উৎসবমুখর ছিলো পদ্মাপাড়

আপডেট: জুলাই ২৩, ২০২১, ৯:২৮ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক:


করোনাকালে কয়েক দিনের লকডাউন বিরতির মধ্যে পালিত হলো পবিত্র ইদুল আজহা। ইদ মানে আনন্দ, ইদ মানে উৎসব। করোনা বিষাদের মধ্যেও সেই আবেগ দমিত হয় নি। সংক্রমণ ঝুঁকি বিবেচনায় নগরীর পার্কগুলো বন্ধ থাকলেও বিনোদনের অন্যতম স্পট পদ্মাপাড়জুড়ে ছিলো সৌন্দর্য পিপাসুদের পদচারণা। আর আগত এসব দর্শনার্থীর অধিকাংশের মুখে ছিলো না মাস্ক। স্বাস্থ্যবিধি মানতে খুব কম মানুষকেই দেখা গেছে।
নগরীতে লকডাউন বিরতির প্রথম থেকেই পদ্মাপাড়ে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ছিলো। ইদ ও তার পারের দিন পদ্মার নৈসার্গিক সৌন্দর্যে সকল আবেগ, অনুরাগ, বিনোদন আর ভালোবাসার টানে মনকে সিক্ত করেছিলো ভ্রমণপিপাসুরা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পরও পদ্মা নদীর তীরে বিনোদন পিপাসুদের ভিড় ছিলো। মুখের মাস্ক খুলে নির্মল বাতাসে প্রাণভরে নিঃশ্বাস নিয়েছেন তারা।
শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সের মানুষের কোলাহলে মুখরিত হয়ে উঠেছিল পদ্মা তীরবর্তী গোটা শহর রক্ষা বাঁধ এলাকা। শহরের পঞ্চবটি থেকে বুলনপুর পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার শহররক্ষা বাঁধ ছুঁয়ে থাকা পদ্মারপাড় সবার জন্য হয়ে উঠেছিলো বিনোদনের শ্রেষ্ঠ ঠিকানা।
দীর্ঘ সময় ঘরবন্দি মানুষগুলো উৎসব উদযাপনে যায় পদ্মাপাড়ে। মাঝ নদীতে পানি আছে। আছে স্রোতও। সেই স্রোতের বয়ে চলার মাঝে জীবনের ক্লান্তি ঝেড়ে ফেলছেন রোগশোক আর ক্লান্তিতে থাকা মানুষ। পদ্মার স্রোতের শব্দ আর চাহনিতে খুঁজছেন মানসিক প্রশান্তি।
পদ্মপাড় এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সব জায়গাতে মানুষের জটলা। পদ্মাপাড়ে বাদাম, চটপটি থেকে শুরু করে ফুটপাতের সব দোকানের ব্যবসাও জমজমাট ছিলো। স্বস্তির নিঃশ^াস ফেলছিলেন এই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।
পদ্মা গার্ডেন এলাকার নৌকার মাঝি বাচ্চু মিয়া জানান, দীর্ঘ সময় ধরে বিনোদনের নৌকাগুলো বন্ধ থাকার পর ইদের কয়েকদিন জমজমাট ছিলো। বিশেষ করে ইদের দিন ও তার পরের দিন বিকেলে মানুষের সমাগম ছিলো বেশি। এতে তাদের নৌকার ভাড়াও ভালো ছিলো। পদ্মাপাড়কে ঘিরে যেসব মানুষের জীবকা তারাও এই দুই দিন স্বস্তির মধ্যে কাটিয়েছেন।
নগরীর বায়া থেকে বন্ধুদের নিয়ে পদ্মাপাড়ে ঘুরতে এসেছিলেন সেজাদুল ইসলাম। তিনি বলেন, করোনার কারণে বর্তমানে সব বিনোদনকেন্দ্রই বন্ধ। রাজশাহীর শহিদ এএইচএম কামারুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানাও বন্ধ। তাই তারা পদ্মাপাড়ে ঘুরতে এসেছেন। এখানকার নির্মল বাতাস আর প্রকৃতির সৌন্দর্য মুগ্ধকর। এজন্য বিকেলে তারা পদ্মাতীরে বেড়াতে এসেছেন।
শিশুকে নিয়ে ঘুরতে এসেছিলেন সাইদ-লাইলা দম্পতি। তারা জানান, তার মেয়ের বয়স আট বছর। দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। করোনাকালে সবসময় সে বাসায় সময় কাটায়। আগে প্রতি শুক্রবার তারা ঘুরতে বের হতেন। যে সুযোগ এখন আর নেই। তাই ইদের এ উৎসবকে সামনে রেখে ও মেয়ের বাইনা পূরণ করতেই তারা পদ্মাপাড়ে এসেছেন।
তিনি আরও জানান, বিকেলের পরপরই তারা হাইটেকপার্ক সংলগ্ন পদ্মাপাড়ে এসেছেন। এখানে মেয়েকে নিয়ে নৌকায় চড়েছেন। মেয়েসহ তারাও খুব সুন্দর একটি সময় উপভোগ করেছেন।
এদিকে, লকডাউন বিরতির মধ্যে পদ্মাপাড়ে স্বাস্থ্যবিধি অমান্য করেই দর্শনার্থীদের ভিড় ছিলো। সেখানে পুলিশের উপস্থিতি থাকলেও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিতে তাদের কোনো তৎপরতা দেখা যায় নি