উত্তরবঙ্গে বঙ্গবন্ধু

আপডেট: আগস্ট ৮, ২০২০, ১২:০৩ পূর্বাহ্ণ

আনারুল হক আনা


বঙ্গবন্ধুর রাজশাহী সফর: ১৯৬৪
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ৫ ডিসেম্বর বৈরুতে ইন্তেকাল করেন। ৭ ডিসেম্বর তাঁর লাশ করাচি নিয়ে আনা হয় এবং করাচির প্যাটেল পার্কে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। ৮ ডিসেম্বর সকাল ১০.১৭ টায় তাঁর লাশ নিয়ে পিআইএ বিমান ঢাকা বিমান বন্দরে (তেজগাঁ বিমান বন্দর) অবতরণ করে। সেখানে বঙ্গবন্ধু ও অনেক নেতাসহ লাখ লাখ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। বিমান বন্দর থেকে নিয়ে আসা হয় হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে। দুপুর ২.৩০ টায় পাঁচ লাখ লোকের উপস্থিতিতে রেসকোর্স ময়দানে (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) জানাযার পর শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হকের কবরের পাশে তাঁকে দাফন করা হয়। বঙ্গবন্ধু সেদিন উচ্চস্বরে কেঁদেছিলেন ও তাঁর মহান রাজনৈতিক শিক্ষকের মৃত্যুর জন্য আইয়ুব খানকে দায়ী করেছিলেন।
নেতার মৃত্যুতে অনেকটা রাজনৈতিক অভিভাবকহীন হয়ে পড়া সত্ত্বেও বঙ্গবন্ধু মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায়ে সক্রিয় থাকেন। ১৯৬৪ সালের ২৫ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে অনুষ্ঠিত এক সভায় আওয়ামী লীগকে পুনরুজ্জীবিত করা হয়। এই সভায় দেশের প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের ভোটের মাধ্যমে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তনের দাবি সাধারণ মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায় সংবলিত প্রস্তাব গৃহীত হয়। সভায় মাওলানা আব্দুর রশীদ তর্কবাগীশ ও শেখ মুজিবুর রহমান যথাক্রমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। তারপর বঙ্গবন্ধুকে অধিকার আদায়ের জাগরণ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে দেশব্যাপী সফর শুরু করতে দেখা যায়।
১৯৬৪ সালের ২৮ এপ্রিল বুধবার দৈনিক আজাদ পত্রিকার ৬ষ্ঠ পৃষ্ঠার ১ম কলামে ‘জনাব মুজিবর রহমানের রাজশাহী সফর’ শিরোনামে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজশাহী সফরসূচি ছাপা হয়। সংবাদ প্রতিবেদনে লিখা হয়, “আগামী ৭ই ও ৮ই মে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জনাব শেখ মুজিবর রহমান সহ কতিপয় নেতৃবৃন্দ রাজশাহী সফরে আগমন করিবেন বলিয়া জানা গিয়াছে।” ১৯৬৪ সালের মে মাসের ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ৮, ৯, ১০ ও ১২ তারিখের আজাদ পত্রিকায় বঙ্গবন্ধুর উত্তরাঞ্চল সফরের যে সংবাদ পাওয়া যায়, তাতে রাজশাহী শহরে তাঁর অবস্থান বা জনসভার বিষয়ে স্পষ্টভাবে উল্লেখ নাই। তবে স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তিরা বলছেন, ১৯৬৪ সালের জনসভায় বঙ্গবন্ধু উপস্থিত ছিলেন। (চলবে)
লেখক :শিক্ষা শ্রমিক, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন