উল্টো এখন বাংলাদেশ চাপে

আপডেট: অক্টোবর ২২, ২০১৬, ১১:৫৩ অপরাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক
ক্ষণে ক্ষণে রঙ বদলাচ্ছে চট্টগ্রাম টেস্টের। এক ঘণ্টা যদি হয় ইংল্যান্ড, তবে পরের ঘণ্টা বাংলাদেশের। তৃতীয় দিনের শুরু ও শেষের মিলটা অবশ্য ঠিকই থাকলো। দিনের শুরুতে যেমন উৎসব করেছে ইংল্যান্ড, দিন শেষেও মাঠ ছেড়েছে তারা তৃপ্তির হাসি ঠোঁটে নিয়ে। দ্বিতীয় ইনিংসে লিড নিয়েছে তারা ২৭৩ রানের। বেন স্টোকস-জনি বেয়ারস্টোর জুটিতে ইংল্যান্ড তৃতীয় দিন শেষ করেছে ৮ উইকেটে ২২৮ রানে। ৬২ রানে ৫ উইকেট হারানো দলের জন্য এই স্কোরটা তো তৃপ্তিরই!
চাপকে কীভাবে জয় করতে হয়, সেটা খুব ভালো করে বুঝিয়ে দিলেন স্টোকস। টপ অর্ডারের ব্যাটসম্যানরা যে উইকেটে বলই বুঝতে পারেন নি, ঠিক সেখানেই অসাধারণ ব্যাটিংয়ে কঠিন বিপর্যয় থেকে টেনে তুলেছেন ইংল্যান্ডকে। সেই সঙ্গে জনি বেয়ারস্টো, যোগ্য সঙ্গ দিয়ে গেছেন তিনি স্টোকসকে। ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে ১২৭ রান যোগ করে বাড়িয়ে নিয়েছেন তারা দলের স্কোর। অভিষিক্ত পেসার কামরুল ইসলামের বলে বেয়ারস্টো বোল্ড হলে ভাঙে তাদের জুটি। বেয়ারস্টো করেছেন ৪৭ রান। স্টোকস অবশ্য তুলে নিয়েছেন টেস্ট ক্যারিয়ারের সপ্তম হাফসেঞ্চুরি। চমৎকার ব্যাটিংয়ে সেঞ্চুরির দিকেও এগোচ্ছিলেন তিনি, যদিও পারেন নি। সাকিবের বলে এলবিডাব্লিউ হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন ৮৫ রান করে।
তাদের প্রতিরোধের আগে রাজত্ব করেছে শুধুই বাংলাদেশ। স্বাগতিকরা ২৪৮ রানে অলআউট হলে প্রথম ইনিংসে ৪৫ রানে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করে ইংলিশরা। তবে শুরুতেই ধাক্কা। লাঞ্চের আগেই ইংল্যান্ডের টপ অর্ডারের তিন ব্যাটসম্যানকে প্যাভিলিয়নে ফেরান সাকিব-মিরাজরা!
শুরুটা করেন সেই মেহেদী হাসান মিরাজ। প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট পাওয়া এই স্পিনার দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুতে ফিরিয়েছেন অ্যালিস্টার কুককে। ইংলিশ অধিনায়ক তার ঘূর্ণিতে ধরা পড়েন স্লিপে মাহমুদউল্লাহর হাতে। প্রথম ইনিংসে ব্যর্থ কুক এবার আউট হলেন ১২ রানে। ইংলিশ অধিনায়ক আউট হওয়ার পর পরই আবার আঘাত বাংলাদেশের। এবার সাকিব আল হাসানের এলবিডাব্লিউয়ের ফাঁদে পড়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন রুট (১)। খানিক পর আবার সাকিব-জাদু, এবার তার স্পিনে কুপোকাত অভিষিক্ত ডাকেট (১৫)। সাকিবের বল ইংলিশ ওপেনারের ব্যাট ছুঁয়ে পায়ে লেগে উঠে যায় শূন্যে, শর্ট লেগে দাঁড়ানো মমিনুল হক করেন ক্যাচ অনুশীলন। ডাকেটের আউটের পর পরই মধ্যাহ্নভোজে গিয়েছিল দুই দল, ফিরে এসে গ্যারি ব্যালান্সকে আউট করেছেন তাইজুল ইসলাম। ৯ রান করে তিনি ফেরেন ইমরুল কায়েসের তালুবন্দি হয়ে। ভাগ্য এবার আর সহায় হয়নি মঈন আলীর। প্রথম ইনিংসে পাঁচবার রিভিউ-ভাগ্য বাঁচিয়ে দিলেও দ্বিতীয় ইনিংসে ইংলিশ এই ব্যাটসম্যান আউট হয়ে গেছেন দ্রুত। ১৪ রান করা মঈনকে প্যাভিলিয়নে ফিরিয়েছেন সাকিব। তার উইকেটটি হারিয়ে আরও চাপে পড়ে ইংল্যান্ড। ৬২ রানেই যে তখন নেই ইংলিশদের ৫ উইকেট! ম্যাচ তখন বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে। লক্ষ্যটা কতটা কমে রাখা যায়, সেটাই আলোচনায়। টপ অর্ডারের পাঁচ ব্যাটসম্যানকে ফেরানোর পর এমন মনে হওয়াটাও স্বাভাবিক। যদিও দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার পরই দেখা মিলল আসল ইংল্যান্ডের। চাপে চ্যাপ্টা না হয়ে বিপর্যয় কাটানোর মিশনে বুক চিতিয়ে লড়াই শুরু করলেন স্টোকস-বেয়ারস্টো। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে চাপ জয় করে উল্টো চাপে ফেলে দিয়েছেন তারা বাংলাদেশকে। এর আগে তৃতীয় দিনের শুরুতে মাত্র ২৭ রান যোগ করতে বাংলাদেশ হারায় শেষ ৫ উইকেট। ৫ উইকেটে ২২১ রান নিয়ে তৃতীয় দিন শুরু করা স্বাগতিকরা অলআউট হয় ২৪৮ রানে। তাই প্রথম ইনিংসে ইংল্যান্ডের চেয়ে পিছিয়ে থাকে ৪৫ রানে। তৃতীয় দিনের শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। ঠিক যেন দ্বিতীয় দিনের মতো। শুক্রবার দিনের প্রথম বলে আউট হয়েছিলেন ইংল্যান্ডের ক্রিস ওকস। আর গতকাল শনিবার তৃতীয় দিনের দ্বিতীয় বলে আউট হয়ে গেলেন সাকিব আল হাসান! মঈন আলীর বলে উইকেটরক্ষক জনি বেয়ারস্টোর গ্ল্যাভসে ধরা পড়েন সাকিব। আউট হওয়ার আগে করেছেন ৩১। তার আউটে বাংলাদেশ হারায় ষষ্ঠ উইকেট। ধসের শুরুটাও ওখান থেকেই। উইকেট হারানোর মিছিলে সাকিবের পর যোগ দেন শফিউল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ। ‘নাইট ওয়াচম্যান’ হিসেবে নামা শফিউল ২ রান করে আউট হয়েছেন আদিল রশিদের বলে। আর বল হাতে অভিষেক টেস্টে আলো ছড়ানো মিরাজ ব্যাট হাতে করতে পারেন নি কিছুই। মাত্র ১ রান করে বেন স্টোকসের বলে এলবিডাব্লিউ হয়ে ফেরেন প্যাভিলিয়নে। আশার আলো হয়ে তবুও ছিলেন সাব্বির রহমান। মিরাজের মতো তারও যে অভিষেক হয়েছে এই ম্যাচ দিয়ে। ওয়ানডেতে ঝড় তোলা এই ব্যাটসম্যান পাঁচ দিনের ক্রিকেটে কী করেন, সেটাই ছিল তখন দেখার। বিপর্যস্ত বাংলাদেশকে টেনে তোলার দায়িত্বও তখন তার কাঁধে। কিন্তু পারলেন না, অভিষেক টেস্টে পুরোপুরি ব্যর্থ সাব্বির। মাত্র ১৯ রান করে তিনি ফেরেন প্যাভিলিয়নে। বেন স্টোকসের বলে ব্যাটের কানায় লেগে ধরা পড়েন তিনি স্লিপে দাঁড়ানো অ্যালিস্টার কুকের হাতে। তখনই আসলে শেষ হয়ে যায় সব আশা, যার আনুষ্ঠানিকতা ইংল্যান্ড সেরেছে কামরুল ইসলাম রাব্বির উইকেট নিয়ে। তৃতীয় দিনে আউট হওয়া ৫ উইকেটের তিনটিই নিয়েছেন স্টোকস, সব মিলিয়ে ২৬ রানে তার শিকার ৪ উইকেট। আর মঈন আলী ৭৫ রানে নিয়েছেন ৩ উইকেট। এর আগে ইংল্যান্ড তাদের প্রথম ইনিংসে অলআউট হয়েছিল ২৯৩ রানে।-বাংলাট্রিবিউন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ