ঋণ প্রদানের ফলে অর্থনৈতিক অগ্রগতি তরান্বিত হবে : ডেপুটি গভর্নর

আপডেট: ডিসেম্বর ২৬, ২০১৬, ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি



নাটোরের লালপুর উপজেলার ওয়ালিয়া উচ্চ বিদ্যলয় মাঠে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব) নাটোর জোনের উদ্যোগে জোনের বিভিন্ন শাখার ১০ টাকার হিসাবধারীদের অনুকূলে প্রকাশ্যে ঋণ বিতরণ ও গ্রাহক সমাবেশের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর জনাব এস. কে. সুর চৌধুরী।
ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ আবু আসাদের সভাপতিত্ব আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, প্রধান কার্যালয়ের পরিচালন মহাবিভাগের মহাব্যবস্থাপক সাজাম্মুল ইসলাম, রাজশাহী বিভাগের মহাব্যবস্থাপক রফিকুল আলম চৌধুরী, প্রধান কার্যালয়ের শাখা নিয়ন্ত্রণ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক মাসুদ করিম, ঋণ ও অগ্রিম বিভাগ-২ এর উপমহাব্যবস্থাপক সাইদুর রহমান এবং বাংলাদেশ ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ের ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুসান ডিপার্টমেন্টের উপমহাব্যবস্থাপক রেজাউল করিম সরকার। । অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, নাটোর জোনের জোনাল ব্যবস্থাপক আব্দুর রাজ্জাক, জোনাল নিরীক্ষা কর্মকর্তা জামিল উদ্দিন মন্ডল, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল নাটোর জেলা ইউনিট কমান্ডার আবদুর রউফ সরকার, ওয়ালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান  আনিছুর রহমান, নাটোর জোনের আওতাধীন সকল শাখার ব্যাবস্থাপকসহ কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন শাখার ঋণগ্রহীতা এবং স্থানীয় গণ্যমান্যসহ বিভিন্ন স্তরের ব্যক্তিবর্গ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন, জোনাল কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন মুখ্য কর্মকর্তা এএসএম খবির উদ্দিন আহমেদ।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি এস. কে. সুর চৌধুরী বলেন, দেশের সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য তাদেরকে ব্যাকিং সেবার আওতায় আনার লক্ষ্যে সমাজের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীকে ১০টাকার হিসাব খোলার মাধ্যমে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির আওতায় আনতে হবে। আর এ সকল হিসাবগুলোকে সচল রাখার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় ডাল, মসলা জাতীয় ফসল উৎপাদন, বকনা বাছুর ক্রয়, দুগ্ধ উৎপাদন  প্রভৃতি খাতে সহজ শর্তে এবং স্বল্প সুদে ঋণ প্রদান করতে হবে।
তিনি বলেন, বেশি বেশি ঋণ প্রদানের ফলে এ অঞ্চলের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়বে এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতি ত্বরান্বিত হবে। নাটোর এলাকার অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ এলাকায় মৎস,শস্য, আখ,আলু, আদা, হলুদ,পিয়াজ, রসুন, তরমুজ ,আম, লিচু,পেয়ারা, বরই ইত্যাদিতে ব্যাপক ঋণ প্রদানের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। তিনি তরুণ সমাজকে এসএমই উদ্যোক্তা হবার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সৃজনশীল খাতে বিনিয়োগের লক্ষ্যে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে, তাহলে এ অঞ্চলের উন্নয়ন সাধিত হবে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। রাকাব-এর সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন,সাফল্যের এ ধারা বজায় রাখতে হবে এবং ব্যাংকটিকে আরও উন্নতির দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। তিনি আরও বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের উদ্দেশ্য ছিল সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি,অর্থনৈতিক অগ্রগতিও উন্নয়ন। সকলের ঐকান্তিক সহযোগিতায় আগামীতে সুদিন ও  আলোকোজ্জ্বল দিন আসবে মর্মে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ আবু আসাদ বলেন, কৃষকরাই আমাদের জাতীয় অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। তাই ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে কৃষকরা যাতে কোনরূপ হয়রানির শিকার না হয় সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। ব্যাংক থেকে গৃহীত ঋণের টাকা যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে যথাসময়ে ঋণ পরিশোধে এগিয়ে আসার জন্য তিনি কৃষকদের প্রতি আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে ১০ টাকার ৫৩জন হিসাবধারী কৃষকের মাঝে ৪% রেয়াতি সুদের আওতায় ডাল ও মসলা জাতীয় ফসল এবং ৫% সুদে বকনা বাছুর ক্রয় ও দুগ্ধ উৎপাদন খাতে মোট ২৪.০০লক্ষ টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ