উদবৃত্ত বিল নিতে দিতে হচ্ছে ২০০ টাকা! প্রাথমিকের সহকারি শিক্ষকদের

আপডেট: মে ২৪, ২০২২, ১২:৩৭ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষকদের ১৫ মাসের বয়েকা (উদবৃত্ত) বিল দেওয়ার ঘোষণা এসেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে। তবে এই বিল নিতে গুনতে হচ্ছে ২০০ টাকা করে। বোয়লিয়া থানা এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে সহকারি শিক্ষকদের থেকে ২০০ টাকা করে উত্তোলন করছেন দু’জন শিক্ষক। এনিয়ে সহকারী শিক্ষকরা অসন্তষ প্রকাশ করেছেন।

জানা গেছে- নগরীর বুধপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাসুদুন্নবী কামরান ও হরিজন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ইশরাত হামিদ এই টাকাগুলো উত্তোলন করছেন। তারা বোয়ালিয়া এলাকার মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে গিয়ে ২০০ টাকা করে নিচ্ছেন সহকারী শিক্ষকদের থেকে। এই টাকা কেউ দিচ্ছেন; আবার কেউ দিচ্ছেন না। তবে কি কারণে টাকাগুলো নেওয়া হচ্ছে বিষয়টি পরিস্কার নয় কোনো সহকারি শিক্ষক।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে- রাজশাহী নগরীর বোয়ালিয়ায় ৬০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহকারী শিক্ষক রয়েছেন প্রায় ৪১২ জন। তাদের সবার থেকে ২০০ টাকা হারে উত্তোলন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এসব শিক্ষকরা ১৩ তম গ্রেডের ১৫ মাসের বয়েকা এরিয়ার (উদবৃত্ত) বিল পাবেন। সহকারী শিক্ষকরা ২০২০ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২১ সালের ৩১ মে পর্যন্ত এই বিল পাবেন বলে জানা গেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন শিক্ষিকা জানান, ‘আমাকে ২০০ টাকা দিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু আমি দেয়নি। আমি তো পাবই ৩০০ থেকে সাড়ে ৩০০ টাকা। আমি টাকা দিতে পারবো না।’ এসময় টাকা উত্তোলন করা শিক্ষক জানায়- ‘যে টাকা দেবে, সেই টাকা (উদবৃত্ত বিল) পাবে; যে দেবে না সে টাকা পাবে না।’

বিয়ষটি নিয়ে বুধপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাসুদুন্নবী কামরানের মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি রিসিভ করেননি। এবিষয়ে হরিজন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ইশরাত হামিদ জানান, ‘এটি অফিসিয়াল ব্যাপার; আমরা কাউকে বলতে বাধ্য নয়।’

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক সমিতি রাজশাহী নগরের সভাপতি সুমন কুমার তরফদার জানান, ‘বিষয়টি আমরা কয়েকজন শিক্ষকের থেকে শুনেছি। বিস্তারিত জানা যায়নি।’

বিষয়টি নিয়ে বোয়ালিয়া থানা শিক্ষা অফিস শামিম আহম্মেদ খান জানান, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে আপনি জানালেন বিষয়টি আমি দেখবো।’

এবিষয়ে রাজশাহী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আবদুস সালাম জানান, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে বোয়ালিয়া থানা শিক্ষা অফিসারকে আমি বিষয়টি জানাচ্ছি। তাকে বিষয়টি দেখতে বলছি। কেউ অভিযোগ দিলে ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।’

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ