ঋতু পরিবর্তনে রাজশাহীতে বেড়েছে রোগব্যাধির প্রবণতা

আপডেট: অক্টোবর ২১, ২০১৯, ১:৩৩ পূর্বাহ্ণ

তারেক মাহমুদ


তীব্র গরমের প্রবণতা শেষ। তবে দিনের বেলা গরম থেমে নেই! দিন শেষে সন্ধ্যায় নামছে হালকা ঠান্ডা আর ভোর রাতে কাঁথা কিংবা কম্বল জড়িয়ে ঘুমাতে হচ্ছে। গরম শেষে এখন শীতের আগমনী বার্তা। ঋতু পরিবর্তনের সাথে আবহাওয়ার পরিবর্তন হচ্ছে। এর সাথে সাথে বেড়েছে নানান রোগের প্রবণতা। আবহাওয়ার এই পরিবর্তনের কারণে প্রতিনিয়ত শিশুসহ সকল বয়সের মানুষ এখন বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। অসুস্থ হয়ে অনেকেই চিকিৎসা নিচ্ছেন রামেক হাসপাতালে। রামেক হাসপাতালের তথ্যমতে, সবচেয়ে বেশি রোগি ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে মেডিসিন, শিশু ও চর্ম বিভাগে।
মেডিসিনের চারটি ইউনিটে নারী-পুরুষ মিলে দুই সপ্তাহ আগে এক হাজারের অধিক রোগী থাকলেও গতকাল রোববার ২২০০ রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে। শিশু বিভাগে প্রতি অ্যামিশনে ১২০ থেকে ১৩০ জন শিশু ভর্তি হচ্ছে। শিশু ওয়ার্ডে সব মিলে ৫ শতাধিক শিশু চিকিৎসা নিচ্ছে। আর ইনডোর ও আউটডোর মিলে প্রায় ৪ হাজার রোগী শুধু রামেক হাসপাতালেই চিকিৎসা নিচ্ছে। যাদের মাঝে জ্বর-সর্দ্দি ইনফ্লুয়েঞ্জা শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া, অ্যাজমা ও হাঁপানি রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। শিশু ওয়ার্ডের চারটি ইউনিটে মিলে ছয় শতাধিক রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে। শিশুদের মাঝেও নিউমনিয়া, জ্বর-সর্দ্দি শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন,‘আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে কখনো ঠাণ্ডা কখনো গরম ও বিভিন্ন ধরনের রোগজীবাণুতে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হচ্ছে নানা বয়সি নারী-পুরুষ ও শিশুরা। এ সময় ইনফ্লুয়েঞ্জা ও ভাইরাসজনিত রোগে মানুষ খুব সহজেই আক্রান্ত হচ্ছে। দিনে গরমের কারণে কখনো শরীর থেকে ঘাম ঝরছে, আবার রাতে ঘুমনোর সময় ঘরে ফ্যান চলায় ঠাণ্ডা লেগে শরীরে তাপমাত্রার হেরফের হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে অসুস্থতা ও জ্বরের স্বাভাবিক কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে রাস্তার ধুলোবালি উড়ে চোখমুখ জ্বালাপোড়া করছে, চোখে ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটছে। আর বাইরের বিভিন্ন খাবার ও পানি খাওয়ায় ডায়রিয়া ও পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটছে। চিকিৎসকরা বলছেন, অ্যাজমা, শ্বাসকষ্টজনিত, বিভিন্ন ছোঁয়াচে রোগ একজন থেকে আরেক জনের মাঝে চলে যায়। এ সময় ব্যাকটেরিয়া, ইনফেকশন সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। যা মানুষের শরীর সঠিকভাবে মানিয়ে নিতে পারে না।
রামেক হাসপাতালের বহির্বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. পার্থ মণি জানান, এখন শীতের আগমন ঘটছে। দিনে গরম থাকলেও রাতে ও ভোর বেলায় হালকা ঠাণ্ডা লাগছে। অনেকে বাসায় ফ্যান ছেড়ে ঘুমানোর কারণে রাতে ঠাণ্ডা লাগছে। আর বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা অনেক বেশি। শিশুদের শরীর ঠাণ্ডা হয়ে যাচ্ছে। দিনের বেলায় গরমে ঘাম বসে যাচ্ছে। এ সময়ের মাঝে জ্বর-সর্দ্দি ইনফ্লুয়েঞ্জা শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া, অ্যাজমা ও হাঁপানি রোগীদের সর্বদা সাবধান থাকতে হবে। দিনে শরীরে ঘাম না বসে, আর রাতে ঠাণ্ডা না লাগে- সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। জ্বর সর্দ্দি তে প্রাথমিক অবস্থায় প্যারাসিটামল খেতে হবে। অবস্থার অবনতি হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
রামেক হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা.মাহাবুবুর রহমান খান বাদশা জানান,‘ঋতু পরিবর্তনের সময়ে বড় ছোট সবাইকে সতকর্তা অবলম্বন করে থাকতে হবে। এ সময় সকল মানুষের অসুস্থ হওয়ার প্রবণতা বাড়ে। ইনফ্লুয়েঞ্জা শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়ার প্রবণতা অ্যাজমার প্রবণতা বেড়ে যায়’। তিনি আরো জানান, রাতে বিশেষ করে ফ্যানের বাতাসে ঠাণ্ডা লাগে। এই সময় সকলকে সতর্ক থাকতে হবে যেন ঠাণ্ডা না লাগে। আর কেউ হঠাৎ অসুস্থ হলে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে চলতে হবে’।
রামেক হাসপাতালের শিশু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ১০ নম্বর ওয়ার্ডের ইউনিট প্রধান ডা. শাহিদা জানান, ঋতু পরিবর্তনের কারণে শিশুদের মাঝে জ্বর-সর্দ্দি নিউমনিয়া, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ সময় শিশুদের অভিভাবকের একটু বাড়তি সচেতনভাবে শিশুদের যত্ন নিতে হবে’। রাতে ফ্যানের বাতাসে শিশুদের কোন মতে ঠান্ডা লাগানো যাবে না। কোনো সমস্যা হলে দেরি না করে সাথে সাথে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শে চলতে হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ