উত্তরবঙ্গে বঙ্গবন্ধু

আপডেট: আগস্ট ৬, ২০২০, ১২:১০ পূর্বাহ্ণ

আনারুল হক আনা


বঙ্গবন্ধুর রাজশাহী সফর: ১৯৫৩
১৯৫৩ সালে বঙ্গবন্ধুর উত্তরবঙ্গ সফর ছিল জানুয়ারিতে। ১৯৫২ সালের ২ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া চিনে শান্তি সম্মেলনে যোগদানের উদ্দেশ্যে আতাউর রহমান, তফাজ্জল হোসেন মানিকসহ বঙ্গবন্ধু ২৪/২৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা হতে রওনা হন। চিন থেকে ফিরে আবারো সাংগঠনিক তৎপরতা শুরু করেন। প্রত্যেক জেলা সদর ও কয়েকটি বড় মহকুমায় জনসভার আয়োজনের কর্মসূচি প্রণয়ন করেন। কর্মসূচি প্রণয়নের পর যথা সময়ে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ঢাকায় আসেন। তাঁকে নিয়ে বঙ্গবন্ধু পূর্ববঙ্গব্যাপি সফর শুরু করেন। উত্তরবঙ্গ সফর শুরু করেছিলেন ১৯৫৩ সালের জানুয়ারিতে। এ সফরে বঙ্গবন্ধু নাটোরে আগমন করলেও রাজশাহী আসার স্পষ্টতা নেই। অসমাপ্ত আত্মজীবনী গ্রন্থের তথ্যানুসারে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী নাটোর থেকে রাজশাহী এসেছিলেন। গ্রন্থটিতে বঙ্গবন্ধু উল্লেখ করেন, “সিলেট থেকে শুরু করে দিনাজপুর এবং বগুড়া থেকে বরিশাল প্রত্যেকটা জেলাই আওয়ামী লীগ কর্মীরা সভার আয়োজন করেছিল। একমাত্র রাজশাহীতে জনসভা হয় নাই, তবে নাটোরে হয়েছিল। রাজশাহীতে তখনও জেলা কমিটি করতে আমি পারি নাই। রাজশাহীর অনেক নেতা নাটোরে শহীদ সাহেবের সাথে সাক্ষাৎ করলেন এবং তাঁকে রাজশাহী নিয়ে গেলেন, সেখানে বসে আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠান গড়া হল। এই সময় প্রায় প্রত্যেকটা মহকুমায় ও জেলায় আওয়ামী লীগ সংগঠন গড়ে উঠেছে।”
১৯৫৩ সালের ৯ জানুয়ারির আজাদেও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর রাজশাহী আগমনের আগাম সংবাদ পাওয়া যায়। ওই দিনের আজাদ ৪র্থ পৃষ্ঠায় ৩য় কলামে ‘জনাব সোহরাওয়ার্দ্দীর রাজশাহী আগমন’ শিরোনামে একটা ছোট প্রতিবেদন ছাপে। রাজশাহী থেকে প্রতিবেদনটি পাঠানো হয়েছিল ৪ জানুয়ারি। প্রতিবেদনটি ছিল-
সোহরাওয়ার্দ্দীর রাজশাহী আগমন
রাজশাহী, ৪ঠা জানুয়ারী।-
‘জিন্না আওয়ামী লীগের নেতা জনাব এস, এইচ, সোহরাওয়ার্দ্দী নাটোর হইতে মোটর যোগে আগামী ২৭ জানুয়ারী রাজশাহী আগমন করিবেন এবং উক্ত দিনে এক জনসভায় বক্তৃতা করিবেন বলিয়া জানা গিয়াছে।’
প্রতিবেদনটিতে জনসভা হওয়ার আগাম সংবাদ দিলেও অসমাপ্ত আত্মজীবনী গ্রন্থের তথ্যানুসারে জনসভা হয়নি। তবে আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন হয়েছিল।
১৯৫৩ সালের নভেম্বরে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ও বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আলোচনা করে টাকা সংগ্রহের উদ্দেশ্যে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী পূর্ব পাকিস্তান থেকে করাচি যান। তারপর ভাসানী ও বঙ্গবন্ধু উত্তরবঙ্গে সফরে বের হন। তাঁরা জেলা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে নমিনেশন প্রদানের বিষয়ে আলোচনা করেন। এ সফরে কোনো নির্দিষ্ট স্থানের নাম পাওয়া যায়নি।