এইচআইভি এবং এইডস সচেতনার ক্ষেত্রে সামাজিক আন্দোলন

আপডেট: December 1, 2016, 12:23 am

মোহা. আবুল বাশার পল্টু
এইচআইভি এবং এইডস প্রতিরোধ করা বিশ্বের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। বিশ্বে প্রতিদিনই ছয় হাজার আটশত মানুষ এইচআইভিতে আক্রান্ত হচ্ছেন। লক্ষ্যনীয় বিষয় হচ্ছে আক্রান্তদের প্রায় অর্ধেক হচ্ছে যুব সমাজ যাদের বয়স ১৫ থেকে ২৪ বছর (সূত্র ইউএন এইডস-২০০৭)
ক্স    প্রতি ১০০ জনের মধ্যে মাত্র ৭৮ জন এইচআইভি সংক্রমিত হওয়ার কারণ ও প্রতিরোধের সঠিক উপায় জানে না
ক্স    নেশা করার জন্য একই সুই ও সিরিঞ্জ অনেকে মিলে ব্যবহার করে
ক্স    তাদের মধ্যে ঝুঁিকপূর্ণ যৌন আচরণের প্রবণতা বেশি এবং তারা কনডম ব্যবহারে অনাগ্রহী।
এই অবস্থায় এইচআইভি সংক্রমণ থেকে রক্ষার জন্যে যুব সমাজের সঙ্গে এইচআইভি নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হওয়া দরকার। আর যারা এইচআইভি এবং এইডস-এ আক্রান্ত হয়েছেন তাদের প্রতি অপবাদ বৈষম্য না দেখিয়ে তাদের সেবা যতœ করা দরকার। কারণ আমরা যে কেউ এইচআইভিতে আক্রান্ত হতে পারি। তাই নিজেকে ও পরিবারকে এইচআইভি সংক্রমণ থেকে রক্ষার জন্যে এইচআইভি এবং এইডস সম্পর্কে জানতে হবে ও জানাতে হবে। বাঁচতে হলে জানতে হবে-প্রচারটি প্রায় সবদিকে। মানুষ এখন ঐওঠ এবং অওউঝ সম্পর্কে জানে। এ বিষয়ে মানুষ জনের মধ্যে পূর্বের মত আলাপচারিতায় কোন জড়তা নেই বললেই চলে। ফলে মানুষের মধ্যে এইডস রোগ ও এইচআইভি ভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার কারণ বা ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনা বেড়েছে। কিন্তু এরপরে অন্ধকারে ঢেকে যাচ্ছে এ সংক্রান্ত চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা। ফলে ঐওঠ তে আক্রান্তরা এইডস রোগিতে পরিণত হচ্ছে। দ্রুততর হচ্ছে তাদের মৃত্যু।
এইচআইভি এবং এইডস
চারটি ইংরেজি শব্দ- অপয়ঁরৎবফ ওসসঁহব উবভরপরবহপু ঝুহফৎড়সব এর সংক্ষিপ্ত রূপ হলো এইডস (অওউঝ)। আবার তিনটি ইংরেজি শব্দ ঐঁসধহ ওসসঁহড়ফবভরপরবহপু ঠরৎঁং এর সংক্ষিপ্ত রুপ হলো এইচআইভি (ঐওঠ)। এইচআইভি ভাইরাসের কারণে এইডস হয়।  কোন রোগ বা সংক্রমণ প্রতিরোধ করার জন্য শরীরের স্বাভাবিক ক্ষমতাকে এইচআইভি ক্রমান্বয়ে ধ্বংস করে দেয়। তাই, এইডস আক্রান্ত ব্যক্তি অতি সহজেই যেকোন রোগে (যেমন: নিউমোনিয়া, যক্ষা, ডায়রিয়া) আক্রান্ত হয়ে পড়ে চিকিৎসা বিজ্ঞান এইডস এর কোন প্রতিষেধক বা কোন ওষুধ এখনো আবিষ্কার করতে পারেনি। ফলে নিশ্চিত অকাল মৃত্যুই এইডস-এ আক্রান্ত ব্যক্তির শেষ পরিণতি। তাই এইডস একটি ঘাতক ব্যাধি হিসেবে পরিচিত।
মানবদেহে এইচআইভি প্রবেশ করার সাথে সাথেই শরীরে এইডস এর লক্ষণ দেখা যায় না। এইচআইভি শরীরে প্রবেশ করার ঠিক কতদিন পর একজন ব্যক্তির মধ্যে এইডস এর লক্ষণ দেখা যাবে তা ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা এবং অঞ্চল ভেদে ভিন্নতর হয়। তবে এটা মনে করা হয়ে থাকে যে, এইচআইভি সংক্রমণের শুরু থেকে এইডস-এ উত্তরণ পর্যন্ত সময়ের ব্যাপ্তি সাধারণত ৬ মাস থেকে বেশ কয়েক বছর এবং কোন ক্ষেত্রে ৫-১০ বছর বা তারও বেশি। এই দীর্ঘ সুপ্তাবস্থার তাৎপর্য হচ্ছে, এই সময়ের মধ্যে এইচআইভি সংক্রমিত একজন ব্যক্তি (যার শরীরে এইডসের কোন লক্ষণ দেখা যায়নি বা সে আপতঃদৃষ্টিতে সুস্থ) তার অজান্তেই অন্য একজন সুস্থ ব্যক্তির দেহে এইচআইভি ছড়িয়ে দিতে পারে।
দুটি শব্দ- ঐওঠ এবং অওউঝ। প্রথমটির পূর্ণরূপ হচ্ছে ঐ=ঐঁসধহ(মানুষ), ও=ওসসঁহড়ফবভরপরবহপু (রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ঘাটতি বা হ্রাস), ঠ=ঠরৎঁং (ভাইরাস/জীবাণু)। অর্থাৎ এইচআইভি একটি ভাইরাস যা মানুষের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে নষ্ট করে দেয়। তাছাড়া এই ভাইরাসটি রক্তের শ্বেত কণিকা (সিডি ৪ বা টি সেল) নষ্ট করে, যার ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় বা অকার্যকর হয়ে পড়ে।
একজন এইচআইভি ভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তি সারাজীবন এই ভাইরাস সংক্রমিত অবস্থায় থাকেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এইচআইভি দ্বারা আক্রান্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন পর্যন্ত লক্ষণহীন (রোগের কোন (ঝুসঢ়ঃড়সং বা ঝরমহং থাকে না ; এমনকি তাারা নিজেরাও ওয়াকিবহাল নয় যে, তারা এইচআইভি ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত। লক্ষণহীন অবস্থায়ও তারা ঐওঠ অন্যের মাঝে বিস্তার  বা ছড়াতে পারে। এখন আসা যাক অওউঝ সম্পর্কে। অ= অপয়ঁরৎবফ (অর্জিত) ও=ওসসঁহব (রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা), উ=উবভরপরবহপু (ঘাটতি/হ্রাসজনিত), ঝ=ঝুহফৎড়সব (অবস্থা/রোগের লক্ষণসমুহ) এসময় এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দূর্বল থাকে, আক্রান্ত ব্যক্তি রোগ জীবাণু প্রতিরোধ করতে পারে না, একাধিক রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে এবং তার শ্বেত কণিকা বা টি সেলের সংখ্যা দিনে দিনে কমতে থাকে।
এইচআইভি জীবাণু মানুষের শরীরে প্রবেশের পর শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে নষ্ট করে দেয়। ফলে শরীরের যে রোগাক্রান্ত অবস্থার সৃষ্টি হয় তাকে এইডস বলে। অর্থাৎ শারীরিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার চূড়ান্ত অবস্থাই হল এইডস। অবস্থাদৃষ্টে লক্ষণীয় যে, ঐওঠ হল একটি ভাইরাস এবং অওউঝ হল একটি অসুস্থতা, যা ঐওঠ ভাইরাসের কারণে হয়। এইচআইভি শুধু মানুষের শরীরে বাস করতে পারে।
এই ভাইরাসটি শরীরের ৪টি তরল পর্দার্থ যেমন- রক্ত, বীর্য, যোনিরস ও মায়ের বুকের দুধের মধ্যে বেশি পরিমাণে থাকে। তাছাড়া ঘাম বা লাঁলার মধ্যেও এ ভাইরাস থাকতে পারে। তবে তাতে ভাইরাসের মাত্রা এতটাই কম থাকে যে তার মাধ্যমে ভাইরাসে সংক্রমিত হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
সুতরাং, সহজেই অনুধাবন করা যায় যে, এইচ.আই.ভি. আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত গ্রহনের মাধ্যমে, ইনজেকশনের সুঁই ও সিরিঞ্জ ভাগাভাগি করে শিরায় মাদক গ্রহণের মাধ্যমে এবং এইচআইভি আক্রান্ত মা থেকে শিশুতে গর্ভাবস্থায়, স্বাভাবিকভাবে প্রসবকালে, বুকের দুধ পানের মাধ্যমে- এইচআইভি ভাইরাস সংক্রমণ ঘটতে পারে। তবে কারো শরীরে এইচআইভি ভাইরাস আছে কিনা তা একমাত্র ঐওঠ ঞবংঃ নামক রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমেই বলা সম্ভব। হঠাৎ করে শরীরের দুর্বলতা দেখা দেয়া, তিন মাসের বেশি সময় ধরে বার বার জ্বর হওয়া ও শরীরের গ¬্যান্ড (গ্রন্থি) ফুলে যাওয়া, তিনমাস বা বেশি সময় ধরে বার বার পাতলা পায়খানা হওয়া, শুকনা কাশি এবং ঘন ঘন নিশ্বাস, শরীরে লাল লাল ছোপ দাগ (জধংয) এবং সারা শরীরে চুলকানি দেখা দেয়া ইত্যাদি হচ্ছে ঐওঠ আক্রান্ত ব্যক্তির রোগাবস্থা যেগুলোর মাধ্যমে এইডস রোগে লক্ষণ ও চিহ্নসমূহ স্পষ্ট ফুটে ওঠে।
বাংলাদেশ ও বিশ্বে এইচআইভি এবং এইডস পরিস্থিতি

খুব সহজ ভাষায় বলা যায় প্রতিদিন প্রায় ৫৬০০ জন নতুন করে এইচআইভি তে আক্রান্ত হচ্ছেন। এর মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকা, নাইজেরিয়া, ভারত, তানজানিয়া, জাম্বিয়া, রাশিয়া, উগান্ডা ও ব্রাজিলে এইডস রোগির তুলনামূলক হার লক্ষণীয়। এশিয়ায় সর্বাধিক এইচআইভি সংক্রিমত ১০টি দেশ হল ভারত, চিন, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, মায়ানমার, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া ও নেপাল। বিশ্ব এইডস মহামারি টঘঅওউঝ/ডঐঙ ঔটখণ ২০১৪ এর রিপোর্ট অনুযায়ী বিশ্বে ৩.৬৯ কোটি জনসংখ্যা এইচআইভি তে আক্রান্ত। ২০১৪ সালে নতুন ভাবে ঐওঠ আক্রান্তের সংখ্যা ২০ লক্ষ ও ২০১৪ সালে অওউঝ এর কারণে মারা গেছে ১২ লক্ষ ।
জাতীয় এইডস/এসটিডি প্রোগ্রাম এ প্রকাশিত পরিসংখ্যান হচ্ছে- বাংলাদেশে ১৯৮৯ সালে প্রথম এইডস রোগী শনাক্তের পর এ পর্যন্ত ৪১৪৩ জন এইচআইভি পজিটিভ ব্যক্তি শনাক্ত করা হয়েছে । যার মধ্যে মারা গেছে ৬৫৮ জন। এটি ২০১৫ সালের ১ লা ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত হিসাব। শুধু মাত্র ২০১৫ সালে নতুন এইচআইভি তে আক্রান্ত ৪৬৯ জন যার মধ্যে ৩৪৪ জন পুরুষ ও ১১৭ জন নারী এবং ৯৫ জন এইডস এ মারা গেছে।
বাংলাদেশ এইচআইভি এবং এইডস- এর জন্য একটি ঝুকিপূর্ণ দেশ, কেননা ঝুঁকিপূর্ণ সব ধরনের আচরণই এদেশে বিদ্যমান। যদিও বাংলাদেশে সাধারণ জনগণের মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণের হার শতকরা ০.১ ভাগেরও কম কিন্তু যারা ই্ঞ্জেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণ করে তাদের মধ্যে সংক্রমণের হার ৫.৩% । ঢাকার পার্শ্ববর্তী একটি এলাকায় ১০% এরও বেশি- ( ঘধঃরড়হধষ ঐওঠ ংবৎড়ষড়মরপধষ ংঁৎাবরষষধহপব, ২০০৭ ৮ঃয ৎড়ঁহফ ঃবপযহরপধষ ৎবঢ়ড়ৎঃ) বাংলাদেশ সরকারের তথ্যমতে, দেশে আনুমানিক ৮৯০০ জন এইচআইভি পজিটিভ রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউএনএইডস এর হিসেব মতে, বাংলাদেশে আনুমানিক ৯০০০ মানুষ এইচআইভি ভাইরাস বহণ করছে (ইউএনএইডস ডাব্লিউএইচও)
যেভাবে এইচআইভি ছড়ায় না
আসুন এবার দেখা যাক- সামাজিক কোন কোন কাজের মাধ্যমে এ ভাইরাসটি ছড়ানোর কোন সম্ভাবনা নেই। যেমন একই পুকুরে অযু/গোসল করলে, পাশাপাশি নামাজ পড়ার মাধ্যমে, একই প্লেটে বা গ্লাস ব্যবহার করলে, মশা কামড়ালে, পরস্পর কোলাকুলি (ঊসনৎধপযরহম) করলে এবং একই পরিবার বা সমাজে বসবাস করলে। সুতরাং আমাদের উচিত এইচআইভি এবং এইডস সম্পর্কে নিজে জানা, পরিবার বা অন্যদের সাথে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা এবং এইচআইভি প্রতিরোধের ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
সংক্রমণের মাধ্যম
নারীদের মধ্যে প্রধানত অসমলিঙ্গ যৌনক্রিয়ার ফলে এইডস মহামারি হয়। যা প্রায় পুরোপুরি আফ্রিকা ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বিস্তৃত। অন্যান্য এলাকার, নারীদের একটি অংশ যেভাবে আক্রন্ত হয়-তা হল উভকামী ও সুঁচের মাধ্যম মাদক সেবনকারী সঙ্গীর সঙ্গে যৌনকর্ম, নিজেদের শরীরে সুঁচের মাধ্যমে মাদক গ্রহণ, এ ছাড়া বিপরীত লিঙ্গের সঙ্গীর সাথে যৌনকর্ম এবং রক্ত পরীক্ষা ছাড়া পরিসঞ্চালন (উন্নত দেশগুলোতে যেখানে রক্ত নিয়মিত পরীক্ষা করা হয় না)।
শারীরিকভাবে
বৃহত্তর মিউকোসাল পৃষ্ঠদেশ, মাইক্রোসেলিসিয়ন বা যৌনমিলনের সময় স্থির হতে পারে, সেগুলো ভাইরাসের প্রবেশপথে হিসাবে কাজ করে। খুব অল্পবয়সী মেয়ে ও নারীর এক্ষেত্রে বেশি নাজুক ঝঞও আছে এমন নারীরা চারগুন বেশি এইচআইভি ভাইরাসে সংক্রমিত হবার আশঙ্কায় থাকে। চিকিৎসা করা হয়নি এমন ঝঞও/ঐওঠ এর ঝুঁকি বাড়ায় এবং সংশোধিত যৌনকর্ম মাইেেক্রাসলিসিওনের ঝুঁকি বাড়ায়।
সামাজিক সাংস্কৃতিক কারণের উদাহরণ
লিঙ্গ সম্পর্কিত সামাজিক নিয়ম ঐওঠ ও অওউঝ এর প্রতি নারীর অসহায়ত্ব বৃদ্ধি করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, আশা করা হয়- নারীদের শুধু একজনই আজীবন সঙ্গী থাকবে, যেখানে পুরুষদের অনেকগুলো সঙ্গী থাকতে উৎসাহিত করা হয়। এই দ্বিমুখি নীতি নারীদের নাজুক অবস্থায় ঠেলে দেয়। এশিয়া ও আফ্রিকার জরিপ থেকে দেখা যায়- অনেক বিবাহিত নারী এই রোগ দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে কেবল তাদের একমাত্র সঙ্গীর দ্বারা এবং যিনি তার স্বামী।
সমাজে অবিবাহিত কুমারীত্বের মূল্যেবোধ মেয়েদের যৌনতা বিষয় থেকে দূরে রাখে। নারীদের এ বিষয়ে অজ্ঞতাকে দেখা হয় পবিত্রতা ও নিস্পাপতার প্রতীক হিসবে। এই জাতীয় কাজ নারীদের যৌন বিষয়ক জ্ঞান আহরণ থেকে বিরত রাখে যা তাদের যৌনস্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত যৌনকর্মে সক্রিয় নারীদের একই কারণে যৌন বিষয়ে তাদের সঙ্গীদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করতে নিরুৎসাহিত করা হয়। এটি নিরাপদ যৌনকর্মের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ দূরূহ করে তুলে। অনেক কারণে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের নারীরা পুরুষের উপর নির্ভরশীল। পৃথিবীর দুই তৃতীয়াংশেরও বেশি নারী অশিক্ষিত এবং ৭০% দরিদ্র। তাদের আর্থ সামাজিক অবস্থার কারণে, অনেক নারীর স্বাধীনতা বা জীবন ধারণের উপায় নেই। অনেকের ভয় থাকে নিরাপদ যৌনতা নিয়ে আলোচনা করলে স্বামীরা তাদের পরিত্যাগ করবে। অনেক নারীর জন্য যৌনসঙ্গম, পছন্দ অপছন্দের বিষয় নয়, এটি তাদের জন্য বেঁচে থাকার প্রশ্ন। ফলে, কোথায় এবং কীভাবে যৌনকর্ম হবে তার ওপর তাদের খুবই কম নিযন্ত্রণ থাকে। অনেক ক্ষেত্রে নারীদের নিরাপদ যৌনতা বিষয়ে আলোচনা করার সুযোগ থাকে না। কারণ তারা সম্পর্ক নষ্ট করতে চায় না। বিয়ে তাদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সহায়তা দেয়, যা অর্থনৈতিক ও সমাষ্টিক সহায়তা দেয়- যা অবিবাহিত থাকলে সম্ভব নয়। অনেক নারী অর্থের জন্য যৌনকর্ম করতে বাধ্য হয়। পৃথক হয়ে যাওয়া, বিবাহ বিচ্ছেদপ্রাপ্ত বা অবিবাহিত অনেক নারীদের বেশ্যাবৃত্তি একমাত্র বেঁচে থাকের উপায়। নারীরা অর্থনৈতিক বৈষম্যের শিকার, যৌন কাজে নারীদের মতামতের কোন গুরুত্ব থাকে না। কারণ হচ্ছে অর্থ। অনেক নারীর বেলায় সাংস্কৃতিক অবস্থা যাই হোক না কেন, স্বামীদের কনডম ব্যবহারের কথা বলা মানে অবিশ্বাস ও অপমানের মত। ফলাফল হলো অনেক সময় সর্ম্পকের ভাঙ্গন এবং সবচেয়ে খারাপ হল নারীদের প্রহার বা পরিত্যাগের মত ঘটনা।
আর্থ-সামাজিকভাবে
মানুষদের ওপর নারীদের অর্থনৈতিক ও বস্তুগত নির্ভরশীলতা নিয়ন্ত্রণ করে- কখন, কার সঙ্গে এবং কোন পরিস্থিতিতে তারা যৌনকর্ম করবে। এটি নারীদের ওপর নির্ভর করে না। অনেক নারী আছে যারা শুধু বস্তুগত কারণে বা প্রতিদিন বেঁচে থাকার জন্য যৌনকাজ করে। বাণিজ্যিক যৌনকর্ম আছে। এই জীবনে যৌন বিনিময়ও আছে যা অনেক দরিদ্র পরিবারে এভাবে নিজেকে ও সন্তানদের বাঁচিয়ে রাখে। যৌনতার ব্যাপারে আলোচনা বা সিদ্ধান্ত এ সমাজে মেনে নেয়া হয় না। তারা কনডম ব্যবহার বা অন্য কোন সুরক্ষার ওপর জোর দিতে পারে না। যদি তারা যৌনকাজ করতে অস্বীকার করে অথবা কনডম ব্যবহারের ওপর জোর দেয় তখন তাদের অবিশ্বস্তার জন্য সন্দেহ করা হয়। নারীদের ওপর নানা সহিংসতা প্রমাণ করে যে, অনেক সময় জোর করে যৌনকাজ করতে বাধ্য করা হয় যা এইচআইভির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

পুরুষদের গতিময়তা (গড়নরষরঃু) মেয়েদের এইচআইভি নাজুকতা বৃদ্ধি করে। বহু ভ্রমণকারী অধু্যুষিত সীমন্ত এলাকা এবং আর্ন্তজাতিক মৎস্য বন্দরগুলো অন্যান্য শহরের তুলনায় বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। তাছাড়া সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী নারীরা ঐওঠ আক্রান্ত হবার জন্য অধিক ঝুঁকির মধ্যে থাকে। কারণ তারা যৌনসঙ্গী হিসাবে চলামন পুরুষদের পেয়ে থাকে। যাদের মধ্যে এ ভাইরাস থাকার সম্ভাবনা বেশি আছে। নারীর নাজুক অবস্থা পুরুষ শ্রমিকদের অভিবাসনের দলেও হয়ে থাকে। যখন তারা নিজ এলাকায় নিয়ে আসে, তারা পুনরায় তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সঙ্গে যৌন সর্ম্পক স্থাপন করে এবং এইচআইভি ও এইডস গ্রামের নারীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। এই সমস্যা থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া এবং মালয়েশিয়াতে বেশি দেখা গেছে। অনেক যুবক গ্রাম থেকে কাজের জন্য শহরে আসে। অর্থনৈতিক সংকটের সময় আবার তারা গ্রামে যেতে বাধ্য হয়। ১৯৯০ সালের মাঝামাঝিতে শহরে এইচআইভি. ও এইডস এর উচ্চহারের জন্য এই বিপরীত অভিবাসন শূন্যস্থানে ঐওঠ কে নিয়ে যেতে বাধ্য করেছে।
(চলবে)