একই সময়ে রাবি ও চবিতে ভর্তি পরীক্ষা, ক্ষুব্ধ ভর্তিচ্ছুরা

আপডেট: জুন ১২, ২০১৭, ১২:৫৮ পূর্বাহ্ণ

রাবি প্রতিবেদক


বিগত দুই বছরের মত এবারও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যায় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা একই সময়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এতে করে পরীক্ষার সময়সূচি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা। রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ে ২২ থেকে ১৬ অক্টোবর ও চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ে ২৩ থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত এ ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে।
রাবি কর্তৃপক্ষ বলছে, আমরা প্রতিবার আগে তারিখ ঘোষণা করি। চবি কর্তৃপক্ষের একগুয়েমির কারণে সমস্যার সৃষ্টি হয়।’ চবির রেজিস্ট্রার বলছেন, ‘প্রাথমিকভাবে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বেশি সমস্যা হলে বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদে আলোচনা করে পরিবর্তন করা হতে পারে।’ গত দুই বছরও চবি কর্তৃপক্ষ তারিখ পরিবর্তনের আশ্বাস দিয়েও পরে পূর্বনির্ধারিত তারিখে পরীক্ষা নিয়েছেন বলে অভিযোগ ভর্তিচ্ছু ও অভিভাবকদের।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ৮ জুন রাবির ভর্তি পরীক্ষা উপ-কমিটি আগামী ২২ থেকে ২৬ অক্টোবর প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণের তারিখ ঘোষণা দেয়। দুই দিন পর ১০ জুন চবির ভর্তি পরীক্ষা উপ-কমিটি ২২ থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত পরীক্ষা নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
গত বছর ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষে রাবিতে ২৪ থেকে ২৭ অক্টোবর এবং চবিতে ২৩ থেকে ৩১ অক্টোবর ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ফলে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করেও হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে যেকোন একটিতে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। শিক্ষার্থীরা বলছেন আলাদা সময়সূচি ঘোষণা করা না হলে ভৌগলিক দূরত্বের কারণে একই সময়ে এক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে পরীক্ষা দেয়া অসম্ভব।
কয়েকজন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী জানান, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়ার সুযোগ বন্ধ করে দিয়েছে। তাই রীতিমত যুদ্ধ করে শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেতে হয়। অথচ শীর্ষ চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ের দু’টি যদি একই তারিখে পরীক্ষা গ্রহণ করে, তবে ভর্তিচ্ছুদের বঞ্চিত হতে হবে। এটা অনৈতিক ও কান্ডজ্ঞানহীন সিদ্ধান্ত।
রাবির উপ-রেজিস্ট্রার এইচএম আসলাম হোসেন (একাডেমিক শাখা) বলেন, ‘যাতে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে না মিলে যায়, সেজন্য আমরা দ্রুত তারিখ ঘোষণা করেছি। আমরা ৮ জুন ঘোষণা করেছি, চবি কর্তৃপক্ষ ১০ জুন তারিখ ঘোষণা করেছে। এখানে স্পষ্ট তাদের সিদ্ধান্ত নেয়ায় সমস্যা। আমরা এখানে দায়ী নয়। আশা করি তারা তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করবে।’
জানতে চাইলে চবির রেজিস্ট্রার কামরুল হুদা বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ২২-৩০ অক্টোবর পরীক্ষা নেয়ার তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। যদি অন্যদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়, তবে অবশ্যই বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের সভায় তা নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত পুর্নবিবেচনা করা হবে।’