উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ জাতির এই শুভ-সংহতি অটুট থাক

আপডেট: মার্চ ১, ২০২১, ১২:১৯ পূর্বাহ্ণ

মুজিববর্ষে আরো এক পালক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মুকুটে শোভিত হলো। তাঁর নেতৃত্বেই বাংলাদেশ উন্নয়নের এক অনন্য মাত্রা লাভ করলো। স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে জাতিসংঘের চূড়ান্ত সুপারিশ পেয়েছে বাংলাদেশ।
জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি বা ইউএন-সিডিপির চেয়ার টেফারি টেসফাসো শুক্রবার রাতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। নিউ ইয়র্কে সিডিপির পাঁচ দিন ব্যাপী ত্রিবার্ষিক পর্যালোচনা সভা শেষে এই ঘোষণা আসে। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশসহ দেশের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়েছে।
গৌরবের এই অর্জনের প্রতিক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাঙালি বীরের জাতি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন, কেউ দাবায়ে রাখতে পারবা না। কেউ দাবায়ে রাখতে পারেনি। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি বাংলাদেশ পেয়েছে। বাংলাদেশের জন্য এ উন্নয়ন এক ঐতিহাসিক ঘটনা। শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি। সঠিক নেতৃত্ব পেলে বাঙালি জাতির অদম্য চেতনাকে যে, দাবিয়ে রাখা যায় না বঙ্গবন্ধুর উদ্ধৃতি দিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে নির্বিচার হত্যা, ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে জাতিকে দাবিয়ে রাখা যায়নি স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর সঠিক ও অদম্য ধারার নেতৃত্বে জাতি ও দেশকে এক অনন্য মাত্রায় নিতে সক্ষম হয়েছেন। নেতৃত্বের এই ধারা যদি অব্যাহত থাকে তা হলে উন্নত বিশ্বের কাতারে বাংলাদেশ প্রবেশ করবে অচিরেই তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
জাতিসংঘের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো দেশ পরপর দুটি ত্রিবার্ষিক পর্যালোচনায় উত্তরণের মানদ- পূরণে সক্ষম হলে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের চূড়ান্ত সুপারিশ পায়। বাংলাদেশ দ্বিতীয় বারের মতো মানদ-গুলো অর্জন করেছে। ১৯৭৫ সাল থেকে স্বল্পোন্নত দেশের কাতারে থাকা বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে সিডিপির সব শর্ত পূরণ করে ২০১৮ সালে।
সিডিপি তিনটি সূচকের ভিত্তিতে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের বিষয়টি পর্যালোচনা করে। তিনটি সূচকেই বাংলাদেশ শর্ত পূরণ করে অনেক এগিয়ে গেছে।
উন্নয়নশীল দেশ হতে একটি দেশের মাথাপিছু আয় হতে হয় কমপক্ষে ১২৩০ মার্কিন ডলার, ২০২০ সালে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ছিল ১৮২৭ ডলার।
মানবসম্পদ সূচকে উন্নয়নশীল দেশ হতে ৬৬ পয়েন্টের প্রয়োজন; বাংলাদেশের পয়েন্ট এখন ৭৫.৩।
অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা সূচকে কোনো দেশের পয়েন্ট ৩৬ এর বেশি হলে সেই দেশকে এলডিসিভুক্ত রাখা হয়, ৩২ এ আসার পর উন্নয়নশীল দেশের যোগ্যতা অর্জন হয়। সেখানে বাংলাদেশের পয়েন্ট এখন ২৫ দশমিক ২। বাংলাদেশের সঙ্গে নেপাল ও লাওসও উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের সুপারিশ পেয়েছে। নেপাল ২০১৮ সালেই দ্বিতীয়বারের মতো উত্তরণের মানদ- অর্জন করে। তবে ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে তাদের সময় লেগে যায়।
বাংলাদেশের এই নেতৃত্ব, নেতৃত্বগুণে এই সাফল্য জাতিকে বিশ্ব নেতৃত্বের দৃঢ়ভিত্তির গভীরে নিয়ে যাবে সেই প্রত্যাশা রইল। জাতির এই শুভ-সংহতি অটুট থাক।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ