ঋণখেলাপিদের সুযোগ ফের বাড়লো

আপডেট: নভেম্বর ১৮, ২০১৯, ১:০৫ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


ঋণখেলাপিদের বিশেষ সুবিধা দিতে আবারও সময় বাড়ালো বাংলাদেশ ব্যাংক। খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিলের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন করে আবেদনপত্র নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, পুনঃতফসিলের সুবিধা দিতে ঋণখেলাপিদের আবেদনের সময় আরও ৯০ দিন বাড়ানো হয়েছে। রোববার (১৭ নভেম্বর) কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। ঋণখেলাপিদের বিশেষ সুবিধা দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক এ নিয়ে পাঁচবার সময় বাড়ালো।
তবে এবার বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিলের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন লাগবে। দেশের সব বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীর কাছে পাঠানো এই প্রজ্ঞাপনে বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ঋণখেলাপিদের আবেদনের সময় আরও ৯০ দিন বাড়ানো ছাড়াও ব্যাংক ইচ্ছে করলে ঋণখেলাপিদের নতুন করে ঋণও দিতে পারবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা আছে, ঋণ পুনঃতফসিলের পর গ্রাহকের সঙ্গে সম্পর্কের ভিত্তিতে নতুন করে ঋণ দিতে পারবে ব্যাংক। একইভাবে বিশেষ নিরীক্ষা ছাড়া টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস শিল্পের উদ্যোক্তাদেরও ঋণ দেওয়া যাবে। এর আগে ঋণখেলাপিদের বিশেষ সুবিধা দিতে চারবার সময় বাড়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গত ১৬ মে জারি করা নির্দেশনা অনুযায়ী, খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল করতে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। খেলাপিদের দাবির মুখে সময় বাড়িয়ে দেওয়া হয় সেপ্টেম্বর মাসের ৭ তারিখ পর্যন্ত। পরে আবারও সময় দেওয়া হয় ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। পরে আবারও একমাস সময় বাড়িয়ে ২০ অক্টোবর করা হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ঋণখেলাপিরা মাত্র দুই শতাংশ ডাউনপেমেন্ট দিয়ে ঋণ পুনঃতফসিল করতে পারবেন। পুনঃতফসিল হওয়া ঋণ পরিশোধে তারা সময় পাবেন টানা ১০ বছর। ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিরাও এই সুযোগ পাচ্ছেন। শুধু তাই নয়, এই ধরনের ঋণখেলাপিকে প্রথম এক বছর কোনও কিস্তিও দিতে হবে না। চিহ্নিত এই ঋণখেলাপিদের গুনতে হবে ৯ শতাংশেরও কম সুদ।
প্রসঙ্গত, গত ১৬ মে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে মাত্র ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট ও ৯ শতাংশ সরল সুদে ১০ বছরের জন্য ঋণ পরিশোধের সুযোগ দিয়ে খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিলের বিশেষ নীতিমালা জারি করা হয়। এই সার্কুলার জারি করার পর বিভিন্ন মহলে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিক (জানুয়ারি-মার্চ) সময়ে ব্যাংকগুলো পাঁচ হাজার ৮৩৯ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল করেছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) পুনঃতফসিল করেছে ১৫ হাজার ৪৬৯ কোটি টাকা। প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় দ্বিতীয় প্রান্তিকে পুনঃতফসিলের মাধ্যমে খেলাপি ঋণ নিয়মিত করেছে তিন গুণেরও বেশি।