উৎসবে আনন্দে পাবিপ্রবির ১৪ তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন

আপডেট: জুন ৫, ২০২২, ১০:২৮ অপরাহ্ণ

পাবনা প্রতিনিধি:


বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে রোববার (৫ জুন) উদযাপন করা হলো পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস।

দিনটি পালনে এদিন সকাল নয়টায় প্রশাসন ভবন থেকে উপাচার্য অধ্যাপক ড. হাফিজা খাতুনের নেতৃত্বে আনন্দ শোভাযাত্রা বের হয়ে পুরো ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে। শোভাযাত্রা শেষে লেকের পাড়ে স্থাপিত কবি বন্দে আলী মিয়া মুক্তমঞ্চ উদ্বোধন করা হয়।

এরপর বৃক্ষরোপণ, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জম্মশতবর্ষের স্মারক ম্যুরাল ‘জনক জ্যোতির্ময়’ এ শ্রদ্ধাঞ্জলি, শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি ও স্বাধীনতা চত্বরে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হয়। জাতীয় সঙ্গীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন করা হয়। রক্তদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপাচার্য।

খেলার মাঠে নান্দনিক ফ্ল্যাশমব পরিবেশন করেন শিক্ষার্থীরা। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা চত্বরে উপাচার্য অধ্যাপক ড. হাফিজা খাতুনের সভাপতিত্বে শুরু হয় বিশ^বিদ্যালয় দিবসের আলোচনা সভা। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বাংলাদেশের প্রাণ রসায়ন বিজ্ঞানী, জীনতত্ববিদ ও স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. হাসিনা খানকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। পুরস্কৃত করা হয় বিশ^বিদ্যালয়ের কৃতি শিক্ষার্থীদের।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. হাসিনা খান বলেন, বাংলাদেশে বিজ্ঞান শিক্ষায় তুলনামূলকভাবে মেয়েরা বিভিন্ন প্রতিকূলতার কারণে পিছিয়ে আছে। বিজ্ঞান শিক্ষায় মেয়েদের আরো মনযোগী হতে হবে। জীবনে বড় হতে হলে শৃংখলার মধ্যে থাকতে হবে। জীবনের সবক্ষেত্রে চেইন অব কমান্ড মেনে চলতে হবে। চারপাশের পরিবেশ সুস্থ রাখতে ভূমিকা রাখতে হবে।

বিশেষ অতিথি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম মোস্তফা কামাল বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা এই বিশ্ববিদ্যালয়কে সামনের দিকে এগিয়ে নেব।

সাবেক কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আনোয়ার খসরু পারভেজ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, প্রচলিত শিক্ষার বাইরে সহশিক্ষার মাধ্যমে ইতিবাচক সবকিছু আনন্দের সাথে গ্রহণ করে জীবনকে প্রকৃত জ্ঞানের আলোয় আলোকিত করতে হবে। আরো উপস্থিত ছিলেন, ফার্স্ট ক্যাপিটাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হযরত আলী।

সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. হাফিজা খাতুন বলেন, শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়কে জ্ঞানের তীর্থ ভূমিতে পরিণত করেছে। তাদের আবিষ্কার, গবেষণা গর্ব করার মতো। সারাবিশ্বে তারা জ্ঞানের আলো নিয়ে ছড়িয়ে পড়ছে। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেবর বাড়ানোর জন্য আয়তন ১০০ একর করা হবে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সাথে যৌথভাবে বিভিন্ন গবেষণা করা হবে। সংশ্লিষ্ট বিভাগ খোলা হবে। তিনি বিশ^বিদ্যালয়ে প্রাণ রসায়ন বিভাগ খোলার ঘোষণা দেন। যাতে বিশ্বে রোল মডেল হতে পারে এই বিশ^বিদ্যালয় সেই লক্ষ্যে সবাইকে কাজ করার আহবান জানান তিনি।

এদিকে এর আগে কবি বন্দে আলী মিয়া মুক্তমঞ্চ উদ্বোধনের সময় উপাচার্য বলেন, আজ আমাদের অত্যন্ত আনন্দের দিন। পাবনায় এর আগে বড় কোনো স্থাপনা নেই এই কবির নামে। এ সময় তিনি কবির বিখ্যাত কবিতা আবৃত্তি করেন।
এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে বাদ জোহর আয়োজন করা হয় দোয়া মাহফিল। অনুষ্ঠিত হয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ