উন্নয়নের ছোঁয়া নেই বটতুলী আদিবাসী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, শ্রেণিকক্ষ সঙ্কটে পাঠদান ব্যাহত

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১৭, ১২:০২ পূর্বাহ্ণ

একে তোতা, গোদাগাড়ী



১৯৭১ সালে বটতুলী আদিবাসী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপিত হয়। বিদ্যালয়টির শুরু থেকেই তিনটি শ্রেণিকক্ষ রয়েছে। প্রতিষ্ঠার সময় বিদ্যালয়ে ১২০জন শিক্ষার্থী থাকলেও ২০১৭ সালে বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪৩৮ জন। শিক্ষার্থী বাড়লেও শ্রেণিকক্ষ তিনটি রয়ে গেছে। তাই শিক্ষার্থীরা ঠাসাঠাসি করে বসে ক্লাস করে। এতে করে পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুল বারী বলেন, তিনটি শ্রেণিকক্ষ বিশিষ্ট ভবনটি ১৯৯৫ সালে পূর্ণ নির্মাণ করা হয়। কিন্তু অল্প দিনের মধ্যেই ভবনটি নষ্ট হতে থাকে। জরাজীর্ণ এই ভবনটির শ্রেণি কক্ষেই গরম ও বর্ষায় শিক্ষার্থীদের বসে ক্লাস করতে অনেক সমস্যা হয়। শ্রেণি কক্ষে ঠাসাঠাসি করে বসে থাকার কারণে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি মাঝে মধ্যে কমে যাচ্ছে। বিদ্যালয়টিতে ৭ জন শিক্ষকের পদে রয়েছে মাত্র ৪ জন শিক্ষক।
সহকারী শিক্ষক শহিদুল বলেন, একটি শ্রেণিকক্ষে ৫০ জন শিক্ষার্থী বসার ব্যবস্থা রয়েছে। অথচ একটি প্রথম শ্রেণিতে ৭৯ জন, ২য় শ্রেণিতে ৭১ জন, ৩য় শ্রেণিতে ১০৫ জন, ৪র্থ শ্রেণিতে ৭১ জন, ও ৫ম শ্রেণিতে ৬১ জন বসে ক্লাস করে। আর শিশু শ্রেণির ৫১ জন গাছের নিচে মাটিতে বসে রোদ বৃষ্টির মধ্যে ক্লাস করে আসছে।
সহকারী শিক্ষক আরো বলেন, শ্রেণি কক্ষে আসনের চেয়ে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী থাকার কারণে পাঠদান করাতে অনেক সমস্যা সৃষ্টি হওয়ায় পরীক্ষার ফলাফলে এর বিরুপে প্রভাব পড়ছে।
এ প্রসঙ্গে বিদ্যালয়টির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি তৌহিদুল ইসলাম বলেন, শ্রেণিকক্ষ সঙ্কট দূর করতে নতুন ভবন নির্মাণ করা জরুরি। ভবন নির্মাণের জন্য আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু গত ৬ বছরেও ভবন নির্মাণে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করে নি প্রশাসন।
এ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রাখী চক্রবর্তী বলেন, বটতুলী আদিবাসী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন নির্মাণের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
জাতীয় আদিবাসী পরিষদের রাজশাহী জেলা সাধারণ সম্পাদক সুষেন কুমার স্যান্দুয়াল বলেন, বটতুলী গ্রামে আদিবাসী অধ্যাসিত হওয়ায় ১৯৭১ সালে বিদ্যালয়টির নামকরণ করা হয় বটতুলী আদিবাসী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠার সময় আদিবাসী শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বেশি থাকলেও বর্তমানে মাত্র ৩০ জন শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে রয়েছে। আদিবাসী নেতা আরও বলেন, বরেন্দ্র অঞ্চলের মধ্যে আদিবাসীদের নামে একমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলেও বিদ্যালয়টিতে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগে নি। তিনি শিক্ষক সঙ্কট দূর ও নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানান।