উর্ধ্বমুখি কোভিড সংক্রমণ স্বাস্থ্যবিধিতে গুরুত্বারোপ

আপডেট: জুলাই ১, ২০২২, ১২:২৩ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


রাজশাহীতে আবারও উর্ধ্বমুখি মহামারি কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ। দীর্ঘ বিরতির পর গত ২৬ জুন করোনা শনাক্তের পর সংক্রমণ হার পুনরাই বাড়তে শুরু করেছে। বিগত চার দিনে ২৬ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। সর্দি, হাঁচি, কাশি, জ¦রের মতো সাধারণ লক্ষণ নিয়েই করোনা আক্রান্ত হয়েছেন তারা। এমন পরিস্থিতিতে রাজশাহীসহ দেশের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। বাধ্যতামূলক মাস্কের ব্যবহার, সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধিতে গুরুত্বারোপের কথা বলা হচ্ছে।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজের আরটিপিসিআর ল্যাবের তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার (৩০ জুন) রাজশাহী বিভাগে করোনার সংক্রমণের হার ছিলো ১৯ দশমিক ১৫ শতাংশ। মোট ১২৪ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১২ জন করোনা পজিটিভ হয়েছেন। এরমধ্যে সর্বোচ্চ রাজশাহী জেলায় শনাক্ত হয়েছে। ৪৭ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১১ জনের মধ্যে ২ জন, জয়পুর হাটে ৬৬ জনের বিপরীতে একজন করোনা শনাক্ত হয়েছেন।

বুধবার (২৯ জুন) রাজশাহী জেলায় করোনা শনাক্তের হার ছিলো ১৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ। এদিন মোট ৫৫ জনের নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে ৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়। সোমবার (২৭ জুন) ২৪ ঘন্টায় ৪৬ জনের নমুনা পরীক্ষায় ২ জনের করোনা শনাক্ত হয়। যেদিন সংক্রমের হার ছিলো ৪ দশমিক ৩৫।

এছাড়া রোববার (২৬ জুন) আরটি পিসিআর ল্যাবে ৩১ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৩ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এদিন করোনা শনাক্তের হার ছিলো ১০ দশমিক ৭১ শতাংশ।
সংক্রমণ পরিস্থিতিকে সামনে রেখে প্রস্তুত হচ্ছে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল। যদিও এখন পর্যন্ত হাসপাতালে কোন করোনা রোগী ভর্তি হন নি।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী জানান, সংক্রমণ বিবেচনায় ৩০ নম্বর ওয়ার্ডকে করোনা রোগীদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে যেহেতু এখনো করোনা রোগী ভর্তি হয় নি, তাই সাধারণ রোগীদের জন্যই ওয়ার্ডটি ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে উদ্ভুত পরিস্থিতি বিবেচনায় সকল প্রস্তুতি তাদের আছে।

রাজশাহী সিভিল সার্জন ডা. আবু সাঈদ মোহাম্মদ ফারুক জানান, করোনায় আক্রান্তরা প্রত্যেকেই সুস্থ আছেন। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। তারা বাসায় আইসোলেশনে রয়েছেন। তবে সংক্রমণের আবারও উর্ধ্বমুখিনতা নতুন শঙ্কা তৈরি করেছে। একারণে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মানতে বলা হচ্ছে। করোনা টেস্টেও আগ্রহী করা হচ্ছে। তবে রাজশাহীতে ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রম জোরদার করায় পরিস্থিতি খুব বেশি অবনতির শঙ্কা আপাতত দেখা যাচ্ছে না।

তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কোনো বিকল্প নেই।
এদিকে, নতুন করে করোনা সংক্রমণ বাড়লেও রাজশাহীতে মাস্ক পরা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা কিংবা হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহারের তেমন কোনো বালাই নাই। অধিকাংশ সরকারি-বেসরকারি অফিস, আদালত, হোটেল, রেস্তোরাঁ, হাট-বাজার, মার্কেট, দোকানপাটসহ ক্লিনিক-হাসপাতালেও মাস্কের ব্যবহার হচ্ছে না। অনেক প্রতিষ্ঠানের সামনে করোনা উর্ধ্বমুখি পরিস্থিতিতে স্থায়ীভাবে গড়ে তোলা হাত ধোয়ার বেসিনগুলোতেও ময়লা জমেছে।

এ বিষয়ে রাজশাহীর ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মো. শরিফুল হক বলেন, নতুন করে করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধিকে সামনে রেখে গত ২৮ জুন ৬ দফা নির্দেশনা সম্বলিত নোটিশ পেয়েছি। যেখানে বাধ্যতামূলক মাস্কের ব্যবহার, নো মাস্ক; নো সার্ভিস, কোভিড-১৯ টেস্টে উদ্বুদ্ধকরণ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও হাট-বাজারগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি সর্ম্পকে সচেতনতা তৈরির বিষয়ে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে মাস্ক ব্যবহারে গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে। সংক্রমণ রোধে প্রত্যেককে সতর্ক থাকতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ