উন্নতজাতে সমৃদ্ধ হবে মহিষ পালন রাজশাহীতে মাসে সাড়ে ৩৭ হাজার লিটার দুধ উৎপাদন

আপডেট: ডিসেম্বর ৬, ২০২১, ১২:৫৭ পূর্বাহ্ণ


নিজস্ব প্রতিবেদক:


মহিষ পালনে কিছুটা হলেও মিটছে মাংস ও দুধের চাহিদা। সমৃদ্ধির লক্ষ্যে মহিষের জাত উন্নতকরণের জন্য কৃত্রিম প্রজনন ছাড়াও উন্নত জাতের মহিষ আমদানির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সম্প্রতি ভারত থেকে ‘মুররাহ’ জাতের মহিষ দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন প্রাণিসম্পদ সংশ্লিষ্টরা।

রাজশাহী প্রাণিসম্পদ অধিফতরের একটি সূত্র জানায়- রাজশাহী জেলায় ১১৯টি মহিষের খামার রয়েছে। তাতে ১১ হাজার ৩৪২টি মহিষ লালন-পালন করা হয়। এসব মহিষ থেকে প্রতিদিন ১ হাজার ২৫০ লিটার দুধ উৎপাদন হয়। সেই হিসেবে মাসে দুধের উৎপাদন দাঁড়ায় ৩৭ হাজার ৫০০ লিটার।

সূত্র জানায়, রাজশাহীতে সবচেয়ে বেশি পদ্মার চরে মহিষ লালন-পালন হয়। চরে ১০০টির বেশি মহিষের খামার রয়েছে। এগুলো চরআষাঢ়িয়াদহ, মধ্যচর, চরখিদিরপুর উল্লেখ্য। অন্যদিকে, মহিষ পালনে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে গোদাগাড়ী উপজেলা। একেকটি খামারে ৮ থেকে ১০টি মহিষ রয়েছে। মহিষ লালন-পালন লাভজনক হওয়ায় অনেকেই এই পেশায় ঝুঁকছেন ।
মহিষ পালন প্রকল্পের প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সুব্রতকুমার সরকার জানান, ‘গোদাগাড়ীতে দুই হাজারের বেশি মহিষ লালন-পালন করা হচ্ছে। মহিষ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় দ্বিতীয় পর্যায়ে কৃত্রিম প্রজননসহ গবাদি পশুর সার্বিক উন্ন্য়নে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। প্রতিদিন একটি দেশি মহিষ ২ থেকে ৩ লিটার দুধ দেয়। তিনি বলেন, মহিষের কৃত্রিম প্রজননে নতুন জাত থেকে প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ লিটার দুধ পাওয়া যাবে।’

গোদাগাড়ীর প্রেমতলীর খামারি রুবেল হোসেন জানান, ‘এলাকার বেশির ভাগ বাড়িতে দেশি জাতের মহিষ লালন-পালন করা হয়। একটি মহিষ বছরে একবার বাচ্চা দেয়। মহিষ ৬ মাস পর্যন্ত দুধ দেয়। প্রতিদিন একটি মহিষ থেকে ৩ লিটার দুধ পাওয়া যায়। এই দুধ ৬০ টাকা লিটার দরে বাজারে বিক্রি হয়।

তিনি আরো জানান, এখন পদ্মাচর ও মাঠে ঘাস রয়েছে। তারপরেও চালের কুঁঁড়া, খৈল, ফিডস মিলে ১০০ থেকে ১৫০ টাকার খাবার লাগে। খাবারের সঙ্কট হয় ভাদ্র ও অগ্রহায়ণ মাসে। বৃষ্টি বা বন্যায় সব তলিয়ে থাকে। তখন প্রতিটি মহিষের খাবার খরচ কয়েকগুন বেড়ে যায়। এছাড়া মহিষের গোবরে জ্বালানি, মাছের খামারে ও জমিতে সার হিসেবে ব্যবহার করা হয়।’

মহিষের রাখাল মনিরুল জানান, ‘আমাদের ১৪টির মধ্যে ৫টি মা মহিষ। মহিষের বাচ্চা ৯ থেকে ১০ মাস বয়সে বিক্রি করা হয়। আমাদের এলাকায় মহিষ অনেক কিন্তু অনেকেই মহিষ পালন সম্পর্কে জানে না। উপজেলায় প্রাণিসম্পদ অফিসে যাওয়ার সময় হয় না। তবে মহিষ পালনে প্রশিক্ষণের প্রয়োজন। মহিষের সংখ্যা বৃদ্ধি, দুধের উৎপাদন বৃদ্ধি, জাত উন্নয়ন, পশুদের রোগ ও চিকিৎসা সম্পর্কে প্রশিক্ষণ প্রয়োজন।’

মহিষ পালককারী মনসুর আলী বলেন, ‘শুনেছি কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে নতুন জাতের মহিষ পাওয়া যাবে। যে মহিষ থেকে ১০ থেকে ১২ লিটার দুধ পাওয়া যাবে। খুব ভালো হবে। তাছাড়াও সরকার যদি একটু নজর দেন তাহলে মহিষ পালনে আরও সুবিধা হত। কারণ, মহিষের রোগ সম্পর্কে আমাদের ধারণা কম। তাই অনেক সময় অসুস্থ হয়ে মারা যায় মহিষ।

মহিষ উন্নয়ন প্রকল্প (২য় পর্যায়)-এর প্রকল্প পরিচালক ডা. মো. মহসিন তরফদার জানান, সরকার মাংস ও দুধের চাহিদা পূরণের লক্ষে ভারত থেকে ‘মুররাহ’ প্রজাতির ১৬০টি মহিষ আনার পরিকল্পনা করছে। মুররাহ জাতের মহিষ বছরে ৩০০ দিন পর্যন্ত দুধ দিতে অভ্যস্ত। গড়ে এরা প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ কেজি দুধ দেয়। বাইরে থেকে এ জাতের ষাঁড় এনে ক্রস ব্রিডিংয়ের (প্রজনন) মাধ্যমে বেশি দুধ উৎপাদনকারী মহিষের বংশবিস্তার করা হবে। পাশাপাশি এখন যে মহিষ রয়েছে, সেগুলোর স্বাস্থ্যের উন্নয়ন ঘটানো হবে। গোদাগাড়ীসহ বিভিন্ন জায়গায় মহিষ পালনের জন্য প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে।

মহিষ পালন প্রকল্পের প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সুব্রতকুমার সরকার জানান, ‘মহিষ উন্নয়ন প্রকল্পের (২য় পর্যায়) মাধ্যমে সরকার মহিষ খামারসহ দেশের মোট ২০০টি উপজেলায় বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এরমধ্যে গোদাগাড়ী উপজেলায় কৃত্রিম প্রজননের পদ্ধতি প্রয়োগ শুরু হয়েছে। কয়েকটি মহিষ থেকে বাচ্চা হয়ে গেছে। সেগুলো ভালো আছে।’