ঋণখেলাপি কৃষকের কোমরে দড়ি ঘটনার পুনরাবৃত্তি আর নয়

আপডেট: ডিসেম্বর ১, ২০২২, ১:১৯ পূর্বাহ্ণ

ঋণ খেলাপি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে দেশব্যাপি আলোচনায় আসা পাবনার ঈশ্বরদীর ৩৭ কৃষক তাদের সুদসহ ঋণের বাকি টাকা এবং মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।
ঈশ্বরদী উপজেলার ভাড়ইমারী উত্তরপাড়া সবজি চাষী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সদস্য কৃষকদের পক্ষে সভানেত্রী স্থানীয় ইউপি সদস্য বিলবিস নাহার এ সংক্রান্ত আবেদন করেছেন। ২৯ নভেম্বর দুপুরে বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংক লিমিটেড ঢাকার ম্যানেজার বরাবর একটি আবেদনপত্র ব্যাংকটির পাবনা শাখায় জমা দেন। এ সময় পাবনা সমবায় ভূমি উন্নয়ন ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক কাজী জসিম উদ্দিন তার আবেদনপত্র গ্রহণ করেন।
ঋণ ও সুদের টাকা পরিশোধ না করায় ২০২১ সালে ৩৭ জন কৃষকের নামে মামলা করে পাবনা সমবায় ভূমি উন্নয়ন ব্যাংক। সম্প্রতি আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলে শুক্রবার ১২ জন কৃষককে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠায় পুলিশ।
বিষয়টি গণমাধ্যমে আসার পর ব্যাপক আলোচনা, সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে গত রোববার পাবনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এর ভারপ্রাপ্ত বিচারক শামসুজ্জামান গ্রেপ্তার ১২ কৃষক সহ ৩৭ জন কৃষকের জামিন মঞ্জুর করেন।
১২ জন কৃষককে ঋণখেলাপির দায়ে গ্রেপ্তরের ঘটনা উচ্চ আদালতের নজরেও আসে। ২৩ নভেম্বর চেক প্রতারণার এক মামলা সংক্রান্ত আবেদনে পাবনার ১২ কৃষককে কারাগারে পাঠানোর প্রসঙ্গ টানলেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম।
তিনি বলেছেন, ২৫ হাজার টাকার জন্য সাধারণ কৃষকের কোমরে দড়ি বেঁধে টেনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, অথচ যাদের কাছে ২৫ লক্ষ-কোটি টাকা পাওনা, তাদের কিছু হয় না।
ঋণখেলাপের দায়ে ১২ জন কৃষকের গ্রেপ্তারের ঘটনা দেশের ঋণ কার্যক্রমের বৈষম্যই ফুটে উঠেচে। এটার বলার অপেক্ষা রাখে না যে, যারা হাজার কোটি টাকার ঋণ খেলাপি তাদের কিন্তু জেলে যেতে হয় না বরং সরকারের পক্ষ থেকে তাদের অরো প্রণোদনা দেয়া হয়। ঋণের সুদ মাফ করা হয়, অন্যান্য সুযোগও তৈরি করা হয়। তদুপরি দেশে আদায় অযোগ্য ঋণের পরিমাণ বাড়তেই আছে। অথচ কৃষক যারা উৎপাদন ব্যবস্থার সাথে সরাসরি জড়িত আছেন, তারা ঋণ খেলাপি হলে তাদের জেলে যেতে হবে কেন? এ প্রশ্নটি অনেক পুরাতন- কিন্তু কোনো সমাধান হচ্ছে না। বরং ঋণ ব্যবস্থায় এক ধরনের বৈষম্যকে টিকিয়ে রাখা হয়েছে যা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সাথে যায় না। ঋণ খেলাপের জন্য বিদ্যমান যে আইনি ব্যবস্থা আছে সেটা সবার জন্য সমানভাবেই প্রযোজ্য হতে হবে। ধনীরা কৃপা পাবেন আর কৃষক অপমানিত হবেন- এমন চর্চা হতে পারে না। ধনী-গরিব সবার জন্য আইনের প্রয়োগ একই হতে হবে। ঋণখেলাপের দায়ে কৃষককে জেলে যাওয়ার পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে সে ব্যাপারে নিশ্চয়তা থাকতে হবে। ৩৭ কৃষক তাদের সুদসহ ঋণের বাকি টাকা এবং মামলা প্রত্যাহারের যে দাবি জানিয়েছেন সেটিও বিবেচনা করা যেতে পারে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ