ঋত্বিক ঘটকের পৈত্রিক ভিটা পরিদর্শনে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার

আপডেট: জানুয়ারি ২, ২০২০, ১:৩১ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক


ঋত্বিক ঘটকের পৈত্রিক ভিটা পরিদর্শনে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারসহ অন্যরা সোনার দেশ

কালজয়ী চলচ্চিত্রকার ঋত্বিক ঘটকের পৈত্রিক ভিটা পরিদর্শন করেছেন রাজশাহীস্থ ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার সঞ্জিব কুমার ভাটি। গতকাল বুধবার দুপুরে নগরীর মিয়াপাড়া এলাকায় ঋত্বিক ঘটকের পৈত্রিক ভিটায় যান তিনি। এ সময় তিনি সবকিছু ঘুরে দেখেন। এ সময় ঋত্বিক ঘটক ফিল্ম সোসাইটির সভাপতি ডা. এফএমএ জাহিদ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় চলচ্চিত্র সংসদের সভাপতি সাজ্জাদ বকুল এবং হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ডা. আনিসুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার তাদের কাছে সবকিছু শোনেন।
তবে এটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে কোনো সাংবাদিকদের কাছে কোনো মন্তব্য করেননি সঞ্জিব কুমার ভাটি।
খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, ঋত্বিক ঘটকের পৈত্রিক ভিটায় বর্তমানে রাজশাহী হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল রয়েছে। তৎকালীন এরশাদ সরকারের আমলে এনিমি প্রপার্টি হিসেবে বাড়িটি নামমাত্র মূল্যে ইজারা দেওয়া হয় কলেজকে।
ইতোমধ্যে বাড়ির অনেকটা অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। সম্প্রতি কলেজের সাইকেল গ্যারেজ তৈরির জন্য ভেঙে ফেলা হয়েছে আরো একটি কক্ষ। এ প্রতিবাদে সোচ্চার হয়ে উঠেন রাজশাহীর চলচ্চিত্রপ্রেমীরা। এইজন্য তারা মানববন্ধন ও স্মারকলিপির মতো কর্মসূচি পালন করেছেন। প্রতিবাদে বিবৃতি দেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত ১২ জন চলচ্চিত্র পরিচালক। ঢাকায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। ওপর বাংলা থেকেও প্রতিবাদ আসতে থাকে। ১২ জন চলচ্চিত্র পরিচালক বিষয়টি নিয়ে সংষ্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন। এর পরপরই প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রাজশাহীর জেলা প্রশাসককে কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দেন।
নির্দেশনা মোতাবেক বর্তমানে কাজ বন্ধ। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জমিটির মাপজোক করছেন। এদিকে রাজশাহীর সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা এখন হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালকে অন্যত্র সরিয়ে ঋত্বিক ঘটকের পৈত্রিক ভিটাকে জাদুঘর এবং চলচ্চিত্র কেন্দ্র করার দাবি তুলেছেন।
তারা বলছেন, এই বাড়িতে থেকে ঋত্বিক ঘটক রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল ও রাজশাহী কলেজে পড়াশোনা করেছেন। কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে নাট্যচর্চাও করেছেন এই বাড়িতে থেকে। সেসময় রাজশাহীতে ‘অভিধারা’ নামের একটি পত্রিকা সম্পাদনা করতেন তিনি। ঋত্বিক ঘটকের স্মৃতিবিজড়িত এই বাড়িটি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ