উত্তরাঞ্চলের সংকট নিরসনে বিশেষ শিডিউলে চলবে বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্র

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২১, ১:২৭ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


গ্রীষ্ম মৌসুম, সেচ ব্যবস্থা এবং রমজান মিলিয়ে উত্তর অঞ্চলের বিদ্যুৎ সংকট সামাল দিতে বড় পুকুরিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্র চালাতে বিশেষ শিডিউল করেছে সরকার। কয়লার স্বল্পতার কারণে কেন্দ্রটির তিনটি ইউনিটের মধ্যে মাত্র একটি ইউনিট আংশিক চালানো সম্ভব হবে। বাকি দুটি ইউনিট সারা বছরই বসে থাকবে। পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসাইন এক উপস্থাপনায় জানিয়েছেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বছরের ৩৫৪ দিন চালানোর একটি শিডিউল তৈরি করা হয়েছে। এরমধ্যে গ্রীষ্ম, সেচ ও রমজানের সময় ১০৯ দিনের জন্য খানিকটা বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। বাকি ২৪৫ দিন উৎপাদন কমিয়ে আনা হবে।
পিজিসিবি সূত্র বলছে, উত্তরাঞ্চলের চাহিদার তুলনায় কম উৎপাদন হওয়ায় বিদ্যুতের যোগান অন্য এলাকা থেকে সরবরাহ করতে হয়। এটি করতে গিয়ে রংপুর এবং রাজশাহী অঞ্চলে লো ভোল্টেজ দেখা দেয়। এ কারণে ওই অঞ্চলের জন্য একটি একক (একমাত্র) বিদ্যুৎকেন্দ্র হলেও বড়পুকুরিয়া কেন্দ্রটিকে চালিয়ে রাখা জরুরি হয়ে পড়ে।
মোহাম্মদ হোসাইন বলেন, ‘ গত ১২ জানুয়ারি থেকে আগামী ৩০ এপ্রিল— এই ১০৯ দিন কেন্দ্রটি ১৮০ থেকে ২০০ মেগাওয়াট করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে, এমন কয়লার যোগান রয়েছে। এ জন্য প্রতি দিন ১ হাজার ৯৫০ মেট্রিক টন করে কয়লা সরবরাহ করা হচ্ছে। এই সময়ের জন্য মোট ২ লাখ ১২ হাজার ৫৫০ মেট্রিক টন কয়লার প্রয়োজন হবে। এখন কোল ইয়ার্ডে কয়লা মজুত রয়েছে ১ লাখ ২২ হাজার ৫৩৪ মেট্রিক টন। এছাড়া ৩১ মার্চ পর্যন্ত কয়লা সরবরাহ হবে আরও ১ লাখ ২৫ হাজার ৬৯৩ মেট্রিক টন। এছাড়া ১ মে থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ১৬০ থেকে ১৮০ মেগাওয়াট লোডে কেন্দ্রটি চালানো হবে। তখন দৈনিক কয়লার প্রয়োজন হবে এক হাজার ৮০০ মেট্রিক টন। এরপর ১ নভেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কেন্দ্রটি চালানো হবে ১৫০ থেকে ১৭০ মেগাওয়াট লোডে। তখন কয়লার প্রয়োজন হবে দৈনিক ১ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন।’
তিনি জানান, বড় পুকুরিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রের মোট উৎপাদন ক্ষমতা ৫২৫ মেগাওয়াট। এরমধ্যে ১২৫ মেগাওয়াট করে মোট ২৫০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার দুটি কেন্দ্র আগেই বড় পুকুরিয়াতে ছিল। এর বাইরে নতুন করে আরও একটি ২৭৫ মেগাওয়াটের তৃতীয় ইউনিট নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু তিনটি ইউনিটের মধ্যে প্রথম দুটি ইউনিট সারা বছরই বন্ধ থাকে। তৃতীয় ইউনিটটিও সারা বছর গড়ে অর্ধেক বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে না।
নাম প্রকাশ না করে পেট্রোবাংলার একজন কর্মকর্তা বলেন, বড়পুকুরিয়াতে নতুন ইউনিট নির্মাণের আগেই আমরা চিঠি দিয়ে সতর্ক করেছিলাম যে, এখানে কেন্দ্র নির্মাণ করলে চালানোর জন্য কয়লা পাওয়া যাবে না। কিন্তু আমাদের কথা না শুনে পিডিবি কেন্দ্রটি নির্মাণ করায় এখন বছরজুড়েই তা বসে থাকে। এখানে আমাদের কোনও দায় নেই। তিনি জানান, কেন এ ধরনের অলস বিনিয়োগ করা হলো, এ নিয়ে কারও মাথা ব্যথাও নেই।
পিডিবি’র সূত্র বলছে, আমদানি করা কয়লা দিয়ে চালানোর কোনও উদ্যোগও বড়পুকুরিয়া কেন্দ্রে ফলপ্রসূ হওয়ার নয়। বাংলাদেশে এখন জলপথে বিদেশ থেকে কয়লা আমদানি করা হয়। কয়লার বিশাল জাহাজ দক্ষিণ থেকে উত্তরে যাওয়ার মতো নাব্য নদীতে নেই। এছাড়া বড়পুকুরিয়া পর্যন্ত কোনও রেল লাইনও নেই, তাছাড়া দেশে কখনও রেল ওয়াগনে কয়লা পরিবহন করা হয় না। ফলে এই অঞ্চলে কয়লা না পাওয়া গেলে ভবিষ্যতেও বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্রকে এভাবেই অলস বসে থাকতে হবে।
তথ্যসূত্র: বাংলাট্রিবিউন