উদ্ধারকৃত বিস্ফোরক যেত কুমিল্লায় দুই মামলা দায়ের, কারাগারে প্রেরণ

আপডেট: মার্চ ৩০, ২০১৭, ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


নগরীতে উদ্ধারকৃত সাড়ে চার কেজি বিস্ফোরক দ্রব্য ঢাকা হয়ে কুমিল্লায় যেত। এরপর সেগুলো দিয়ে শক্তিশালী বোমা তৈরি করা হতো। সেসব বোমা ব্যবহার করা হতো দেশকে অস্থিতিশীল করতে। গতকাল বুধবার সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা এ ধরনের তথ্য জানিয়েছেন। এছাড়া গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী ও বিস্ফোরক আইনে পৃথক দুইটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গত সোমবার রাত ১১টার দিকে নগরীর শিরোইলে পুরাতন বাস টার্মিনাল এলাকা থেকে বিস্ফোরক দ্রব্যসহ দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের তথ্যের ভিত্তিতে গত মঙ্গলবার বিস্ফোরকের সরবরাহকারীকেও গ্রেফতার করা হয়। তবে গত দুইদিন তাদের কারোরই নাম-ঠিকানা প্রকাশ করা হয়নি।
তবে মামলা দায়েরের পর গতকাল বুধবার তিন জনেরই নাম প্রকাশ করেছে পুলিশ। প্রথমে আটক দু’জন হলেন, কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার আকুইশা গ্রামের শফিকুর রহমানের ছেলে আবদুল লতিফ (৩৫) ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার বারিকবাজার গাজিপুর গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে সাকিরুল ইসলাম (৩৪)। ঢাকাগামী একটি বাস থেকে বিস্ফোরকসহ এদের হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়।
আর বিস্ফোরকের সরবরাহকারী হিসেবে পরে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি হলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চাঁদলাই গ্রামের তরিকুল ইসলামের ছেলে ফরহাদ হোসেন (২৮)। এই তিন জনের বিরুদ্ধে গতকাল পুলিশ বাদি হয়ে নগরীর বোয়ালিয়া থানায় দুটি মামলা দায়ের করেছে। একটি মামলা সন্ত্রাসবিরোধী আইনে, অন্যটি বিস্ফোরকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে।
সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা বোয়ালিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মতিউর রহমান জানান, গ্রেপ্তার তিন আসামিকে বুধবার রাজশাহী মহানগর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলাটি তদন্ত করছেন নগরীর মালোপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই নাসির আহমেদ। তিনি আসামিদের ১০ দিন করে রিমান্ডের আবেদন করেছেন। তবে আবেদনের শুনানি হয়নি।
এসআই মতিউর জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা জানিয়েছেন, বিস্ফোরক দ্রব্যগুলো ঢাকা হয়ে কুমিল্লা যেত। সেসব বিস্ফোরক দিয়ে বোমা বানিয়ে তা নাশকতার কাজেই ব্যবহার করা হতো। তবে আসামিরা কোনো জঙ্গি সংগঠনের সদস্য কী না তা তারা পুলিশকে জানায়নি। এ বিষয়টি নিশ্চিত হতে পরবর্তীতে তিনিও আসামিদের আলাদাভাবে রিমান্ডের আবেদন করবেন।
এদিকে মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, যাত্রীবাহী বাসে আসামি আবদুল লতিফ ও সাকিরুল ইসলামের কাছে মোট সাড়ে ৪ কেজি ৫৪০ গ্রাম বিস্ফোরক দ্রব্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে পটাশিয়াম ক্লোরাইড দুই কেজি ৩৪০ গ্রাম, সালফার দেড় কেজি ও লেড অ্যাজাইড ৭০০ গ্রাম। এসব বিস্ফোরক দ্রব্য দিয়ে খুবই শক্তিশালী বোমা বানানো যায়।