উল্লাপাড়ায় রংপুর এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত, পুড়েছে ৫টি বগি

আপডেট: নভেম্বর ১৫, ২০১৯, ১:০০ পূর্বাহ্ণ

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি


সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া রেলস্টেশনের আগে লেভেল ক্রসিংয়ে রংপুর আন্তঃনগর এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত হয়ে ইঞ্জিন ও বাগিতে আগুন-সোনার দেশ

গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ২টার দিকে ঈশ্বরদী-ঢাকা রেলপথে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া রেলস্টেশনের আগে লেভেল ক্রসিংয়ে রংপুর আন্তঃনগর এক্সপ্রেসটি লাইনচ্যুত হয়। ট্রেনের ইঞ্জিনটি ছিঁড়ে রেলপথের পাশে উল্টে পড়ে আগুন ধরে যায়। পরে ওই আগুন লাইনচ্যুত আরো ৩টি বগিতে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় ট্রেনের যাত্রীরা দ্রুত জানালার কাচ ভেঙ্গে এবং দরজা দিয়ে বেরিয়ে যায়। ওই সময় বেশ কয়েকজন যাত্রী আহত হন। তাদেরকে স্থানীয় লোকজন বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠিয়েছে। তবে এই দুর্ঘটনায় কোনো যাত্রী মারা যাবার খবর এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (৭,১০মিনিট) পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ট্রেন যাত্রীদেরকে উদ্ধারে সহযোগিতা দেন। দুর্ঘটনায় রেলকর্মীসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়।
রংপুর মিটার গেজের এই এক্সপ্রেসটি ঢাকা থেকে লালমনিরহাট যাচ্ছিল। উল্লাপাড়া লেভেল ক্রসিংয়ের ৫০ মিটার দূরে রেলপথ পরিবর্তনের স্থানে ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়। এতে লাইনচ্যুত ৭টি বগির মধ্যে দুটি বগি মূল রেলপথ থেকে অন্ততঃ ১৫ মিটার দক্ষিণ দিকে চলে যায়। ট্রেনে মোট ১৪টি বগি ছিল। ঘটনার পরপরই উল্লাপাড়া ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দুর্ঘটনা স্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। পরে সিরাজগঞ্জ ও কামারখন্দ ফায়ার স্টেশনের কর্মীরা আগুন নেভানো এবং উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়। উল্লাপাড়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে যাত্রীদের মালামাল সংরক্ষণের জন্য ট্রেনটি ঘিরে ফেলে।
সিরাজগঞ্জ ফায়ার স্টেশনের উপ-পরিচালক মঞ্জিল হক ঘটনাস্থলে জানান, দুর্ঘটনার পর আধা ঘণ্টার মধ্যে আগুন নেভানো সম্ভব হয়েছে। তবে কোনো যাত্রীর মরদেহ ট্রেনে পাওয়া যায়নি। কিছু যাত্রী আহত হয়েছে, তাদেরকে স্থানীয় লোকজন চিকিৎসার জন্য নিয়ে গেছে।
উল্লাপাড়া ফায়ার স্টেশনের স্টেশন অফিসার নাদির হোসেন জানান, দুর্ঘটনার পরে প্রথমে রংপুর এক্সপ্রেসের উল্টে যাওয়া ইঞ্জিনে আগুন ধরে যায় এবং আগুন দ্রুত পার্শ^বর্তী বগিগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। ৩টি বগির শতকরা প্রায় ৬০ ভাগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অপর ২টি বগি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এ ব্যাপারে ঘটনাস্থলে থাকা উল্লাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা জানান, তারা দুর্ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার অভিযান এবং ট্রেন যাত্রীদের নিরাপত্তা বিধান করেন। ঘটনার পরে উল্লাপাড়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান ও পৌর মেয়র এস.এম. নজরুল ইসলাম দুর্ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজে সহযোগিতা করেন।
উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান জানান, ট্রেনের ড্রাইভার সহ ৫/৬ জন রেলকর্মী আহত হয়েছেন। এদের চিকিৎসার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, রেলপথের ত্রুটির কারণে এবং সিগন্যাল ভুলের কারণে ট্রেনটি দুর্ঘটনায় কবলিত হয়। তবে উল্লাপাড়া স্টেশনে দায়িত্বরত সহকারী স্টেশন মাস্টার রফিকুল ইসলাম সিগন্যাল ভুলের বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি জানান, রেলপথের ত্রুটির কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
এ ব্যাপারে পশ্চিম রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় ব্যবস্থাপক মো. মিজানুর রহমান জানান, ট্রেন দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এই মুহুর্তে বলা সম্ভব হচ্ছে না। তবে প্রাথমিকভাবে বিভাগীয় ট্রাফিক কর্মকর্তা (ডিটিও) আব্দুল্লাহ আল মামুনকে প্রধান করে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ফিরোজ মাহমুদকে আহবায়ক করে জেলা প্রশাসন থেকে পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এদিকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টা থেকে উদ্ধারকারী ট্রেন লাইনচ্যুত বগি গুলোকে সেখান থেকে সরিয়ে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করার কাজ শুরু করেছে।
এ দিকে দুর্ঘটনার পর বেলা ২টা থেকে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণ ও উত্তরাঞ্চলের ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। অপরদিকে উল্লাপাড়া লেভেল ক্রসিংয়ে দুর্ঘটনা কবলিত ট্রেনের কয়টি বগি দাঁড়িয়ে থাকায় প্রায় ২ ঘণ্টা পাবনা-বগুড়া ও পাবনা-ঢাকা মহাসড়কে সকল প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ