বামী। সিফাত যেদিন মারা যায়, সেদিন আমরা খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে তার শ্বশুর পক্ষের কাউকেই পাই না। সিফাতের নামে-মুখে প্রচুর রক্ত দেখি, থুতনিতে ও মাথার পেছনে বড় জখম দেখে বুঝতে পারি সিফাতকে হত্যা করা হয়েছে।’
ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন বিষয়ে সিফাতের বাবা বলেন, ‘প্রথম ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে হত্যাকারীরা ষড়যন্ত্র করে ডাক্তারের যোগসাজোসে সিফাত আত্মহত্যা করেছে বলে উল্লেখ করে। সেই রিপোর্ট বিশ্বাসযোগ্য না হওয়ায় কোর্টের নির্দেশে দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্ত করা হয়। সেই ওই ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে সিফাতকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রমাণ পাওয়া যায়। তখন আদালত আসামিদের জেল হাজতেও পাঠায়। কিন্তু তারা জামিনে মুক্তি পায়। পরে সেই মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরিত হয়।’
আদালতের রায়ে সন্তুষ্ট নয় উল্লেখ করে সিফাতের বাবা বলেন, ‘মামলার শুনানিকালে আসামিপক্ষ সিফাত আত্মহত্যা করেছে মর্মে কোনও সাক্ষ্য প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারে নি। এছাড়া সিফাতকে হত্যা করা হয়েছে এমন সকল তথ্য প্রমাণ আদালতে পেশ করা হলেও রায়ে আত্মহত্যার প্ররোচনার দায়ে স্বামী আসিফকে ১০ বছরের কারাদ- দিয়েছেন।  বাকি তিন আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে। এ রায়ে আমরা সংক্ষুদ্ধ ও সন্তুষ্ট নই। ফলে রায়ের কপি হাতে পেলেই আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করব।’
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, সিফাতের ছোট ভাই আসিফ উল ইসলাম, সিফাতের সহপাঠী মোস্তাফিজ গনি ও মাহমুদুল হাসান প্রমুখ।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ২৯ মার্চ সন্ধ্যায় রাজশাহী মহানগরীর মহিষবাগান এলাকায় আইনজীবী হোসেন মোহাম্মদ রমজানের বাড়িতে রহস্যজনক মৃত্যু হয় গৃহবধূ ওয়াহিদা সিফাতের। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। প্রথমে সিফাত আত্মহত্যা করেছেন বলে শ্বশুরবাড়ির লোকজন দাবি করলেও দ্বিতীয় দফার ময়নাতদন্তে হত্যাকা- প্রমাণিত হয়।
এ ঘটনায় ২ এপ্রিল মহানগরীর রাজপাড়া থানায় সিফাতের চাচা মিজানুর রহমান খন্দকার বাদি হয়ে সিফাতের স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ির নাম উল্লেখ করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২০০০ ধারায় যৌতুকের দাবিতে হত্যা ও সহায়তা করার অভিযোগে একটি মামলা করেন।
২০১৬ সালের ২৩ মার্চ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আহম্মেদ আলী চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
আসিফ ছাড়া এই মামলার অন্য আসামিরা হলেন, সিফাতের শ্বশুর হোসেন মোহাম্মদ রমজান, শাশুড়ি নাজমুন নাহার নজলী ও প্রথম ময়নাতদন্তারী চিকিৎসক জোবাইদুর রহমান।-বাংলা ট্রিবিউন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ