ঋণ খেলাপিদের উদ্দেশ্যে আদালতের হুশিয়ারি সর্বক্ষেত্রেই কঠোরভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে

আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২১, ১২:১৮ পূর্বাহ্ণ

খেলাপি ঋণের ব্যাপারে এ দেশে কম বিতর্ক হয়নি। আলোচনা- সমালোচনা তুঙ্গে উঠেছে। কিন্তু প্রকৃত অর্থে বিষয়টির কোনো সমাধান হয়নি। অনেকটা ‘ তেলে মাথায় তেল ঢালা’র চর্চাই এ সমাজে বেশি হয়ে থাকে। নানাভাবেই ঋণখেলাপিরা আইনের বাইরেই থেকে যায়। অথচ একজন প্রান্তিক কৃষককে খেলাপি ঋণের জন্য নানা বিড়ম্বনার সম্মুখিন হতে হয়। কিন্তু দেশের সর্বোচ্চ আদালত আশার সঞ্চার করেছেন- হয়তো এবার ঋণখেলাপিরা রেহায় পাবে না। আদালত ঋণখেলাপিদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দৈনিক সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
২৫ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের কোম্পানি বেঞ্চের বিচারক মোহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের একক বেঞ্চ ঋণখেলাপি ও তাদের আইনজীবীদের উদ্দেশ্য বলেন, ‘আপনারা টাকা তুলে নিয়ে চলে গেছেন। আর যারা পিপলস লিজিংয়ে টাকা জমা রেখেছিল, তারা না খেয়ে রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। পিপলস লিজিংয়ের টাকা জনগণের টাকা, চোর-বাটপারদের টাকা না। আগে টাকা দিন, পরে কথা বলুন। তা না হলে ভেতরে (কারাগারে) ঢুকানো হবে।’
প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য মতে, আর্থিক প্রতিষ্ঠান পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস থেকে ৫ লাখ টাকা এবং তার বেশি ঋণ নিয়ে খেলাপি হওয়া ১৩৭ জনের সশরীরে আদালতে হাজিরা ছিল বৃহস্পতিবার।
অবসায়ন প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকা পিপলস লিজিংয়ের সাময়িক অবসায়ক (প্রবেশনাল লিকুইডেটর) মো. আসাদুজ্জামান খানের দেয়া এ সংক্রান্ত তালিকা দেখে আদালত গত ২১ জানুয়ারি মোট ২৮০ জনকে তলব করেছিলেন। তাদের মধ্যে আদালত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে হাইকোর্টে উপস্থিত হতে বলেন।
তারই আলোকে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত দিনে আদালতে ১৪৩ জনের হাজিরা ছিল। বৃহস্পতিবার বাকিদের হাজিরা ছিল।
সংস্কৃতিটা যদি এমন হয় যে, ঋণ খেলাপি হলেও তেমন কিছু হয় না। এটা- সেটা করে সময় ক্ষেপণ করা যায় এবং নানা অজুহাতে ঋণের সুদমুক্তি পাওয়া কিংবা মওকুফ পাওয়া যায় তাহলে ঋণখেলাপিরা উৎসাহিতই হতে থাকবে। বরং আদালত যে ভাষায় কথা বলেছেন এবং সেটা সত্যিকার অর্থেই বাস্তবায়িত হলে খেলাপি ঋণের হার যে কমে আসবে তা বলাই যায়। শক্ত হাতেই ঋণ খেলাপিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। এবং ঋণের অর্থ সুদসহ আদায় করতে হবে। পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসই শুধু নয় তফসিলি ব্যাংকগুলোতেও ঋণখেলাপির সংখ্যা মোটেও কম নয়। সবার ক্ষেত্রেই পদক্ষেপটা নিতে হবে- যাতে করে খেলাপি ঋণ কঠিনভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। জনগণের অর্থের সুরক্ষা অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ