ঋতুবদলে সুস্থ থাকতে যা করবেন

আপডেট: অক্টোবর ১৩, ২০১৯, ১২:৫৪ পূর্বাহ্ণ

সোনার দেশ ডেস্ক


দিনে গরম থাকলেও রাতে হালকা ঠান্ডা, ভোরে অল্প অল্প কুয়াশা কিন্তু জানান দিচ্ছে সময় এখন ঋতু পরিবর্তনের। আর এই সময়টাতেই নানা অসুখ-বিসুখ জেঁকে বসতে চায় যেন। বিশেষ করে জ্বর, খুসখুসে কাশি, ঠান্ডা লাগা এধরনের সমস্যা ঘরে ঘরে দেখা যায়।
আবহাওয়ার আচমকা পরিবর্তনের সঙ্গে শরীর খাপ খাওয়াতে না পারলেই এমনটা ঘটে। তবে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার করা গেলে মুক্ত থাকা যায় এসব অসুখ থেকে। চলুন জেনে নেই ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে সুস্থ থাকতে কী করবেন-
শরীর কী চায়? : শরীর যেভাবে সস্তিবোধ করবে, ঠিক সেভাবে চলুন। দিনে একবার গোসল করবেন না কি দুইবার, ঠান্ডা পানিতে গোসল করবেন নাকি হালকা গরম পানিতে, এমনকী আদৌ গোসল করবেন কি না তা নির্ভর করছে আপনার শরীরের উপর। যা করলে আপনার শরীর আরাম পাবে, তাই করুন। গোসলের পরে শুকনো তোয়ালে দিয়ে শরীর ও মাথা ভালো করে মুছে নেবেন। চুলে নিয়মিত তেল ও শ্যাম্পু ব্যবহার করবেন।
কী খাবেন? : খাবার তালিকায় প্রচুর শাক-সবজি ও ফল রাখুন। বাজারে নানারজম তাজা ফল পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে আপেল ও নাশপতির মতো ফল রাখুন খাবার তালিকায়। লেবু এবং আমলকিও খেতে হবে নিয়মিত। প্রতিদিন পর্যাপ্ত ভিটামিন সি গ্রহণ করতে হবে। প্রতিদিনের খাবারের মাধ্যমেই ভিটামিন, মিনারেল, অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টস প্রবেশ করে আপনার শরীরে, আপনি ভিতর থেকে শক্তপোক্ত হয়ে ওঠেন।
বিশেষ চা : চা খাওয়ার অভ্যাস আছে নিশ্চয়ই? প্রতিদিনের চায়ে আদা যোগ করতে পারেন। সেইসঙ্গে আদা, কাঁচা হলুদ আর গোলমরিচ ফুটিয়ে ছেঁকে নিয়ে গরম থাকতে থাকতে চায়ের মতো পান করুন দিনে দু’বার। এর মধ্যে অর্ধেকটা লেবুর রস মিশিয়ে দিলে আরও ভালো ফল পাবেন।
চা : সাদা, কালো, সবুজ সব ধরনের চায়েই কেটচিন নামের একটি অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট থাকে তা ঠান্ডা লাগার হাত থেকে আপনাকে বাঁচাতে সক্ষম। তবে চিনি, দুধ দিয়ে কড়া করে ফোটানো চায়ে আপনি সেই উপকার পাবেন না। ক্যামোমাইল বা জেসমিনের মতো ফ্লেভার দেয়া চা পান করতে পারেন।
প্রতিদিন একগাস দুধ : আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে ভেতর থেকে আরও শক্তিশালী করে তোলে দুধ। তাই অল্প হলুদ বা দারুচিনি মেশানো দুধ রাখুন প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায়। দুধের ভিটামিন ডির প্রভাবে সুস্থ থাকবেন ঋতু পরিবর্তনের সময়েও।
পাতে থাকুক মাছ ও মাংস : প্রতিদিন খাবার তালিকায় থাকুক পর্যাপ্ত মাছ কিংবা মাংস। বিশেষ করে সামুদ্রিক মাছের ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড শরীরের যেকোনো প্রদাহকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। তাই অতি অবশ্যই মাছ, কাঁকড়া, চিংড়ি ইত্যাদি খান। খেতে পারেন মুরগি বা টার্কির মতো সাদা মাংস।
এক টুকরো চকোলেট : চকোলেট খেতে ভালোবাসেন নিশ্চয়ই? তাহলে চকোলেটও থাকুক পাতে। তবে অবশ্যই তা যেন ডার্ক চকোলেট হয়। এর খাঁটি কোকোর পলিফেনল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। তবে চিনি মেশানো চকোলেট এড়িয়ে চলুন।