ঋতুর রাণী বর্ষার শুরুতেই মহাদেবপুরের জমে উঠেছে চাঁইয়ের বাজার

আপডেট: জুলাই ১১, ২০১৭, ১২:৪২ পূর্বাহ্ণ

মহাদেবপুর প্রতিনিধি


বর্ষার শুরুতেই মহাদেবপুরের জমে উঠেছে এ চাঁইয়ের বাজার -সোনার দেশ

ষড় ঋতুর বাংলাদেশে ঋতু বৈচিত্রের অপার সৌন্দর্য নিয়ে আসে ঋতুর রাণী বর্ষা। বর্ষার বৃষ্টিতে ভিজে ছোটাছুটি, দৌড়ঝাঁপ, জাল দিয়ে মাছ মারা বৃষ্টির দিনে ঘরে খিচুড়ি ইলিশ খাওয়া কিংবা ঝালমুড়ি খাওয়ার মজা আলাদা। বর্ষা সবচেয়ে মজার বিষয়টি হলো মাছ মারা। আর এই মাছ মারার মধ্যে চাঁই বা খোলসানি দিয়ে মাছ মারার অন্য রকম এক আনন্দ আছে।
এবার বর্ষা কিছুটা দেরীতে আসলেও নদী খাল বিলে একটু পানি আসার সাথে সাথেই প্রতি বছরের মতো এবছরও জমতে শুরু করেছে নওগাঁর মহাদেবপুরের চাঁইয়ের বাজার। স্থানীয় ভাষায় একে খোলসানি বলা হয়। সাধারণত হাঁটু পানি প্রবাহিত এমনস্থানের নদী বা খালে ছোট ছোট মাছ ধরার জন্য চাঁই ব্যবহার করা হয়। যারা পেশাদার মৎস্য ব্যবসায়ী নন তারা বর্ষার সময় মাছ ধরার জন্য এই চাঁই ব্যবহার করে থাকেন। সকল শ্রেণির মানুষ ব্যবহার করে বলে বর্ষা এলেই বেড়ে যায় চাঁইয়ের কদর। মৌসুমী এই চাঁই ব্যবসাকে পূঁজি করে অনেকেই জীবন ধারণ করেন। চাঁই দিয়ে মাছ মারার আর একটা মজা হলো বিকেল বা সন্ধ্যায় চাঁই পেতে রেখে এসে মাঝ রাতে বা খুব ভোরে তুলে নিয়ে আসতে হয়। এক সঙ্গে চাঁইয়ের ভেতর অনেক মাছ দেখে খুব ভালো লাগে। তবে কখনও কখনও মাছ খাবার লোভে চাঁইয়ের ভেতর সাপ ঢুকে থাকে।
মহাদেবপুরের চাঁইয়ের বাজার ঘুরে উপজেলার চেরাগপুর থেকে আসা চাঁই ব্যবসায়ী ব্রজেন্দ্র নাথ দাসের কাছ থেকে জানা যায়, বাজারে প্রতিটি চাঁই বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ২৬০ টাকায়। একটি বাঁশ দিয়ে ৪-৫টি চাঁই তৈরি হয় এবং প্রতিটি বাঁশের মূল্য ১৮০ থেকে ২শ টাকা। একজন মানুষ গড়ে প্রতিদিন এক থেকে দুইটি চাঁই তৈরি করতে পারে বলেও তিনি জানান। এবং এই চাঁই বেচে কোন রকমে সংসার চালান তারা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ