উপাচার্যহীন রাবিতে স্থবির অবস্থা

আপডেট: এপ্রিল ৬, ২০১৭, ১২:৩৯ পূর্বাহ্ণ

রাবি প্রতিবেদক


রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে উপাচার্য না থাকায় স্থবির হয়ে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রশাসনিক কার্যক্রম। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ড থমকে আছে। গত ১৭ দিন ধরে রাবিতে বিরাজ করছে প্রশাসন শূন্যতা। দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও এখনো উপাচার্য নিয়োগ দেয়া হয়নি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এ বিশ্ববিদ্যালয়টিতে। দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য হিসেবেও কাউকে দায়িত্ব না দেয়ায় কোনোভাবে প্রশাসনিক কার্যক্রম চালিয়ে নেয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তাদের।
গত ১৯ মার্চ উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহম্মদ মিজানউদ্দিন এবং উপউপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী সারওয়ার জাহানের মেয়াদকাল শেষ হওয়ার পর এখনো শীর্ষ এ দুই পদে কাউকে নিয়োগ দেয়া হয় নি। এর আগে ২০০৯ ও ২০১৩ সালেও আগের উপাচার্যের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন উপাচার্য নিয়োগে দীর্ঘসূত্রিতা দেখা গেছে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে।
ক্যাম্পাস সূত্রে জানা গেছে, উপাচার্য ও উপউপাচার্য পদ দুটিতে নিয়োগ পেতে জোর লবিং-গ্রুপিঙে মেতে উঠেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামীপন্থি শিক্ষকরা। ফলে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ দুই পদ শূন্য থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। পরীক্ষার ফল প্রকাশ, পরীক্ষার কমিটি গঠন, মূল সনদপত্র উত্তোলন, ভর্তি কার্যক্রম, ফিন্যান্স কমিটি, একাডেমিক কমিটির সভা, অন্যান্য আর্থিক খাত, বিভিন্ন সভা-সেমিনার আয়োজনের অনুমোদন কাজ থমকে আছে।
সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন শিক্ষা ও গবেষণা এবং চিকিৎসা কাজে দেশের বাইরের যাওয়ার জন্য যেসব শিক্ষক-কর্মকর্তারা ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ (এনওসি) পাওয়ার জন্য আবেদন করেছেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য হিসেবে কাউকে দায়িত্ব না দেয়ায় কোনোভাবে এসব কার্যক্রম চালিয়ে নেয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তাদের। এছাড়া উপাচার্য, উপউপাচার্য পদশূন্য থাকায় অন্য দফতরগুলো নিস্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্টরা চরম বিড়ম্বনায় পড়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাাডেমিক দফতরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মূল সনদপত্র পেতে ১৮০ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন। এর মধ্যে ১৫৩ টি সার্টিফিকেট পুরোপুরি প্রস্তুত, শুধুমাত্র উপাচার্যের স্বাক্ষর না থাকায় দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। বছরের শুরুর দিকে হওয়ায় বেশ কয়েকটি বিভাগের পরীক্ষা কমিটি গঠনের প্রাস্তব অনুমোদন ও ফল প্রকাশ একই কারণে আটকে আছে।
বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের একটি বিভাগ থেকে ২০১৩ সালে ¯্নাতকোত্তর শেষ করেছেন রাফসানি সাদিক। তিনি বলেন, ‘সমাবর্তন না হওয়ায় জরুরী প্রয়োজনে মূল সনদপত্র তুলতে এসেছি। জরুরি ভিত্তিতে ফরম পূরণ, ব্যাংক ড্রাফট করেও ভিসি পদ শূণ্য থাকায় তা পাচ্ছি না। আমি একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করি, এখানে দিনের পর দিন দফতরে দফতরে দৌঁড়ে বেড়ানো তো আমার পক্ষে সম্ভব নয়।’ তার মত আরও অনেকে চরম বিড়ম্বনায় পড়েছেন।
রাবির কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সায়েন উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তাদের ভোগান্তির বিষয়টি মাথায় রেখে, ভিসি প্রো-ভিসির মেয়াদ শেষে আমরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে তিন দফা বার্তা পাঠিয়েছি। কিন্তু নতুন ভিসি, প্রো-ভিসি তো নিয়োগ কিংবা দায়িত্বপ্রাপ্ত হিসেবে কাউকে দায়িত্ব দেন নি। সব ক্ষেত্রে ভোগান্তি হচ্ছে, শীর্ষ দুই পদের পরে আমরা যারা দায়িত্বে আছি, তাদের অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। চাইলে আমরা সব করতে পারি না, ফলে কার্যক্রম প্রায় থমকে আছে।’

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ