ঋণ খেলাপী মামলায় ঈশ্বরদীর সেই ৩৭ কৃষকের জামিন

আপডেট: নভেম্বর ২৭, ২০২২, ১১:০৭ অপরাহ্ণ

রোববার দুপুরে পাবনা আদালত চত্বরে ঋণ খেলাপী মামলায় জামিন পাওয়ার পর আদালত থেকে বের হচ্ছেন ২৫ কৃষক

পাবনা প্রতিনিধি:


পাবনার ঈশ্বরদীর চাঞ্চল্যকর ঋণ খেলাপি মামলায় গ্রেপ্তার ১২ জনসহ ৩৭ জন কৃষকের জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার (২৭ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে পাবনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এর ভারপ্রাপ্ত বিচারক মো. শামসুজ্জামান এই আদেশ দেন।
জামিনপ্রাপ্তদের মধ্যে ১২ জন হলেন, উপজেলার ছলিমপুর ইউনিয়নের ভাড়ইমারি গ্রামের মৃত কোরবান আলীর ছেলে কিতাব আলী (৫০), হারেজ মিয়ার ছেলে হান্নান মিয়া (৪৩), মৃত আবুল হোসেনের ছেলে মজনু হোসেন (৪০), শুকুর প্রামানিকের ছেলে আলম প্রামানিক (৫০), মনি মন্ডলের ছেলে মাহাতাব মন্ডল (৪৫), মৃত সামির উদ্দিনের ছেলে নূর বক্স (৪৫), রিয়াজ উদ্দিনের ছেলে আকরাম হোসেন (৪৬), লালু খাঁর ছেলে রজব আলী (৪০), মৃত আখের উদ্দিনের ছেলে আতিয়ার রহমান (৫০), মৃত সোবহান মন্ডলের ছেলে আব্দুল গণি মন্ডল (৫০), কামাল প্রামানিকের ছেলে শামীম হোসেন (৪৫), মৃত আয়েজ উদ্দিনের ছেলে সামাদ প্রামানিক (৪৩)। এই ১২ জন কৃষককে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছিল। বাকি ২৫ জন পলাতক ছিলেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাইদুর রহমান সুমন বলেন, পলাতক ২৫ জন আদালতে আত্মসমর্পন করে জামিন আবেদন করেন। তাদেরসহ কারাগারে থাকা ১২ জনের পক্ষে জামিন আবেদন করা হয়। মামলার বাদি জামিনের বিরুদ্ধে তার জোরালো বক্তব্য তুলে ধরেন। শুনানী শেষে বিচারক মোট ৩৭ জন কৃষকের জামিন মঞ্জুর করেন। আদালতকে আমরা বোঝাতে সক্ষম হয়েছি, যে ধারায় মামলাটি করা হয়েছে তা সঠিক হয়নি।
মামলা সুত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালে ৩৭ জন প্রান্তিক কৃষকের একটি দল পাবনা সমবায় ভূমি উন্নয়ন ব্যাংক থেকে ১৬ লাখ টাকা ঋণ গ্রহণ করে। সেই টাকার মধ্যে জনপ্রতি ২৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ নেন কৃষকরা। পরবর্তীতে সেই ঋনের টাকা কিছু টাকা পরিশোধ করলেও, বেশিরভাগ টাকা বকেয়া থেকে যায়। পরে ঋণ খেলাপির দায়ে ২০২১ সালে ব্যাংকের পক্ষে তৎকালীন শাখা ব্যবস্থাপক সৈয়দ মোজাম্মেল হক মাহমুদ বাদী হয়ে ৩৭ জনের নামে মামলা করেন।
মামলায় গত বুধবার (২৩ নভেম্বর) পাবনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত কৃষকদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। গত শুক্রবার পর্যন্ত পরোয়ানাভুক্ত ৩৭ জনের মধ্যে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।
ভুক্তভোগী কৃষকের পরিবারের দাবি, ঋণ নেওয়ার পর এক বছরের মধ্যে অধিকাংশ কৃষক তাদের ঋণ পরিশোধ করে দিয়েছেন। তার পাশ বই ও জমা স্লিপও রয়েছে। অথচ সেই অর্থ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা জমা না করে আত্মসাৎ করেছেন। ফলে তাদের হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে। আর পলাতক থাকার পর জামিন পাওয়া দু’জন কৃষক বলেন, তারা ৪০ হাজার টাকা করে ঋণ নিয়েছিলেন। ৩০ হাজার টাকার মতো এখনও বকেয়া রয়েছে। অভাবের তাড়নায় পরিশোধ করতে পারেননি।
হয়রানির শিকার কৃষক পরিবারের সদস্যরা গণমাধ্যমকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, গণমাধ্যমের কারণে আজ আমাদের স্বজনরা আইনি সহায়তা পেলেন। তারা প্রধানমন্ত্রী, গণমাধ্যমকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
মামলার বাদী পাবনা সমবায় ভূমি উন্নয়ন ব্যাংকের তৎকালীন শাখা ব্যবস্থাপক সৈয়দ মোজাম্মেল হক মাহমুদ বলেন, কৃষকরা ঋণের টাকা পরিশোধ না করায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে মামলা করা হয়। খেলাপি ঋণ আদায়ে এটা চলমান প্রক্রিয়া। আমরা আমাদের অফিশিয়াল ব্যবস্থা নিয়েছি। তারা তাদের আইনগত সহায়তা পেয়েছেন।

পাবনার পুলিশ সুপার আকবর আলী মুন্সি বলেন, জামিন হওয়ার পরে কৃষকদের সাথে আমি বলেছি। তাদের কাছ থেকে সবকিছু শুনেছি। তারা যাতে হয়রানির শিকার না হন, সেদিকে নজর রাখা হবে।
পাবনার জেলা প্রশাসক বিশ্বাস রাসেল হোসেন বলেন, বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসায় ইতোমধ্যে আমাদের কাছে নির্দেশনা এসেছে কোনো কৃষক যেন হয়রানীর শিকার না হয়। সেজন্য কৃষকদের বিরুদ্ধে কেন মামলা হয়েছে সেগুলো খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেই নির্দেশে কাজ শুরু করেছি। কোন কৃষক যাতে হয়রানির শিকার না হয় সেইলক্ষ্যে সবকিছু জেনে তাদের যতটুকু সহযোগিতা প্রয়োজন করা হবে।
আসামি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন, অ্যাডভোকেট সাইদুর রহমান সুমন, অ্যাডভোকেট কাজী সাজ্জাদ ইকবাল লিটন ও অ্যাডভোকেট মইনুল ইসলাম মোহন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ