উপচার্যদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি অভিযোগ উচ্চশিক্ষা কি আঁধারে ঢাকছে?

আপডেট: অক্টোবর ১, ২০১৯, ২:০৪ পূর্বাহ্ণ

শিক্ষার্থীদের প্রবল আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করেছেন গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য খোন্দকার নাসিরউদ্দিন। এর আগে তার বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগের প্রমাণ পেয়ে গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের (ভিসি) ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিনকে প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তদন্ত কমিটি। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে নিয়েই কেবল সমস্যা নয়Ñ সমস্যাটা আরো অনেক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের নিয়ে। এ ক্ষেত্রে একটি প্রশ্ন চলেই আসে যে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে হচ্ছেটা কী? সেখানে কি শিক্ষার পরিবেশ আদৌ আছে? এ নিয়ে উদ্বিগ্ন নানা মহল। শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষাবিদ সকলেই উদ্বিগ্ন যে, উচ্চশিক্ষা কি ক্রমশই অধোগতি হচ্ছে? আপাত দৃষ্টিতে বিষয়টি তেমনি মনে হচ্ছে।
সংবাদ মাধ্যমে খবরে এসেছে জাহাঙ্গীরনগর ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ ১৪টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন এসব অভিযোগ আমলে নিয়ে তদন্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দোষি হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
একজন উপাচার্য তাঁর জ্ঞান প্রজ্ঞা দ্বারা বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করবেন, প্রতিটি শিক্ষার্থীর মধ্যে যাতে জ্ঞানের আলো নিশ্চিত হয়- সেই প্রচেষ্টাই তিনি চালাবেন। তিনি আলোর প্রজ্জ্বলনের কাজটি না করে যদি দলবাজি করেন তা হলে জ্ঞানের প্রভা যে নিষ্প্রুভ হয়ে আসে বর্তমান পরিস্থিতি সেটারই ইঙ্গিত দিচ্ছে। উপাচার্যগণ ভুলে বসেন তিনি হাজার হাজার শিক্ষার্থীর অভিভাবক। তিনি নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক দলের শিক্ষার্থী-সমর্থকের অভিভবাবক নন। আরো বিষয় যে, শিক্ষার্থীরাই ভুল করবে, অন্যায় করবে কিন্তু সেটা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিভাবক হিসেবে তিনি রুষ্ট হয়ে, রাগ ও অনুরাগের বশিভুত হয়ে শিক্ষার্থীর সাথে অসাদাচরণ করতে পারেন না। কিন্তু এ ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই এর ব্যত্যয় লক্ষ্য করছি। কখনো কখনো ব্যক্তি উপাচার্য কিংবা তার অধীন দায়িত্বশীল কোনো শিক্ষক শিক্ষার্থীদের কাছে নিজেকে প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করান। এমন আচরণের মধ্যে শিক্ষার পরিবেশ বিপর্যস্থ হওয়ার আলামত লুিকয়ে থাকে।
রাজনৈতিক মতাদর্শ থাকতেই পারে। তার মানে এই নয় যে, একজন উপাচার্যকে দলবাজির আশ্রয় নিতে হবে। এটা শিক্ষা-সম্পর্কের সাথে যায় না। কয়েক উপাচার্যের শারীরিক ভাষা রাজনৈতিক মাস্তানদের মত মনে হয়- এটা খুবই উদ্বেগজনক। এর ফলে ব্যক্তির অযোগ্যতাই ফুটে উঠে। উপাচার্য নিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন করে ভাবনার সময় এসেছে। যোগ্যতার নিরীখেই যোগ্য লোকটিকেই উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। নতুবা অযোগ্য- অসহিষ্ণু- অজ্ঞান ব্যক্তিরা উপাচার্য হলে যে শিক্ষার চমম সর্বনাশ করতে পারে তা বর্তমান পরিস্থিতিই বলে দেয়। অতএব সময় থাকতেই সাবধান হওয়া বাঞ্ছনীয়। নতুবা শিক্ষা ঘোর অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ