একত্রিত হয়ে কাজ করার আহ্বান লিটনের || মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করলেন অধ্যক্ষ বাদশা

আপডেট: ডিসেম্বর ১২, ২০১৬, ১২:০৬ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক



আসন্ন জেলা পরিষদ নির্বাচনে একত্রিত হয়ে কাজ করার আহবান জানালেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। গতকাল রোববার দুপুরে নগরীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আয়োজিত মতবিনিময়ে সংগঠনের নেতাকর্মীদের এ আহবান জানান তিনি।
লিটন বলেন, আওয়ামী লীগ ঐক্যের প্রতীক। এ সংগঠন দীর্ঘদিন গণতন্ত্রের চর্চা করে আজ উপমহাদেশ তথা সারা বিশ্বে একটি ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। বঙ্গবন্ধু আমাদের শিখিয়েছেন কীভাবে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হয়। তার দেখানো পথেই আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে মহান স্বাধীনতা অর্জন করেছি।
উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে রাজশাহীর সাবেক মেয়র লিটন বলেন, আওয়ামী লীগ ঐক্যের চর্চা করে। আর এরই ধারাবাহিকতায় আসন্ন জেলা পরিষদ নির্বাচনে সকলের সম্মিলিত চেষ্টায় চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র উত্তোলনকারী মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান বাদশা তার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। দলের পক্ষ থেকে আমরা তাকে সাধুবাদ জানাই। এর আগে লিটনের বাসভবনে আওয়ামী লীগের মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী মাহবুব জামান ভুলু ও অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান বাদশা একে অপরের সঙ্গে এএইচএম খায়রুজ্জামানের লিটনের উপস্থিতিতে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
মতবিনিময়কালে উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য সাবেক রাকসু ভিপি নুরুল ইসলাম ঠা-ু, জেলা এবং মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ ও ডাবলু সরকারসহ বিভিন্ন উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা।
এদিকে রাজশাহী জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান বাদশাসহ দুইজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন গতকাল দুপুরে চেয়ারম্যান প্রার্থী অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান বাদশা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার সাধারণ আসন-৬ এর সদস্য প্রার্থী ওয়াদুদুল মোহাম্মদ তার মনোনয়ত্রপত্র প্রত্যাহার করেন। রাজশাহী জেলা পরিষদ নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও রাজপাড়া থানা নির্বাচন কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম প্রামানিক এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, নির্বাচনে এখন চেয়ারম্যান পদে দুই, সাধারণ সদস্য পদে ৩৭ ও সংরক্ষিত সদস্য পদে ১৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় সাধারণ সদস্য আসন-১ ও ১৫ এবং সংরক্ষিত আসন-১ এর প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন।
জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী হিসেবে পরিষদের সাবেক প্রশাসক মাহবুব জামান ভুলুকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। তবে তিনি ছাড়াও রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান বাদশা ও আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ আলী সরকার মনোনয়নপত্র তোলেন। বাদশা তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করলেও মোহাম্মদ আলী সরকার করেন নি।
আজ সোমবার প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ করা হবে। আর আগামী ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে ভোটগ্রহণ। এক হাজার ১৭১ জন ভোটার ১৫টি ভোট কেন্দ্রে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
এদিকে মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান বাদশা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করেন, আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অনুরোধে আসন্ন রাজশাহী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছি।
এ নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য নাগরিক সমাজের ব্যক্তিবর্গ এবং আমার শুভানুধ্যায়ী যারা আমাকে উৎসাহিত করেছেন এবং সমর্থন দিয়ে উজ্জ্বীবিত করেছেন তাদের প্রতি আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি।