উন্মোচিত এক হত্যাকাণ্ডে জড়ানোর অভিযোগ সংখ্যালঘু পরিবারকে।। উচ্চতর তদন্তের দাবি

আপডেট: এপ্রিল ২৬, ২০১৭, ১২:৪২ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


চাঁপাইনবাবগঞ্জে দুই শিশু সুমাইয়া খাতুন ও মেহজাবিন আক্তার হত্যার ঘটনায় আসামি লাকী আক্তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানিয়েছেন, তিনি স্বর্ণালংকারের লোভে হত্যা করেছেন। তিনি একা এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত ছিলেন। কিন্তু উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সেই মামলায় এক সংখ্যালঘু পরিবারকে জড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
চাঁপাইনববাবগঞ্জ সদর এলাকার মজিদপাড়ার বাসুদেব চন্দ্র ঘোষ গত সোমবার রাজশাহী প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে জানান, ১২ ফেব্রুয়ারি চাঁঁপাইনবাবগঞ্জে দুই শিশু সুমাইয়া খাতুন (৭) ও মেহজাবিন আক্তারকে (৬) হত্যা করা হয়। হত্যার দুই দিন পর লাশ পাওয়া যায় প্রতিবেশী লাকী আক্তারের বাড়িতে। লাকী আক্তারের মেয়ে ইমন ছিল সুমাইয়া ও মেহজাবিনের সহপাঠী আর খেলার সঙ্গী। এরপর লাকী গ্রেফতার হয় এবং আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানান, তিনি নিজে ওই দুই শিশুকে হত্যা করেছেন স্বর্ণালংকারের লোভে। শিশু দুইটির গলায় ও কানে স্বর্ণের গহনা ছিলো। হত্যার পর স্বর্ণালংকার যে জুয়েলারি দোকানে লাকী বিক্রি করেছিলেন সেই দোকানের মালিককেও পুলিশ গ্রেফতার করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আরো গ্রেফতার করা হয়েছে ঘটনাস্থল থেকে এক কিলোমিটার দূরের বাসিন্দা বাসুদেব চন্দ্র ঘোষের ভাইয়ের মেয়ে গীতারানীকে (১৭)। পরে থানায় তাকে দেখতে গেলে গীতারানীর বাবা সম্ভু ঘোষকেও পুলিশ গ্রেফতার করে। বাসুদেব চন্দ্র ঘোষ অভিযোগ করেন, ওই হত্যাকাণ্ডের মোটিভ উদঘাটিত। আসামি শনাক্ত। তবুও সন্দেহের বশে গ্রেফতার করা হয়েছে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের দুই জনকে। যারা এখনে কারাগারে রয়েছেন।
বাসুদেব চন্দ্র ঘোষ সংবাদ সম্মেলন থেকে পুলিশের উচ্চতর তদন্ত দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যেই হত্যাকাণ্ডের সকল রহস্য উন্মেচিত। তারপরও সংখ্যালঘু একটি পরিবারকে হয়রানি করা হচ্ছে। উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত হলে নিশ্চিতভাবেই গীতা ও তার বাবা যে এ ঘটনার সাথে কোনোভাবেই যুক্ত নয় তা বেরিয়ে আসবে।’ সংবাদ সম্মেলন থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পুলিশের আইজি ও রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজির আশু হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ