একটি কক্ষেই প্রধান শিক্ষক, অফিস ও কম্পিউটার ল্যাব || সিংড়ায় পরিত্যক্ত ভবনেই চলছে পাঠদান

আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৭, ১:৪২ পূর্বাহ্ণ

এমরান আলী রানা, সিংড়া


সিংড়ার বেলোয়া উচ্চবিদ্যালয়ে পরিত্যক্ত এ ভবনেই ঝুঁকিপূর্ণভাবে পাঠদান চলছে-সোনার দেশ

নাটোরের সিংড়া উপজেলার বেলোয়া উচ্চবিদ্যালয় নানা সমস্যায় শিক্ষার পরিবেশ ব্যহত হচ্ছে। গাদাগাদি করে জরাজীর্ণ ভবনে ক্লাস করছে ৫ শতাধিক শিক্ষার্থী। দুইটি এক তলাবিশিষ্ট ভবনে ফাটল ধরেছে। প্রধান শিক্ষকের আলাদা অফিস নেই, একই আটসাট কক্ষে প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক এবং অফিসিয়াল কার্যক্রম চলছে। বিগতদিন থেকে স্কুলের ফলাফল শতভাগ পাস করে আসছে। কিন্তু শ্রেণিকক্ষ সঙ্কটে বিদ্যালয়টি নিজেই রোগি।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৬৫ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। সুকাশ ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃত। এখানে অধ্যয়নরত রয়েছে শতাধিক আদিবাসি শিক্ষার্থী। দুইটি একতলাবিশিষ্ট ভবন রয়েছে দুইটিই চলাচলের অনুপযোগী। বিদ্যালয়ের চারটি শ্রেণিকক্ষ রয়েছে চারটিতেই ফাটল ধরেছে। একটি কক্ষেই কম্পিউটার ল্যাব, অফিসকক্ষ, প্রধান শিক্ষক কক্ষ এবং শিক্ষকবৃন্দ বসার স্থান। মেয়েদের জন্য কমন রুম নেই, পরিত্যক্ত মাটির ঘরে কমন রুম করা হয়েছে, যেখানে দুই শতাধিক ছাত্রীদের দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। তাদের জন্য আলাদা কোন কমনরুম কিংবা টয়লেট নাই। একটি টয়লেট রয়েছে, পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করতে হয়। শেখ রাসেল কম্পিউটার ল্যাব রয়েছে। যেখানে ছাত্রছাত্রীরা আটসাটভাবে কম্পিউটার পরিচালনা করে থাকে।
জানতে চাইলে বেলোয়া উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রতিষ্ঠানের সুনাম রয়েছে, বিগত দিন থেকে শিক্ষকদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় শতভাগ পাস। কিন্তু শ্রেণিকক্ষ সঙ্কটের কারণে কোন কোন ক্লাস ২০ মিনিট নিতে হয়। তাছাড়া সরকারিভাবে ভবন দুইটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। তারপরেও ঝুকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান করা হচ্ছে। ছাত্রীদের কমন রুম না থাকায় মাটির ঘরে গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।
এ বিষয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ইসমাইল মল্লিক বলেন, সুকাশের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান এটি। নতুন ভবন খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে। প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলককে বিষয়টি বলা হয়েছে, তিনি আমাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আশা করি দ্রুত আমরা তাঁর প্রতিফলন দেখতে পাবো।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ