উপসর্গে মৃত ১০ জন করোনা পজেটিভ

আপডেট: July 9, 2020, 12:04 am

তারেক মাহমুদ:


রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে করোনাভাইরাস উপসর্গ নিয়ে মোট ৭০ জন মারা গেছেন। এরমধ্যে মৃত্যুর পর ১০ উপসর্গ রোগির করোনাভাইরাস পজিটিভ রির্পোট পাওয়া যায়। তবে মৃত্যুর সময় উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী দাফন করা হয়েছে।
রাজশাহীতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও মৃত্যুর পাশাপাশি বাড়ছে উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ মার্চ থেকে ৮ জুলাই পর্যন্ত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের করোনাভাইরাসের ২৯ ও ৩০ নম্বর ওয়ার্ড, খ্রিস্টান মিশন হাসপাতাল ও রামেক আইসিইউ এর সকল হিসেব মতে চিকিৎসাধীন করোনার উপসর্গ নিয়ে মোট ৭০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ১০ জনের মৃত্যু-উত্তর পরীক্ষার পরে করোনাভাইরাস পজিটিভ হয়েছে।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য বিভাগ ও জেলা সিভিল সার্জন অফিস থেকে প্রতিদিন কোভিড রোগে আক্রান্ত ও মৃত রোগিদের হিসাব দিলেও উপসর্গে মারা যাওয়া করোনা পজিটিভদের হিসাব দেয় না। এর ফলে উপসর্গে মারা যাওয়া কোভিড রোগিদের হিসাব প্রতিদেনের সরকারি প্রতিবেদনে আসছে না। করোনাভাইরাসের উপসর্গ জ্বর-শ্বাসকষ্ট নিয়ে মারা যাওয়া রোগিদের অধিকাংশই রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনাভাইরাস ওয়ার্ডের রোগী।

এদিকে স্বাস্থ্য পরিচালকের তথ্য মতে, বুধবার (৮ জুলাই) পর্যন্ত বিভাগের আট জেলার মধ্যে ছয় জেলায় মোট মৃতের সংখ্যা ১০৩ জন। এর মধ্যে রাজশাহীতে ১২ জন করোনায় মারা গেছে। এবং জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা এখন ১ হাজার ৩৩৮ জন
জানা গেছে, রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ভাইরোলজি বিভাগে করোনাভাইরাস নমুনা পরীক্ষার জন্য ১ এপ্রিল থেকে প্রথম ল্যাবের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। কিন্তু নমুনার সংখ্যা বেশি হওয়ায় পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে দ্বিতীয় ল্যাব ২০ মে থেকে শুরু হয়। এতে করে বেশি বেশি পরীক্ষায় হওয়ায় আক্রান্তে সংখ্যাও বাড়তে থাকে।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মাহাবুবুর রহমান বাদশা জানান, করোনার বিষয়টি আগে কিছু ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও এখন রূপ বদলে যাওয়ায় অনেক সমস্যা হচ্ছে। এর রূপ দিনে দিনে বদলে গেছে। আর করোনা যত বেশি জটিল হচ্ছে মানুষ ততবেশি অসচেতন থাকছে। এখন দিনে দিনে সচেতনতা কমছে তাই আক্রান্তের সংখ্যা ও মৃত্যুও বাড়ছে।
তিনি বলেন, হাসপাতালের চিৎসকদের আলাদা পরিবেশে থাকা দরকার- সেটা নেই। তাই স্বাস্থ্যকর্মীরাও বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। হাসপাতালে রেড, ইয়ালো গ্রিন কোনো সিগন্যালের পরিবেশ নেই। তা করলে চিকিৎসা ব্যবস্থা ভালো হবে।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. নওশাদ আলী জানান, আমরা প্রথমে অনেক বিষয়ে গুরুত্ব দেয়নি। তাই এখন ফলাফল পাচ্ছি। এখন ভাইরাস অনেকটা ছড়িয়ে গেছে আর দিনে দিনে এর রূপ বদল হচ্ছে। চিকিৎসা সেবায় কর্মরত সকলে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এখন জনসাধারণকেও আরো বেশি সচেতন হতে হবে।

এদিকে করোনায় রামেক হাসপাতালের আওয়াতাধীন ২৯ ও ৩০ নম্বর ওয়ার্ড, খ্রিষ্টান মিশন হাসপাতাল, রামেক আইসিইউ মোট চারটি স্থানে চলছে করোনার সেবা। এখানে রোস্টার ও হোম কোয়ারান্টাইন করে মোট ২৫০ জন চিকিৎসক ইর্ন্টার্নের নেতৃত্বে চিকিৎসা চলছে। কয়েক রোগির স্বজন অভিযোগ করে বলেন, ‘দিনে কয়েকবার শুধু নার্স এখানে কিছু কাজ করে আর চিকিৎসক দূর থেকে একবার কথা বলে চলে যায়। চিকিৎসকের দেখা পাই না। তাঁরা সব সময় তাঁদের নির্ধারিত কক্ষে থাকেন।’
এ সকল বিষয়ে রামেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস জানান, করোনাভাইরাস ইউনিটে যাঁরা ভর্তি হচ্ছে, তাঁদের মধ্যে করোনাভাইরাসের উপসর্গ রয়েছে এমন রোগিদের অনেকে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, অ্যাজমা, কিডনি, লিভারজনিত নানা রোগে ভুগছেন। কিছু দিন থেকে করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর হচ্ছে বেশি।

তিনি জানান, মৃত্যুর পরে রোগির স্বজনরা অনেকে পরীক্ষা না করিয়ে চলে যাচ্ছেন। পরীক্ষার নমুনা নেয়ার পরে বেশি নমুনা থাকায় কিছু সমস্যাও হচ্ছে। তবে আমরা আমাদের যে জনবল আছে তা দিয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।