উত্তরায় পুড়ল তিন ভবন, দুই লাশ উদ্ধার

আপডেট: জুলাই ৪, ২০১৭, ১২:৪৯ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


ঢাকার উত্তরায় পাশাপাশি তিনটি ভবন ভয়াবহ আগুনে পুড়ে গেছে; এর মধ্যে একটি আবাসিক হোটেল থেকে দুই জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) মেজর এ কে এম শাকিল নেওয়াজ জানান, সোমবার ভোর ৫টার দিকে উত্তরার রাজলক্ষ্মী ভবনের বিপরীত দিকে রাস্তার পূর্বপাশে ৪ নম্বর সেক্টরে চারতলা সি-শেল রেস্তোরাঁর তিনতলায় প্রথম আগুন লাগে। পরে তা পাশের ছয়তলা সি-শেল আবাসিক হোটেল ও তার পাশের এ কে টাওয়ারে ছড়িয়ে পড়ে।
ফায়ার সার্ভিসের ১৬টি ইউনিট সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় বলে নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কর্মকর্তা মাহামুদুল হক জানান।
উত্তরা পূর্ব থানার ওসি নূরে আলম সিদ্দিক জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর সি-শেল আবাসিক হোটেলে তল্লাশি চালিয়ে চতুর্থ তলার ৩০২ নম্বর কক্ষ থেকে দুইজনের মৃতদেহ উদ্ধার করেন ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা।
ওই থানার এসআই সুমন শিকদার জানান, নিহতদের মধ্যে একজনের সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তার পরিচয় তারা জানতে পেরেছেন।
মো. রাসেল মিয়া নামের ৩৫ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি ঢাকায় প্রাণ আরএফএল গ্রুপে কাজ করতেন। তিনি চাঁদপুরের হাইমচড়ের নূর মোহাম্মদের ছেলে; ঢাকায় থাকতেন পল্লবীর এক বাসায়।
তার সঙ্গে একই কক্ষ থেকে আনুমানিক ২৫ থেকে ৩০ বছর বয়সী এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে তার পরিচয় পুলিশ জানতে পারেনি।
ভেতরে আরও কেউ আছে কি না জানতে চাইলে ফায়ার সার্ভিস শাকিল নেওয়াজ বলেন, “হোটেলের মালিক দাবি করেছিল, ভেতরে কেউ আটকা নাই। তারপরও দুইজনকে পাওয়া গেছে। হতাহত অন্য কাউকে এখন পর্যন্ত আমরা দেখিনি।”
ফায়ার সার্ভিসকর্মীরা আসার পর সি শেল রেস্তোরাঁতেও কোনো কর্মচারীকে দেখা যায়নি বলে জানান তিনি।
“কর্মচারীরা আগুন নেভানোর চেষ্টা করেনি। পুলিশের কাছে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসকর্মীরা আসে। তার আগেই তারা সবাই পালিয়ে যায়।”
ক্ষতিগ্রস্ত তিন ভবনের মধ্যে মাঝখানের চার তলা ভবনের পুরোটা জুড়ে ছিল সি-শেল রেস্তোরাঁ। ওই ভবনের পুরোটাই পুড়ে গেছে।
তার উত্তরের ছয় তলা ভবনটির চতুর্থ তলা থেকে ষষ্ঠ তলা পর্যন্ত ছিল সি-শেল হোটেল অ্যান্ড রেসিডেন্স। আর তৃতীয় তলায় ছিল পার্টি সেন্টার। ভবনটি নিচতলায় রয়েছে একুশে সুইটস অ্যান্ড বেকারি এবং রহিম আফরোজের একটি আউটলেট আর দোতলায় আইসিবি ইসলামিক ব্যাংকের কার্যালয়।
শাকিল নেওয়াজ জানান, আগুনে সি-শেল হোটেল ও পার্টি সেন্টার বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দক্ষিণ দিকের এ কে টাওয়ারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সি-শেল রেস্তোরাঁর মালিক আমানউল্লাহ আমান নামের এক ব্যবসায়ী। তিনি পাশের ভবনের একটি অংশ ভাড়া নিয়ে আবাসিক হোটেল চালাচ্ছিলেন। ছয় তলা ওই ভবনের মালিক উত্তরখান থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু হানিফ।
আবু হানিফের স্ত্রী ইসমে আরা হানিফ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমাদের চার তলা থেকে ছয় তলা ভাড়া দিয়েছি আমানুল্লাহ আমানের কাছে। তিনিই হোটেল চালাচ্ছিলেন। আমাদের ভবনে অগ্নি নির্বাপনের সব ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু ভবনে আমাদের কোনো কর্মচারী ছিল না।”
উত্তরা পূর্ব থানার এসআই সুমন শিকদার জানান, রাতে তার ওই এলাকায় ডিউটি ছিল। আগুন লাগার খবর জানতে পেরে তিনি ঘটনাস্থলে যান এবং ফায়ার সার্ভিস, তিতাস গ্যাসসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে খবর দেন।
এ কে টাওয়ারের ব্যবস্থাপক আলাউদ্দিন বলেন, খবর পাওয়ার পরে তিনি এসে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের আগুন নেভাতে দেখেন। কীভাবে আগুন লেগেছে সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।
ফায়ার সার্ভিস কর্মীরাও তাৎক্ষণিকভাবে অগ্নিকাণ্ডের কারণ বা ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ জানাতে পারেননি।
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ