ঋণের টাকা পরিশোধের জন্য গরু চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়লো মাদকসেবী,তবে…

আপডেট: মার্চ ৭, ২০১৭, ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ

নাচোল প্রতিনিধি


নাচোল থানা পুলিশকে ঋণ করে ঘুষ প্রদান করে ছাড়া পেয়েছিলেন দুই মাদকসেবী ময়েজ আলী (৬০) ও কেতাবুল ইসলাম (৫০)। কিন্তু সেই ঋণের টাকা পরিশোধ করার জন্য গরু চুরি করতে গিয়ে ময়েজ আলীকে আবার জেলহাজতে যেতে হয়েছে। এমনটি অভিযোগ করেছেন ময়েজের পরিবারের সদস্যরা। তবে পুলিশ বিষয়টি অস্বীকার করেছে।
জানা গেছে, গত রোববার গভীর রাতে নেজামপুর ইউপির জাহিদপুর গ্রামের ঘোষপাড়ার রিপন আলীর বাড়ির গোহালঘরের দরজার চৌকাট খুলে গরু চুরি করার সময় গৃহকর্তা টের পেয়ে টর্চলাইট জ¦ালিয়ে গোহাল ঘরে প্রবেশ করলে দুই চোরের মধ্যে একজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও নাচোল ইউপির ঘিওন উঁচাপুকুর গ্রামের মৃত সাবেদ আলীর ছেলে ময়েজ (৬০) ওই বাড়ির লোকজনের হাতে আটক হয়। খবর পেয়ে নাচোল থানার এসআই জাহাঙ্গীর আলম রাতেই ঘটনাস্থলে গিয়ে আটক ময়েজ আলীর স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে একই ইউপির হাঁকরইল গ্রামের মৃত সালেক মন্ডলের ছেলে বিষু ওরফে দুলালকে (৫২) তার বাড়ি থেকে আটক করেন। তবে গরু চুরি চেষ্টার অভিযোগে গ্রামবাসীর হাতে আটক ব্যক্তিদেরকে দ-বিধির ১৫১ ধারায় জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে এর আগে গত শনিবার বিকেল ৩টার দিকে নাচোল উপজেলার হাঁকরইল গ্রামে স্থানীয়দের অভিযোগে মাদকের আস্তানা থেকে ময়েজ (৬০) ও নাচোল পৌর এলাকার চেয়ারম্যান পাড়ার মৃত জিল্লার রহমানের ছেলে কেতাবুল ইসলামকে (৫০) মদ্যপ অবস্থায় নাচোল থানা পুলিশ আটক করেন। এবং তাদের দুই জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নুরজাহান পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ‘হিস্ট্রী অব অ্যালকোহাল পয়জনিং’ উল্লেখ করে প্রত্যয়ন প্রদান করেন এবং হাসপাতালের রেজিস্ট্রার বহিতে লিপিবদ্ধ করেন। কিন্তু থানা পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা দায়ের বা ভ্রাম্যমাণ আদালতে না নিয়ে রাতভর থানাহাজতে আটকিয়ে রেখে দেনদরবার শেষে প্রত্যেকের নিকট থেকে ৬ হাজার ৫শ টাকা করে ঘুষ নিয়ে ছেড়ে দেন।
এদিকে ময়েজের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করে বলেন, গত শনিবার হাঁকরইল গ্রামে মাদকের আস্তানা থেকে মদ্যপ অবস্থায় ময়েজ পুলিশের হাতে আটক হয়। পরে মামলা থেকে রেহাই পেতে ধার-দেনা করে ৬ হাজার ৫শ টাকা থানা পুলিশকে ঘুষ দিতে হয়েছে। সেই ঘুষের টাকা পরিশোধের জন্যই চুরি করতে গিয়ে ময়েজ ধরা পড়েছে।
নাচোল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফাছির উদ্দিন ঘুষ গ্রহণের বিষয়টি অস্বীকার করলেও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবন্দের তদবিরে দুই মাদকসেবী ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ