এইচএসসি পরীক্ষা নিতে একমত শিক্ষা বোর্ডগুলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিজস্ব প্রক্রিয়ায় অষ্টম শ্রেণির মূল্যায়ন

আপডেট: September 24, 2020, 8:55 pm

সোনার দেশ ডেস্ক:


উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা নিতে একমত হয়েছে শিক্ষা বোর্ডগুলো। তবে প্রস্তুতির জন্য ১৫ দিন সময় চেয়েছেন বোর্ডের চেয়ারম্যানরা।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকা শিক্ষা বোর্ড মিলনায়তনে আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের সভায় এইচএসসি পরীক্ষা নেয়ার বিষয়ে সহমত পোষণ করে শিক্ষা বোর্ডগুলো।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক বলেছেন, ‘এ বছর জেএসসি পরীক্ষার্থীদের নবম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ করে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। স্কুলগুলো নিজস্ব মূল্যায়নের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের উত্তীর্ণ করে দিতে পারবে। আমরা জেএসসি পরীক্ষা নিতে পারব কি না, তা এখনও জানি না। এ বছর আড়াই মাস ক্লাস হয়েছে। এর বাইরে সংসদ টেলিভিশন ও অনলাইনে ক্লাস হয়েছে। যে প্রতিষ্ঠান যতটুকু পড়াতে পেরেছে, ততটুকুর ভিত্তিতে মূল্যায়ন হবে। এ ব্যাপারে শিগগিরই আমরা একটা গাইডলাইন দেব।’
তিনি আরও বলেন, ‘অষ্টম শ্রেণিতে যে অংশটুকু পড়ানো হয়নি, অথচ নবম শ্রেণিতে তা প্রয়োজন, সেগুলো পরবর্তী শ্রেণিতে কীভাবে সমন্বয় করা যায়, সে বিষয়ে বাংলাদেশ পরীক্ষা উন্নয়ন ইউনিটকে (বেডু) দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।’
এদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করে নবম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ করবে বলে জানিয়েছেন আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে বৈঠকের পর এ কথা জানান তিনি।
জেএসসি পরীক্ষা এবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। করোনা পরিস্থিতিতে বার্ষিক পরীক্ষা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু সবকিছুই পাল্টে গেছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে অষ্টম শ্রেণির মূল্যায়ন ও পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণের বিষয়ে বৃহস্পতিবার শিক্ষা বোর্ডগুলোর চেয়ারম্যানদের নিয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকের পর অধ্যাপক জিয়াউল বলেন, ‘ডিসেম্বর পর্যন্ত সিলেবাসের যেটুকু পড়ানো হবে, সে অনুযায়ী নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করবে।’
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিজস্ব প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করে পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণ করবে। মূল্যায়ন প্রক্রিয়া যেন সঠিকভাবে করতে পারে, সে জন্য আমরা একটা গাইডলাইন তৈরি করে দেবো। পরীক্ষা উন্নয়ন ইউনিটের মাধ্যমে গাইডলাইন তৈরি করা হবে। সেই গাইডলাইন অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করে পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণ করা হবে। ’
কবে নাগাদ গাইডলাইন দেওয়া হবে জানতে চাইলে অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক বলেন, ‘গাইডলাইন করতে কিছুটা সময় লাগবে। গাইডলাইনের একটি প্রাথমিক প্রিন্সিপাল তৈরি করেছি। গত ১৫ মার্চ পর্যন্ত শ্রেণি কার্যক্রম চলেছে। এ পর্যন্ত টেলিভিশন ও অনলাইনে শ্রেণি কার্যক্রম চলছে। এছাড়া যেকোনও মাসে যদি ক্লাস করানোর সুযোগ তৈরি হয়, সেই সময় থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত যতটুকু পড়ানো হবে, তার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে।’
অধ্যাপক জিয়াউল হক বলেন, ‘যেটুকু পড়ানো সম্ভব হবে না, সেটুকু আমরা পরবর্তী শ্রেণিতে লিংকআপ করে দেবো। লিংআপ করে দেবো এভাবে যে, নবম শ্রেণিতে যখন ক্লাস শুরু করবে, তখন অষ্টম শ্রেণির যে অংশ পড়ানোর প্রয়োজন হবে সে অংশ টেকওভার করতে পারে। নবম শ্রেণির জন্য অষ্টম শ্রেণির যে অংশ অতিপ্রয়োজনীয় সেই অংশটুকু আমরা নবম শ্রেণিতে শিক্ষক যাতে শেষ করান, সে লক্ষ্যে নির্দেশনা দেওয়া হবে। ’
শিক্ষার্থীদের সরাসরি নাকি অনলাইনে মূল্যায়ন করা হবে—জানতে চাইলে অধ্যাপক জিয়াউল হক বলেন, ‘যদি ক্লাসরুমে সম্ভব হয় ক্লাসরুমে হবে, যদি অনলাইনে মূল্যায়ন করা যায় মূল্যায়ন হবে, যদি অনলাইনে মূল্যায়ন করা না যায়, তাহলে শিক্ষকরা তো শিক্ষার্থীদের জানেন, তাদের আগের যে অ্যাসেসমেন্ট রয়েছে, তার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা যাবে। মূল্যায়ন করার জন্য সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি আমরা এই মুহূর্তে বলতে পারছি না। সেটি পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে। তবে মূল্যায়ন হবে।’
অটো প্রমোশন দেওয়া হবে কিনা জানতে চাইলে অধ্যাপক জিয়াউল হক বলেন, ‘অটো প্রমোশন বলতে কিছু নেই। সবকিছু মূল্যায়নের ভিত্তিতে হবে।’
প্রতিষ্ঠান খোলা গেলে পরীক্ষা হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যদি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা যায়, আমাদের শিক্ষার্থীরা যদি ক্লাসে ফেরত আসতে পারে, তাহলে তো পরীক্ষা (স্ব-স্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে) হতেই পারে। যদি তা না হয়, তাহলে যেসব প্রতিষ্ঠান অনলাইনে পরীক্ষা নিতে পারবে (অনেক প্রতিষ্ঠান এখন অনলাইনে পরীক্ষা নিতে পারে) নেবে, যার যা সামর্থ্য অনুযায়ী নেবে।’
একাদশের মূল্যায়নের বিষয়ে জানতে চাইলে জিয়াউল হক বলেন, ‘একাদশ শ্রেণির ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিজস্ব পদ্ধতিতে মূল্যায়ন করে পরবর্তী ক্লাসে তুলে দেবে।’
ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ষষ্ঠ এবং সপ্তম শ্রেণির বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর নিশ্চয় গাইডলাইন দেবে। নবম শ্রেণির ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সেভাবেই নিজস্ব প্রক্রিয়ায় মূল্যায়ন করে পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণ করবে। নবম ও দশম মিলে একটিই সিলেবাস। সিলেবাসের একটি অংশ নবম শ্রেণিতে পাঠদান করা হয়, আরেকটি অংশ দশম শ্রেণিতে পাঠদান করা হয়। সে ক্ষেত্রে সমস্যা নেই। নবম শ্রেণিতে যে পাঠদান বাকি আছে, তা দশম শ্রেণিতে পাঠদান করানো হবে।’-রাইজিংবিডি/ বাংলা ট্রিবিউন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ